ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমাকে শাস্তি দিন। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী আমাকে বিচারের মুখোমুখি করুন। আপনার দল তো ইতোমধ্যে বলে দিয়েছে যে আপনারা বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডের দায়িত্ব নিবেন না। তা আপনারা শেয়ার-বাজার কেলেংকারি, হল-মার্ক কেলেংকারি, ডেসটিনি, পদ্মা সেতু দুর্নীতি, পোশাক শিল্পের অস্থিরতা, আমিনবাজারের ছাত্র হত্যা, রেলের দুর্নীতি- এর কোনটারই দায়ভার নেননি। আপনারা যেহুতু বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডের দায়ভার নিবেন না, তাই আমি আপনাদের উপায় বাতলে দিচ্ছি। আপনারা বরং আমাকে বিশ্বজিতের মর্মান্তিক মৃত্যুর জন্য আমাকে দায়ী করুন। আমি নিজেও এই দায় নিতে চাই। কারন আমিও একজন বিশ্বজিৎ। এই দেশের রাজনীতি না করা প্রত্যেকটি মানুষই এক একজন বিশ্বজিৎ। একদিন আপনারা আমাকেও হয়ত নতুন একজন বিশ্বজিৎ বানিয়ে ফেলবেন। TSC’র মোড়ে হয়ত আমার লাশ পড়ে থাকবে। আমি চাইনা ঐরকম একটা অবস্থায় আপনারা আমাকে নিয়ে বিব্রত হন। আমার লাশের দায়ভার আপনাদের কারও নিতে হবেনা। আমার পরিবারই তার দায়ভার বহন করবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনারা চাইলে বিশ্বজিতের পবিবারকে বিশ্বজিতের মৃত্যুর জন্য দায়ী করতে পারেন। কারন পরিবারে সচ্ছলতা আনতেই তো পড়ালেখায় ইস্তফা দিয়ে বিশ্বজিতকে জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় আসতে হয়েছিল। সুতরাং আপনারা আমাকে শাস্তি দিতে না চাইলে বিশ্বজিতের বাবা-মাকে গ্রেফতার করে শাস্তি দিতে পারেন। অথবা বিশ্বজিতকেও মরণোত্তর শাস্তি দিতে পাড়েন। ও যদি তখন ওখানে না থাকতো তাহলে তো আজ বেঘোরে প্রান দিতে হতো না। অথবা বিশ্বজিৎ যদি অন্তত ছাত্রলীগ করত, তাহলেও বেচারা প্রাণে বেঁচে যেত। বিশ্বজিৎ বড়ো বোকা ছিল- ও ছাত্রলীগ করেনি। বোকাদের বেঁচে থাকারও কোন দরকার নেই, কি বলেন আপনি? আপনার দলের এক নেতা বলেছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রয়োজনে আপনারা খালেদা জিয়াকেও গ্রেফতার করবেন। হাহ, তবুও যদি একবার বিশ্বজিতের খুনিদের গ্রেফতার করার কথা অন্তত একবার বলত!! মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এই রকম একটা হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও আপনারা খুনিদের সহজে খুজে পান না,পেলেও পোস্টমর্টেমে ডাক্তার কোপানোর চিহ্ন খুঁজে পায়না। বাংলাদেশে একজনের অপরাধে অন্য আরেকজনকে শাস্তি দেয়ার বহু নজির আছে। নাহয় এবার আমি স্বেচ্ছায় আপনার ছাত্রলীগের হয়ে শাস্তি ভোগ করলাম। তবু বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডের বিচার করে জাতিকে কলঙ্ক মুক্ত করেন। বিশ্বজিতের আত্মাকে একটু শান্তি দিন। বিশ্বজিৎ নেই- আজ কতদিন হল আমি জানিনা, আপনিও জানেননা। কিন্তু একবার বিশ্বজিতের মা’কে জিজ্ঞেস করে দেখুন, উনি আমাদের নির্লজ্জ মুখের দিকে একবারও না তাকিয়ে বলে দিতে পারবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,আমার এই লেখা হয়ত কোনদিনও গণভবনের মোটা দেয়াল অতিক্রম করে আপনার কাছ অব্দি পৌছবে না। কিন্তু এমন অনেকের কাছে পৌছবে যাদের গাঁয়ে কোন রাজনৈতিক দলের পোশাক নেই, যারা বিশ্বজিতের জন্য অন্তত একটা দীর্ঘশ্বাস হলেও ফেলেছে, যারা আগামী নির্বাচনে ভোট দেবার সময় ব্যালট পেপারে সিল মারতে গিয়ে বিশ্বজিতের আর্তনাদ শুনতে পাবে ।