ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

“ভাল কিছু তো এই দেশ কে দিতে পারিনি আমি আমরা, সেই সুযোগ পাইনি আমরা, দিলাম না হয় আমাদের শ্রম, আমাদের মেধা আর আমাদের এই তুচ্ছ জীবন।” — জেগে উঠো ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহ বিভাগ চাই আন্দোলন চলছে গত ২২ বছর যাবৎ। শীর্ষ দুই নেত্রী অনেকবার কমিটমেন্ট করেছেন ময়মনসিংহ বিভাগ ঘোষণা করা হবে বলে। কিন্তু কই? কিছুই হয় নি। আর এই প্রেক্ষাপটে আমরা গড়ে তুলেছি আমাদের ফেসবুকভিত্তিক সংগঠন “জেগে উঠো ময়মনসিংহ”

ময়মনসিংহ বিভাগ চাই নামক দায়মুক্তির আন্দোলন আবারো শুরু হয়েছিল আমার ময়মনসিংহে শেখ হাসিনার ৩রা জানুয়ারীতে আগমন উপলক্ষ্যে । বিভাগ চাই আন্দোলন টা এখন দায়মুক্তির আন্দোলনে রূপান্তরিত হয়েছে। আন্দোলন টা এখন মৌসুমী আন্দোলন এবং দায়মুক্তির আন্দোলন। সুশীল সমাজ এই আন্দোলন চালাচ্ছেন। নেই কোন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা। এই আন্দোলন কে সফল করতে হলে এতে রাজনৈতিক রং চড়াতে হবে। মধুর আন্দোলনের মাঝে থেকে এই ধরণের আন্দোলন কে সফল করে তোলা সম্ভব না। কঠোর হতে হবে, কঠোরতর হতে হবে এবং সর্বশেষে হতে হবে কঠোরতম। না, আমি বলছিনা যে জ্বালাও-পোড়াও শুরু করতে। জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলনে আমি বিশ্বাসী না, তাই বলে এমন মধুর, মৌসুমী এবং দায়মুক্তির আন্দোলনে ও আমরা বিশ্বাসী নই। আমাদের নেই কোন সাহসি যোদ্ধা, যিনি রাজনীতির সাথে জড়িত আছেন এবং প্রভাবশালী বলে পরিচিত। নেই কোন নেগোসিয়েশন, যার দ্বারা আমরা পেতে পারি দীর্ঘদিনের কাঙ্খিত ময়মনসিংহ বিভাগ।

কেন আজ আমি এতো হতাশ? সবচেয়ে বড় কারন হলো যে, আমাদের সুশীলেরা এই আন্দোলন কে কখনোই সফল পথের দিকে নিয়ে যেতে সক্ষম হবেন না। তাদের মনে যে এতো কীসের ভয়? আর কেনই বা ওনারা বৃহত্তর ময়মনসিংহের জনপ্রতিনিধিদের একসাথে করতে পারছেন না? কেনই বা তরুণসমাজ কে সম্পৃক্ত করতে পারছেন না। কেনই বা পারছেন না আমাদের সবাই কে এই আন্দোলনে জড়িত করতে? কেনই বা পারছেন না নিয়মিত কর্মসূচী ঘোষণা করে নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে পৌছুতে? কেনই বা পারছেন না তারা রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বে যারা আছেন, তাদের কে এক প্লাটফরমে আনতে? কেনই বা পারছেন না তারা মানুষ কে বুঝাতে যে, কেন আমাদের বিভাগ প্রয়োজন? কেনই বা পারছেন না মানুষের মাঝে এই বিষয় সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে সকল কে রাজপথে আনতে? কেন?

আমি এই সকল প্রশ্নের একটি সহজ উত্তর জানি। নাগরিক আন্দোলনের সাথে বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের পারষ্পরিক সম্পর্কের অনেক ঘাটতি আছেন, নয়তো তারা শুধু সুশীলের ভূমিকাতেই থাকতে চাচ্ছেন। নয়তো তারা আমাদের রাজনৈতিক নেতা যারা আছেন তাদের সাথে এক কাঁতারে আসতে চাচ্ছেন না, নয়তো আমাদের রাজনৈতিক নেতারা বিভাগ আন্দোলনের সাথে জড়িত যারা আছেন, তাদের কে পছন্দ করছেন না।

আমরা জানি যে, আমাদের শহরে অনেক জনপ্রিয় নেতা আছেন, যাদের অঙ্গুলী হেলনে এই শহর মূরুর্তের মাঝে অচল হতে পারে। আমরা ভুলিনি মরহুম মঞ্জু সাহেব যখন নমিনেশন পেলেন, তখন দুলু সাহেবের সমর্থকেরা, বিশেষ করে লিটন ভাই কেমন দুর্বার আন্দোলন করে নমিনেশনের ঘোষণা উল্টিয়ে দিয়েছেন। আবার আমাদের শ্রদ্ধেয় মতিউর রহমান স্যার যখন এবার নমিনেশন পেলেন না, তখন ও শেখ হাসিনা এবং মহাজোট কে প্রবল চাপে রেখে ময়মনসিংহ আঃলীগ ওনার পক্ষে নমিনেশন আদায় করে নেন। আমরা ভুলিনি স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে কতো আত্মত্যাগের মাধ্যমে স্বৈরাচারের উপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছিল। এমন অনেক ঘটনা আছে এই শহরের যা থেকে বিভাগ চাই আন্দোলনের নেতারা অনুপ্রেরণা নিতে পারেন। তারা ও তো ছিলেন ৭১ এ, ৯০ এ। অনেকেই যাছেন যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন করেছেন, কিন্তু তারা এখন কেন এতো মধুর আন্দোলনে আছেন? কেন তারা লাগাতার অবরোধের ঘোষণা দিচ্ছেন না? কেন দিচ্ছেন না হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচী? কেনই বা তারা মানুষের সম্পৃক্ততা বাঁড়াতে পারছেন না? এমন অসংখ্য প্রশ্ন আমার মনে।

এখনো সময় আছে, প্রতি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যদের সাথে নিবিড় যোগাযোগ করুন, তাদের কে এক কাঁতারে আনুন আপনাদের সাথে, প্রতি ইউনিয়ন, ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠন করুন, তরুণ সম্প্রদায় কে এই আন্দোলনে সম্পৃক্ত করুন, আর মধুর রাস্তা বাদ দিয়ে একটু কঠোর হোন। মানুষের সমর্থন পাবেন। আর যদি, আপনারা মনে করেন যে, আপনারা পারবেন না, তবে আপনারা আমাদের পেছনে থাকুন, আমরা এই দাবী আদায়ে নিজেদের কে উৎসর্গ করবো। কারণ, ভাল কিছু তো এই দেশ কে দিতে পারিনি, সেই সুযোগ পাইনি আমরা, দিলাম না হয় আমাদের শ্রম, আমাদের মেধা আর আমাদের এই তুচ্ছ জীবন।

মোঃ আখতারুজ্জামান পায়েল (জামান পায়েল)
তথ্য-প্রযুক্তি কর্মী
ময়মনসিংহ

ট্যাগঃ:

মন্তব্য ৩ পঠিত