ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

 

আমাদের ট্রিপগুলোর সাধারণত কোনো প্ল্যান থাকেনা। এই ট্রিপেও কোনো প্ল্যান ছিলনা। রাতে আহির ফোন দিল চল চাঁদপুর ইলিশ খেতে যাই। অফিসে ছিলাম বেশি কথা বলতে পারিনি। শুধু বললাম বাকি সবাইকে ফোন দে, দেখ কী বলে। বাসায় এসে সবাইকে নক দিলাম কার কী অবস্থা। শেষে আমরা ৪ জন। সবাই আমাকে সকালে ঘুম থেকে তুলে দেওয়ার কথা থাকলেও অবাক করে দিয়ে আমি সবাইকে ঘুম থেকে তুলে দিয়ে বের হইলাম সদরঘাটের উদ্দেশ্য। আমার সাথে আতাউল বারি। গুলশান থেকে আহির আর পুরান ঢাকা থেকে নাজমুল।

hilsa

৭টার বাসে যাওয়ার কথা থাকলেও আমরা উঠলাম ৯.৩০ এর লঞ্চে। লঞ্চের নাম মিতালী। উঠে টিকেট কেটে বসার পর দেখলাম আমাদের পাশেও কয়েকজন মিতালী আছে! সেই প্রসঙ্গে না যাই। সিটে বসে না থেকে বাহিরেই দাড়িয়ে থাকলাম বেশিক্ষন। কিছুক্ষন পর শুক্রবারের সকালের ঘুম কাহাকে বলে বুঝতে পারলাম। পোলাপাইনকে বললাম আমি সিটে গেলাম। এসেই ঘুম, এক ঘন্টায় সারা দিনের এনার্জি ফুল করে নিলাম।

one min icecream

চাঁদপুর নামতেই পৌনে একটার মত বাজে। জুম্মা নামাজের সময়। হাফ প্যান্ট পরা ছিলাম! বের হওয়ার সময় ব্যাগে একটা ট্রাইজার নিয়ে নিয়েছিলাম নামাজ পরার জন্য। চেইঞ্জ করে জুম্মার নামাজ পরে নিলাম। মসজিদের পাশের ইলিশ মাছের বিশাল বাজার, ট্রেইন স্টেশন, এন্ড চাঁদপুরের সী-বিচ নামে পরিচিত রক্তধারা। স্টেশন হয়ে মাছের বাজারে গিয়ে এক পাক দেখে নিলাম। সব পাইকারি মাছ বিক্রেতা। মাছের দাম জিজ্ঞেস করে আবুলস হওয়া ছাড়া উপায় নাই। হয়ত তারা পাইকার ব্যবসায়ী ছাড়া খুচরা ক্রেতাদের পাত্তা দেন না।

তারপরও ঘুরে ঘুরে একজয় করতে থাকলাম। এক জায়গায় অনেক বড় বড় ইলিশ দেখে জিজ্ঞাসা করলাম ভাই এই গুলোর দাম কত করে? ২৪০০ টাকা কেজি! তো একটা মাছ এর ওজন কত? বলল দুই কেজি। তার মানে দুই কেজি ৪৮০০ টাকা! যাক একটা হাসি দিয়ে কয়েকটা ছবি তুললাম। ক্রেতাও খুশি বিক্রেতাও খুশি। মনে মনে বললাম, চাঁদপুর থেকে আমাদের মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট অনেক কম দামে ইলিশ পাওয়া যায়।

c5

ততক্ষণে খিদায় অস্থির। আশেপাশে কয়েকটা লোকাল হোটেল আছে। এগুলোতেই যারা ঘুরতে যায় তাদের খেতে হয়। তাদের রান্না করা ইলিশ ৬০ টাকা। আমাদের পছন্দ করা পিস ভাজি করে দিবে। দাম ৮০ টাকা। থার্ড অপশন আমরা মাছ কিনে এনে দিলে তারা পেঁয়াজ আর শুকনো মরিচ দিয়ে ভাজি করে দেবে ১০০ টাকা মজুরি।

আমরা আবার বাজারে গেলাম ৮৫০ টাকা দরে ৭০০ গ্রাম ওজনের একটা ইলিশ কিনে ভাজি করে ভরপুর খাওয়া দাওয়া করলাম। উদ্দেশ্যই ছিল ইলিশ খাওয়া। লাঞ্চের পর একটা অটো রিকশা নিয়ে শহরের বিখ্যাত ওয়ান মিনিট আইসক্রিম খেতে গেলাম। খারাপ না ভালই রিফ্রেশমেন্ট ছিল।

রিকশা নিয়ে আবার বড় স্টেশন আসলাম। উদ্দেশ্য বিকেলে তিন নদীর মোহনায় বসে সূর্যাস্ত দেখবো। ঘন্টা খানেক রক্তধারায় বসে আড্ডা দিলাম আর বিজি চাঁদপুর দেখলাম। আপনার চোখের সামনে দিয়েই বড় বড় লঞ্চ, স্টিমার, মাছ ধরার ট্রলাম যাবে। ভালই উপভোগ্য। আরো দেখবেন ডাকাতিয়া নদীতে মানুষের কর্ম ব্যস্ততা। আপনি চাইলে ছোট ছোট ট্রলার নিয়ে পদ্মা চর নামে একটা চর আছে তাতে ঘুরে আসতে পারেন। ৫০০ টাকার মত ভাড়া নেয়। আমাদের ৪ জন কুয়াকাটা আর বরগুনা এতো চর ঘুরেছি তাই আর চরে ঘুরতে যাওয়ার ইচ্ছা হয়নি।

ততক্ষণে সূর্য মামা পশ্চিম আকাশে হেলে পড়েছে। অসাধারণ ছিল। গোধূলী বিকেল আর সূর্যাস্ত সারাদিনের ক্লান্তি মুছে দিয়েছে। চাঁদপুর শহরে প্রবেশের আগেই শহর শেষ হয়ে গেলেও তিন নদীর মোহনা আপনাকে চাঁদপুরের প্রতি মায়া সৃষ্টি করবে। এটাই চাঁদপুরের প্রাণ।

রাতের লঞ্চে চাঁদের আলো আর হিম হিম ঠান্ডায় ঢাকা ফিরে এলাম। যারা নৌকা ভ্রমণ অনেক উপভোগ করেন তাদের জন্য আসা-যাওয়া ৩ ঘন্টা করে ৬ ঘন্টা বোনাস হিসেবে থাকবে।

হ্যাপি ট্রাভেলিং।