ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 

ইসরাইয়েলি হামলায় আহত এক নিস্পাপ শিশু

মানবাধিকার,প্রত্যয়টি ব্যাপক এবং বিশাল আঙ্গিকে সবসময় ব্যবহার করা হয় । যুগে যুগে মানুষ মানুষের অধিকার সম্বন্ধে সচেতন হয়েছে , মানুষ তাঁদের নিজেদের অধিকার রক্ষার জন্য তৈরী করেছে অনেক আইন। সেই রকম একটি আইন ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সারা বিশ্বের মানুষের জন্য ঘোষণা করেছিলো মানবাধিকার সনদ , যেখানে যেখানে পৃথিবীর সকল মানুষ জাতি পেয়েছে সমান অধিকার , যেই সনদে নেই কোন ভেদাভেদ । যেখানেই মানবাধিকার লংঘিত হবে সেখানেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে নিপীড়িতদের মানবাধিকার রক্ষায় । সেই মানবাধিকার কে আরো শক্তিশালী রূপদান করা হয়েছে জেনেভা কনভেনশন এর মাধ্যমে । জাতিসংঘের সকল সদস্য দেশ এইসব আইন মেনে চলতে বাধ্য । কিন্তু আজ বাস্তবতা অনেক ভিন্ন , বাস্তবতার কাছ থেকে অনেক দূরে সরে এসেছি আমরা ।আজ মানবাধিকার আইনকে ব্যবহার করা হচ্ছে স্বার্থ আদায়ের অস্ত্র হিসেবে । মানবাধিকার আইন পরিণত হয়েছে ধনী দেশগুলোর নিপীড়নের হাতিয়ার । পৃথিবীর অনেক জায়গায় প্রতিদিন হাজারো মানবাধিকার লঙ্ঘন হলেও জাতিসংঘ থেকে শুরু করে ইউএসএ সহ তাদের সকল তাবেদার রাষ্ট্র সহ সকল সংগঠন থাকে চুপচাপ । আর যদি দেখে তাদের স্বার্থ লঙ্ঘিত হচ্ছে তারা সবাই শিয়ালের মতো এক সাথে রাঁ তোলে ।

আমরা দেখি যখন পৃথিবীর কোন দেশে আমেরিকার কোন সৈন্যের উপর হামলা হয় সেটি হয় মানবাধিকার লংঘন আর যখন ইসরাইল ফিলিস্তিনের ওপর বিনা কারণে হামলা চালিয়ে হাজার হাজার নিরীহ লোককে হত্যা করে তখন তা হয়ে যায় অধিকার আদায়ের সংগ্রাম । যখন হামাস তাদর নিজেদের আইনি ভাবে প্রাপ্ত মাতৃভূমি রক্ষার জন্য আন্দোলন করে তা হয়ে যায় মানবাধিকার লংঘন । ইউএস এ যে সারা বিশ্বের অনেক দেশে অবৈধ ভাবে তাদের সৈন্য দিয়ে রেখেছে সেইটা কোন আইনের বলে ? তারা যখন বিনা কারণে ইরাক , লিবিয়া , আফগানিস্তানে হামলা চালায় তখন তা হয় মানবাধিকার রক্ষার লড়াই । রাশিয়ার বিরূদ্ধে লড়াই করার জন্য যখন তারা লাদেন কে সৃষ্টি করেছিলো , তাকে সামগ্রিক সহায়তা দিতো , তখন লাদেনের আন্দোলন ছিলো মানবাধিকার রক্ষার আন্দোলন আর যখন সে আফগানিস্তানে স্বাধীন ভাবে বাচঁতে চাইল তখন রস হয়ে গেলো সন্ত্রাসী । আশ্রয় দানকারী একটি জাতি যখন আশ্রয় দানকারীর দেশ দখলে ব্যস্ত , যুদ্ধে লিপ্ত তখন তা হয়ে গেলো তাদের অধিকার । সারা বিশ্ব থেকে যখন ইহুদি দের বিতাড়ণ করা হচ্ছিল তখন ফিলিস্তিনের মানুষ তাারদের দয়া করে আশ্রয় দিয়ে যে এতো বড়ো অপরাধ করেছে তা তারা এখন টের পাচ্ছে । আমি নৈতিক ভাবে হিটলার কে সাধুবাদ জানাই কারণ সে ৬০ হাজার ইহুদী নিধন সহ তাদের বিতাড়নের মহা পূণ্য করেছেন ।

