ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

‘স্বাধীনতা’—সে এখন শিশুটি নেই , সে এখন জোয়ান , স্বাধীনতা যেন মানুষ , দিনে দিনে তাঁর বয়স বাড়তাছে !!! আসলেই আমাদের স্বাধীনতার ৪১ বছর পূর্ণ হতে চলেছে , আর এই সময়ে মনে হচ্ছে আমাদের স্বাধীনতা এক তেজোদ্দীপ্ত যুবক । কিন্তু আমাদের এই সময়ে কি পাওয়া দরকার , কি পাওয়ার ছিলো , কি পেয়েছি ?৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে দেশ পেয়েছি , সেই সব শহীদের জীবন দান কে কি আমরা সার্থক করে তুলতে পেরেছি? সেই গৌরব উজ্জল ইতিহাস আজ আমরা আমাদের প্রজন্ম কি ভাবে জানছে ? কি জানছে নতুন প্রজন্ম ? যে স্বাধীনতা কে নিয়ে আমাদের আজ এতো অহংকার সেই স্বাধীনতার ইতিহাস আজ বিকৃত। আজ আমরা সেই সঠিক ইতিহাস জানতে পারছিনা , আমাদের জানতে দেওয়া হচ্ছে না । একেক বইয়ে একেক রকম ইতিহাস , বিভিন্ন জন বিভিন্ন ভাবে ইতিহাস লিখছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন দেশের স্বাধীনতায় বঙ্গবন্ধুর কোন ভূমিকাই নেই , আবার সেই কথা ফলাও করে প্রচার করা হচ্ছে । কোন কোন নব্য ইতিহাসবিদ আমাদের স্বাধীনতার মহা নায়কদের মহা ভিলেনে পরিণত করছেন ।এটি কি শুধু রাজনৈতিক কারণে করা হচ্ছে , নাকি এর মাধ্যমে আমরা আমাদের বিকৃত মানসিকতার পরিচয়ের জানান দিচ্ছি ।

তবে এই সময়ে সেই অবস্থা থেকে কিছূটা হলেও মুক্তি পাচ্ছে জাতি । সরকারকে অসংখ্য ধন্যবাদ যে অনেক দেরিতে হলেও সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ করা হচ্ছে আর আমাদের স্বাধীনতায় অবদানের জন্য বিদেশীদের অবদানের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে আর সেই সব অকৃত্রিম বন্ধুদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে । যার মাধ্যমে আমরা নতুন প্রজন্ম কিছুটা হলেও ইতিহাসের গভীরে যেতে পারছি ।এবার বলতে চাই আমাদের সেই সব বীর সেনানীদের কথা যারা নিজের জীবন বাজী রেখে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন । যারা শহীদ হয়েছেন তাঁদের তো বছরে ২-৩ বার ফুল দিয়ে আমরা ঋণ শোধ করছি !!! আর তাদের পরিবারের খবর কে রাখে ? ? ? আর যারা গাজী হয়ে ফিরেছেন তাদের কি অবস্থা ? আজ ৪০ বছর পরও তাদের কি আমরা যথাযত সম্মান দিতে পেরেছি ? পত্র পত্রিকা খুললেই দেখা যায় , অনেক মুক্তিযোদ্ধা কি ভাবে দিনযাপন করছেন , অনেকে রিকসা চালান , তরকারি বিক্রি করেন , কোনরকমে আধপেটা খেয়ে জীবন যাপন করছেন । আমার কাছে এরকম অনেকের তথ্য রয়েছে , কিন্তু কারো নাম বলে তাঁদের আর অপমান করতে চাইনা । আবার অনেক মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন যারা একটি সনদ এর জন্য বছরের পর বছর ঘুরা ঘুরি করছেন । আবার অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন যাদের নসদ পাওয়ার জন্য ঘুষ দিতে হচ্ছে । আবার অনেকে জানেন না তার নসদ আসলেই ঠিক আছে কিনা , কারণ এখানেও নাকি এক এক সরকারের সময় এক এক টা চলে , এখানেও রাজনীতি। আবার অনেকে উড়ে এসে জুড়ে বসে মুক্তিযোদ্ধা সেজে সনদ নিয়ে নানা সুযোগ সুবিধা নিচ্ছেন । এই জাতের মানুষেরা এছেন সব চেয়ে ভালো । কারণ তাদের আবার সব সরকারের সনদ আছে ।আর যারা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা তারা কি সনদের জন্য যুদ্ধ করেছিলেন? না, সে জন্য তারা এইটা নিয়ে তেমন তোড় জোড়ও করেন না ।কিন্তু ভূয়াদের এ নিয়ে মারাত্মক তোড়জোড় দেখা যায় – খালি কলসি বাজে বেশী । আমাদের দেশে এমনও ব্যাক্তি রয়েছেন যারা আজও সনদ নেননি ,তারা বলেন সনদের জন্য তো যুদ্ধ করিনি যুদ্ধ করেছি মা কে বাঁচানোর জন্য, মায়ের জন্য, মায়ের সেবর দাম কি সনদ দিয়ে যাচাই করা যায় ? আমরা এমনই জাতি , যারা নিজেদের সম্মান নিজেরা দিতে পারিনা , নিজেদের গর্ব কিসে তাও জানিনা ।

