ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

rapid carbon emitting

পরিবেশ নিয়ে বর্তমান বিশ্বের প্রায় সব দেশের নেতা ও জনগন বেশ চিন্তিত ও সচেতন । এ সচেতনতার আরম্ভ ১৯৯২ সালের রিও সম্মেলন থেকে শুরু এর পর থেকে সারা বিশ্বে গড়ে উঠেছে অনেক পরিবেশ বাদী সংগঠন ও জোট ।অবশ্যই গ্রীণ পিস আরো আগের সংগঠন । এর পর এক এক করে হয়ে গেলো অনেক সম্মেলন , হয়ে গেলো টেকসই সম্মেলন। ১৯৯৭ সালে পরিবেশ রক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছিলো সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ টি । জাপানের কিয়োটা চুক্তি সেই পদক্ষেপ যা সে সময় থেকে এখন অব্দি স্বাক্ষর করেছে ১৭৪ টি দেশ আর তা কার্যকর করার জন্য দরকার ছিলো ১৪৪ টি দেশের অনুমোদনের কিন্তু আজো তা হয়ে উঠেনি । অথচ এর মেয়াদ আছে আর মাত্র কয়েক মাস । যাদের কারণে আজ আমাদের পরিবেশ নিয়ে এত উৎকণ্ঠা এত টেনশন তারাই মূলত বাস্তবায়ন করতে দিচ্ছেনা এই কার্বন কমানোর চুক্তি । ভারত , চীন এতে স্বাক্ষর করেনি আর যুক্তরাষ্ট্র করেও তা ২০০৫ সালে প্রত্যাহার করে নেয়। এই সব কথা আমাদের সকলের কম বেশী জানা । আর এর মাধ্যমে আমরা একটি বিষয় পরিষ্কার আজ যে সব ধনী দেশ এর কারণে আমাদের কোটি কোটি লোক বাস্তুহারা হওয়ার পথে, আমরা ঝুঁকির তালিকায় এক নম্বরে, সেই দেশ গুলোর কোন মাথা ব্যাথা নেই আমাদেরকে নিয়ে। ২৬ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে কোপ- ১৮ জলবায়ু সম্মেলন, কাতারের দোহায়। আর প্রত্যেকটি সম্মেলনে বাংলাদেশ থাকে প্রায় নেতৃত্ব স্হানে । কিন্তু এ থেকে আমাদের প্রাপ্তি কতটুকু ? গত বছর ডারবানে cop – 17 হয়েছিলো আর এ থেকে আমরার কি পেলাম তার একটা হিসাব দেখে নিই —— ধনী দেশ গুলো কোন অবস্থাতেই কোন সমঝোতায় আসতে পারেনি , কারণ তারা কোন ছাড় দিতে রাজী নয় , শেষ মেষ সম্মেলনের মেয়াদ এক দিন বাড়িয়ে আরো আলোচনার পর তারা কিছু সমঝোতায় আসে। সেগুলো হলো –১।২০১৫ সালের মধ্যে নতুন চুক্তি, এই চুক্তি নিয়ে ২০১৩ সালের মধ্যে আলোচনা শুরু হবে, অনুমোদিত হবে ২০১৫ সালের মেষ নাগাদ ।

২। ২০২০ সালের মধ্যে চুক্তিটি বাস্তবায়ন করা হবে ।
৩। কিয়োটা প্রটোকলের মেয়াদ ৫ বছর বৃদ্বি
৪। ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য ২০২০ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলারের gcf fund গঠন ।
এবারই প্রথম চীন, ভারত, ব্রাজিল সহ বিশ্বের বড় co2 নি:সরণ কারী দেশহগুলোকে একত্রিত করা সম্ভব হয়েছে ।

প্রাপ্তি – ১০০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে মাত্র ৩ মিলিয়ন ডলার জমা পড়েছে । আর বাকী গুলোর কোন খবর নেই । এ থেকেই বুঝা যায় এ ব্যাপারে ধনী দেশগুলো আন্তরিকতা।
এবারের সম্মেলনে ২০০টি দেশের প্রায় ৭০০০ প্রতিনিধি ও সাংবাদিক অংশগ্রহন করেছে । এখন কথা হচ্ছে এ থেকে আমরা কি পাবো ? আর আমাদের করণীয় কি হতে পারে? ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলোকে একত্রিত হয়ে জোটবদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে, ধনী দেশগুলোকে একত্রিত হয়ে চাপ দিতে হবে । এ জন্য আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কে আরো বেশী অগ্রণী ভুমিকা পালন করতে হবে। আমাদের দেশের জলবায়ু জনিত ক্ষয়ক্ষতি বিষয়ে ধনী দেশ গুলোকে ভালো ভাবে অবহিত করতে হবে এবং কূটনৈতিক তৎপরতা আরো বাড়াতে হবে ।ধনী দেশগুলোর উপর বিভিন্ন সংস্কার মাধ্যমে চাপ বাড়াতে হবে ।এ ছাড় আমাদের কে একক ভাবে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সাথে বৈঠকে মিলিত হতে হবে । আমাদের কার্বন ডিপ্লোমেসি নিয়ে ধনী দেশগুলোকে আরো অবগত করতে হবে । আমাদের সুন্দর বনের যে carbon শোষণের যে ক্ষমতা রয়েছে এবং যে অপার সম্ভাবনা রয়েছে তা তাঁদের জানাতে হবে । এবং আমরা টাকার বিনিময়ে সুন্দর বনের মাধ্যমে তাঁদের গ্যাস শোষণে যে আগ্রহী তা শক্তি শালী কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে জানাতে হবে । এবং একাজে আমাদের এই সম্ভাবনা কে ব্যবহার করতে হবে । আমাদের প্রত্যাশা বলে কিছুই থাকেনা যখন আমরা বিগত সম্মেলন এর চিত্র দেখি । তাঁর পারও আমরা এক বুক আমায় বুক বাঁধি । আমরা চাই সব দেশ কিয়োটা প্রক্টোরদের মেয়াদ বাড়াতে রাজী হবে এবং তার অনুমোদন দিবে। এবং কার্বন নি:সরণ কমাতে একমত হবে । ফান্ড গঠনে ধনী দেশগুলো এরা উদ্যোগী হবে । এবং এ ফান্ড ছাড়ের বিষয়ে একমত হবে । নতুন পৃথিবী গড়ার লক্ষে সবাই নতুন একটি চুক্তি নই ও বাস্তবায়নে একমত হবে । জলবায়ু উদ্বাস্তুদের আশ্রয়ের জন্য একটি নীতি মালা করা হবে। এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ধনী দেশ গুলো যাবতীয় কৃষি বিষয়ক সহায়তা দিতে রাজী হবে । এ সম্মেলন নিয়ে আমাদের প্রত্যাশা অনেক ,কিন্তু আমরা কতটুকু পাব তা নির্ভর করছে ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলোর প্রচেষ্টার উপর । তাই এ ব্যাপারে আমাদের সরকার কে সচেষ্ট থাকতে হবে ।