বিগত কয়েকদিন ধরে বিনা নোটিশে বিনা কারণে ফিলিস্তিনে হামলা চালিয়ে হাজার হাজার নিরীহ মুসলিম হত্যা করছে । আর শান্তিতে নোবেল বিজয়ী বারাক ওবামা ইসরায়েল এর প্রধান মন্ত্রীকে ফোন করে তার জন্য সাধুবাদ জানাচ্ছে আর বলছে এটা নাকি ইসরায়েলি দের অধিকার । আর সেই ঘোষণা দিয়ে তিনি যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে চলে আসলেন এশিয়াতে শান্তি প্রচারের জন্য । তিনি তার এই কথার মাধ্যমে বিগত বছরে কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া ভাষণকে মিথ্যা প্রমাণিত করলেন । আর ইসরাইল এর মাধ্যমে সরাসরি ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি সহ , ভূমির বিনিময়ে শান্তি চুক্তি সহ সকল চুক্তি ভঙ্গ করলেও তাদের কেউ কিছু বলছে না । আর পৃথিবীর কোন মানবাধিকার সংস্থা এখনো তার কোন বিরোধীতা করেনি এমনকি জাতিসংঘও নয় । তাহলে সেখানে কি মানবাধিকার লংঘন হচ্ছেনা ? নাকি তাদের মানবাধিকর নির্বাসনে গিয়েছে !!!এভাবে নিরীহ লোক হত্যা করা কোন আইন এ বলা আছে ? তাহলে সবাই চুপ কেন ? আর আমাদের পাশের দেশ এর কথা না হয় নাই বললাম , সেখানে তো সরাসরি রাষ্ট্রের মদদে গণহারে মুসলমান হত্যা করা হচ্ছে , সেখানেও মানবাধিকারের বিষয়ে সবাই চুপ চাপ কেন ? নাকি মুসলমানদের মানবাধিকার নির্বাসনে গিয়েছে !!!

পাশের দেশে এত হানাহানির পরও কেন আমাদের দেশের নোবেল বিজয়ী ড: ইউনুস কোন কথা বলেন নি । কেন? তার কোন সদ উত্তর কি তিনি দিতে পারবেন ? নাকি তিনি তার বিদেশী প্রভুদের মণ রক্ষায় ব্যাস্ত , নাকি তিনি গ্রামীন ব্যাংক নিয়ে মহা ব্যাস্ত ? তাহলে তাদের কেন শান্তিতে নোবেল দেওযা হচ্ছে ? যদি শান্তি রক্ষায় তারা কোন কথাই বলতে না পারেন । নাকি সেই পুরস্কার ও ওই প্রভুদের তাবেদারদের দেওয়া হচ্ছে? আজ এই রকম ঘটনা যদি বাংলাদেশে ঘটত না জানি মানবাধিকার সংঘটন গুলো কতইনা ব্যাস্ত সময় কাটাত আর আমাদের ইউনুস সাহেব ও কত ব্যতিত হতেন ? আমরা তো এর চেয়েও তুচ্ছ ঘটনাতে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সেকি ব্যস্ততা আমরা দেখেছি , যেন মানবাধিকার শুধু আমাদের দেশেই লংঘন হচ্ছে । আজ ফিলিস্তিনে হাজার হাজার মানুষকে যে হত্যা করা হচ্ছে তা আর কেউ না দেখুক জাতিসংঘের ও কি দেখা নিষেধ । ফিলিস্তিনে এই গণ হত্যা বন্ধ হোক । কার কাছে এই হত্যা বন্ধের আকুতি করব ? আল্লাহর কাছেই করি কারণ তাদের মাথার উপরে আকাশ আর আল্লাহ ছাড়া এই ৭০০ কোটি মানুষের মধ্যে আর কেউ তাদের নয় । আল্লাহ তুমি ফিলিস্তিনীবাসীদের এবং মায়ানমারের মুসলিমদের রক্ষা কর ।