এবার বলতে চাই আমাদের দেশের সাধারণ জনগণ সেই স্বাধীনতার সুফল কতটুকু পাচ্ছে সেই কথায়। নাকি স্বাধীনতা এখনো বড় লোকদের শো কেইসের শো পিছ হয়ে রয়েছে ? “ ওরা আমার এই হাতটা মোচড়ে ভেঙ্গে দিয়েছে , ওরা বলছে আমি নাকি স্বাধীনতার ক্ষতি করছি , বিশ্বাস করেন স্যার স্বাধীনতারে আমি চিনিনা , কোথায় থাকেন তাও জানিনা আর কি করেন তাও জানিনা ” এটি একটি নাটকের সংলাপ , কিন্তু স্বাধীনতার সুফল সাধারণ মানুষ কতটুকু পেয়েছে তা ব্যাখ্যা করতে হলে আমি এমন ভাবেই ব্যাখ্যা করবো ।আর পাবেই বা কি করে , যে দেশে স্বাধীনতা বিরোধীরা এখনো গলা উচু করে কথা বলে, যে দেশে স্বাধীনতা বিরোধীরা গাড়িতে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে ঘুরে বেড়িয়েছে আর আজ তাঁদের বাঁচানোর জন্য আমরা উঠে পড়ে লেগেছি , যে দেশে তার স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস জানতে দেওয়া হয়না সেই দেশ থেকে এর চেয়ে বেশী কি আর আশা করা যায়?

পৃথিবীর আর কোন দেশে স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে এতো বেশী রাজনীতি দেখা যায়না , আর কোন দেশে দেখিনি তাদের মহা নায়কদের অস্বীকার করতে, তারা আর সব ব্যাপারে দ্বি-মত থাকলেও এই সব জাতীয় ব্যাপারে তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ । এমন কি আমাদের প্রতিবেশী দেশে তারা তাদের ইতিহাসকে এক বিন্দু বদল করেন নি , তারা সবাই মহাত্মা গান্ধী কে এক বাক্যে স্বীকার করেন, পাকিস্তানে জিন্নাহকে সবাই এক বাক্যে স্বীকার করে, ইউএসএ’তে তারা রূজভেল্ট কে সবাই এক বাক্যে স্বীকার করে , এভাবে ভিয়েত নামে হো চি মিন কে তুরস্কে কামালকে, তবে আমরা কেন পারি না? আমাদের স্বাধীনতার তুলনায় ভিয়েতনামের ইতিহাস তো একবারেই নবীন,তারা আমাদের তুলনায় একেবারে নতুন ,কিন্তু তাঁদের এগিয়ে যাওয়া আমাদের চেয়ে বহুগুণে ।তারা আসিয়ানের সদস্য হিসেবে বেশ চমৎকার ভুমিকা পালন করছে । দেশের প্রতিটা স্তরে তারা সমভাবে এগিয়ে যাচ্ছে , এমন কি তাদের সাথে তুলনা করলে আমরা অনেক দিকেই পিছিয়ে আছি । তাঁদের এই এগিয়ে যাওয়ার পেছনে একটাই কারণ “ জাতীয় ঐক্য ” যেইটা আমাদের মধ্যে নেই বললেই চলে । এই ঐক্যের অভাবেই আমরা এগিয়ে যেতে পারছিনা ,আমরা আজো বিদেশী দের তাবেদারি করি ।আর বিভিন্ন রাষ্ঠ্র সেই অনৈক্যের সুযোগে আমাদের উপর খবরদারী করছে ।এই বিজয়ের মাসে আসুন আরা সবাই শপথ নিই — আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাই , হানাহানির রাজনীতি পরিহার করি , ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া এই দেশকে সোনার বাংলায় পরিণত করি । আসুন মা, মাঠি ও মানুষকে ভালোবাসি । সবাইকে বিজয়ের সংগ্রামী শুভেচ্ছা ।