ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

আমার ময়মনসিংহ কখনো সংবাদের শিরোনাম হয় না। না টিভি নিউজ, না অনলাইন নিউজ, না কাগজের নিউজ। হলো এবার। অনেকদিন পর। ময়মনসিংহে সিনেমা হলে বোমা হামলার পর সব মিডিয়াতে একই সাথে কখনো শিরোনাম হতে পারে নি। এবার হলো। খুব খুশী হবার ই কথা। তাই না? না… আমি খুশী হইনি। আমি কল্পনা ও করতে পারিনি আমার ময়মনসিংহ এবাবে শিরোনাম হবে।

রাব্বী’র ছবিটি দেখুন। মায়া লাগবে। আমার কেন জানি মনে হচ্ছে যে, ছেলেটিকে আমি চিনি। ১০ বছরের শিশুটির কি অপরাধ ছিল? কি দোষ ছিল ছেলে টির? আঃলীগ বা ছাত্রলীগের কি ক্ষতি করেছিল? ছাত্রলীগের কোন টেন্ডার ছিনিয়ে নেয়নি, ছিনিয়ে নেয়নি কোন নিয়োগ কোঠা, ছিনিয়ে নেয়নি কারোর প্রেমিকা (যা ঘটে অহরহ রাজনৈতিক দলের কোন্দলের পেছনে )। এই ছেলে তো রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিল না। তবে কেন হত্যা করা হলো? কেন সন্ত্রাসীদের ক্রস ফায়ারে এই ছেলের মৃত্যু হবে? এই ছেলেটি তো হতে পারতো আমাদের ই কেউ। আমরা কেন যার যার অবস্থান থেকে প্রতিবাদ করছি না? সবাই কে আহবান জানাই, নিজেদের স্ট্যাটাসে প্রতিবাদ জানান। আমার ময়মনসিংহে আমি এমন ঘটনা আর দেখতে চাই না।

তবে রাব্বী’র মৃত্যু আমাদের মেরুদন্ড সোজা করার একটা সুযোগ এনে দিয়েছে। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার মানুষ এর প্রতিবাদ করেছে। যেটা ইতিপূর্বে কোন বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঘটেনি। আমরা এখান থেকে শিক্ষা নিতে পারি। এবং আমরা রাজপথে প্রতিবাদ জানাতে পারি। আমরা আঃলীগের বিপক্ষে নই, সরকারের ও বিপক্ষে নই। তবে, আমরা মানবতার পক্ষে। মানবতার পরাজয় আমরা মেনে নিতে পারি না। আমরা অস্ত্রের মুখে চুপসে যেতে পারি না। আমরা রাজনৈতিক দলগুলোকে ভয় পেতে পারি না। কারণ, রাজনৈতিক দলগুলোতে আমাদের মতো মানুষরাই আছেন। তাদের কে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তাদের মাঝে সংস্কার আনতে হবে।

ছাত্রলীগ ওদের বহিস্কার করেছে। এতে আমরা সন্তুষ্ট নয়। ওদের কে আইনের আওতায় আনা উচিৎ। ওদের কে ফাঁসির দড়িতে ঝুলানো উচিৎ। ওদের গডফাদারদের খুঁজে বের করা উচিৎ। আসুন, আমরা এই দাবীতে সোচ্চার হই। ছাত্রলীগ কে আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কার স্বার্থে? এই ছাত্রলীগ কি বঙ্গবন্ধু;র ছাত্রলীগ? মোটে ও না। দিনের পর দিন এরা যা করে যাচ্ছে তা কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায় না। আমি নিজে ও একসময় ছাত্রলীগ করেছি। কই, আমরা তো এই পথে ছিলাম না? আমরা তো জানতাম না টেন্ডারবাজি, আমরা তো জানতাম না গুলাগুলি, আমরা তো জানতাম না চাঁদাবাজি। তবে কেন এখন এমন হচ্ছে? কেন সরকার বদলের সাথে সাথে ছাত্রলীগ এবং ছাত্রদল বেপরোয়া হয়ে উঠছে? আসলে ওদের মাঝে এখন আর কোন নীতি নেই। ওরা ছাত্ররাজনীতিকে পেশা হিসেবে নিয়েছে।

আহবান জানাই যে, ছাত্ররাজনীতির সংস্কার করুন, অথবা নিষিদ্ধ করুন। নইলে জনগণ আর এসব সহ্য করবে না। যেমন করেনি বিশ্ববিদ্যালয়ে এলাকার মানুষ। ময়মনসিংহ কিন্তু জেগে উঠছে। তাই আসুন, আবারো গর্জন করে বলে উঠি, জেগে উঠো ময়মনসিংহ