ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

গ্রেফতার ছাত্ররা

প্রত্যেক সমাজের একটি নিজস্ব বৈশিষ্ঠ থাকে , আমাদের সমাজে যা অপরাধ অন্য সমাজে তা সৌজন্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য যেমন : মদ্যপান এখানে অপরাধ আবার অন্য সমাজে তা সৌজন্য । একটি সমাজ যখন তার ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে অর্থাৎ স্বাভাবিক অবস্হার আপত্তিজনক পরিবর্তন ঘটে তখন তাকে সামাজিক অবক্ষয় বলে থাকি । অবক্ষয় এমনি এমনি ঘটেনা তার জন্য কিছু কারণ থাকে , কিছু উপকরণ থাকে যে সব এর প্রভাবে সমাজের অবক্ষয় ঘটে থাকে । সামাজিক অবক্ষয় প্রত্যয়টি বিগত কয়েক বছরে আমাদের সমাজে সবচেয়ে বেশী আলোচিত হচ্ছে কারণ বিগত কয়েক বছরে আমাদের সমাজে বিশ্বায়নের প্রভাব সবচেয়ে বেশী দেখা যাচ্ছে ।আমি বলতে চাই যে সামাজিক অবক্ষয়ের অন্যতম কারণ হচ্ছে বিশ্বায়ণ । বিশ্বায়নের ফলে মানব সমাজে বহুল উন্নতি হয়েছে , মানব জীবন হয়েছে অনেক সহজ , মানুষ আজ সারা বিশ্বকে ভাবতে শুরু করেছে একটি গ্রাম যা মানব সমাজের জন্য বিশাল এক অর্জন । বিশ্বায়নের ফলে উন্নত বিশ্বের দেশগুলো যত উন্নতি সাধন করেছে তার সামান্য সুযোগ সুবিধাই আমরা পাইনি । বিশ্বায়নের ফলে আমাদের সমাজ হয়ে উঠেছে অস্হির শিষ্টাচার বিহীন । অনেকে আমার কথা মানতে চাইবেন না , কিন্তু বিশ্বায়নের ফলে আমরা যা পেয়েছি তা বিশ্বায়নের ছিটে ফোটা মাত্র আর সবচেয়ে বেশী পেয়েছি অস্থিরতা । আমরা আজ বন্দী হয়েছি ডিশ এর কবলে , বন্দী হয়েছি নব্য সাম্রাজ্যবাদে , ভালো কে ত্যাগ করে গ্রহণ করেছি খারাপ সংস্কৃতিকে , ভূলে গেছি নিজেদের শিকড়কে । আমাদের এমন বদ অভ্যাস হয়ে গেছে যে আমাদের হিন্দী সিরিয়াল না দেখলে পেটের ভাত হজম হয়না । অথচ ঐ সব সিরিয়াল থেকে আমরা কি শিখছি , সংসারের ভাঙন , পরকীয়া কাহিনী , পর সংস্কৃতি , আর সামাজিক অস্থিরতা । যার ফলে সমাজে বেড়েছে সামাজিক অবক্ষয় , সমাজে কমেছে শিষ্টাচার বোধ , কমেছে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ , ভালোবাসা ।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম শহরের নামকরা সরকারি নাসিরাবাদ বালক স্কুলের ৪ জন ছাত্রকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে তাদের সমবয়সী এক ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগে, আর তারা সবাই হচ্ছে দশম শ্রেণীর ছাত্র । কি তারা সবাই দশম শ্রেণীর ছাত্র ??? এভাবে আতকে উঠেছিলাম আমি এবং সমাজের সকল মানুষ । কারণ আমাদের সমাজে যে এভাবে পচন ধরেছে তা আমাদের জানা ছিলো না ।
কিছুদিন আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সিড়ির নীচে এক শিশুর লাশ পাওয়া গিয়েছিলো, সে শিকার হয়েছিলো তার মায়ের পরকীয়ার স্বীকার , পর পুরুষের সাথে পালানোর জন্য তার মা ঐ ছেলের সাথে হাত মিলিয়ে হত্যা করেছিলো নিজের সন্তানকে । ঐ ঘটনা জানার পর আমাদের সমাজ বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলো । সমাজের সবখানে একটাই প্রশ্ন ছিলো , মা কি করে নিজের সন্তান কে হত্যা করতে পারে ? হ্যাঁ পারে সামাজিক অবক্ষয় চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে ।

গত সপ্তাহে সামান্য ক’টি মোবাইল ফোনের জন্য এক নরপিচাশ মা মেয়েদের জবাই করে দিয়েছে , যা ঘটেছে চট্টগ্রামের বিবির হাট এলাকায় । এর কারণ কি , কেন এরম হচ্ছে সমাজে ?
গতকাল জানতে পারলাম , চট্টগ্রামের ওমেন ইউনিভারসিটির পাশে এক ফ্ল্যাটে সিদ্দীকি ও অনন্যা দম্পতি কাজের মেয়েকে হত্যা করে পালিয়েছে । কি অপরাধ ছিলো মেয়েটির ? হয়তো ঐ মহিলার পরকীয়া দেখেছিলো , অথবা হয়তো ঐ মেয়েটি কাজের ফাঁকে একটি গ্লাস ভেঙ্গেছিল অথবা কাজর ফাঁকে ঘুমিয়ে গিয়েছিলো এটাই কি তার অপরাধ ? নাকি দু’বেলা দু’মুটো ভাতের জন্য অন্যের বাড়িতে কাজ নেওয়াই তাঁর অপরাধ ? হায় খোদা তুমি কি গরীবের কথাও শোন না ? এর চেয়ে কি বেশী অপরাধ থাকতে পারে ঐটুকু এক ১২ বছরের মেয়ের ?

মানুষ কতটুকু নরপিশাচ হলে এ রকম ঘটনা ঘটাতে পারে ? আমাদের সমাজে কি পরিমাণ ঘুণে ধরেছে তা কি আমরা আন্দাজ করতে পারছি ? এইরকম ঘটনা আমাদের সমাজে এখন অভাব নেই , প্রতিদিন ঘটেছে অহরহ । তারপরও আমাদের টনক নড়ছে না । শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষার অভাব, পারিবারিক কলহ , সামাজিক অস্থিরতার এর অন্যতম কারণ । নিজেদের ঐতিহ্য কে ভূলে যাওয়াই হচ্ছে এর কারণ । এই সমাজকে রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের ।এভাবে চলতে থাকলে আমাদের সমাজের ভবিষ্যত কি ?