ক্যাটেগরিঃ স্যাটায়ার

 

ফুল নেবে গো ফুল নাওনা চাঁপা ফুল। আপনাদের হয়তো মনে আছে এটি একটি বিখ্যাত নারিকেল তেলের বিজ্ঞাপনের কথা কিন্ত আমি যে চাঁপার কথা বলছি তা হলো চয়ে আকারে (চা) আর পয়ে আকারে (পা)= চাপা, এটি হলো আমাদের মানব জাতির মুখের চাপা। হ্যাঁ পাঠক আমি সেই চাপার কথা বলতে চাচ্ছি।

আমাদের আশে পাশে, বাসে, ট্রেনে, রাস্তা ঘাট থেকে বাসাবাড়িতে সেখান থেকে সংসদ হয়ে সচিবালয়ে কোথায় নেই এই মহা-শক্তিমান মহান চাপা মশায় ! যেন আমাদের চাপা না মারলে পেটের ভাতই হজম হতে চায়না, দ্রব্যমূল্যের এই উর্দ্ধগতির বাজারে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজির চাল চাপা মেরে হজম করতে হয়, আর পেটে যারা কোন খাবার দিতে পারে না তাদে কষ্ট করে শুনতে হয়, আমাদের মহান দেশপ্রেমী নেতাদের কথা “ আমাদের দেশ খাদ্যের কোন অভাব নেই “ সবাই আগে তিন বেলা খেত এখন খায় ছয় বেলা। আহ্ কি মধুর “চা——-পা”।

আমার পরিচিত একজন এর সাথে একটি দোকানের সামনে সন্ধায় দাড়িয়ে কথা বলছি, পার্শ্বে এক ভদ্রলোক কথা বলছেন, থাকেন লেকসিটি কনকড এ, তিনি বলছেন তার দুটি ফ্লাট আছে এখানে,রাস্তায় তার বাস চলাচল করে ৫/৬টি, তিনি বাবর সাহেব ( সাবেক স্বরাষ্ট মন্ত্রী ) এর কোম্পানীর একজন এম,ডি তাকে বাবর সাহেব সব দায়িত্ব দিয়ে জেলে গেছেন, তার গ্রামের বাড়িতে অনেক কিছুই আছে আমি এসব শুনতে শুনতে ভিদ্রলোকের দিকে তাকিয়ে দেখি যে, উনি আমাদের ভবন-এ ভাড়া থাকেন এবং ৩ /৪ মাস যাবৎ ভাড়া প্রদান করেন না, যা আমাকে উক্ত ভবনের দায়িত্ব প্রাপ্ত অফিসার জনাব রতন সাহেব আমাকে বলেছেন। তার স্বভাব-ই চাপা মেরে চলা। কি মজা তাই না এই মহান চাপা মানুষের জীবন নির্বাহে কতটা সহায়ক।

আমাদের দেশের দু-একটি জেলার ( নাম উল্লেখ্য করছি না ) মানুষ কি চমৎকার ভাবে চাপা মেরে বিয়ে করে ৪ /৫ টি করে, তাদের সংসারও চলছে সুন্দর ভাবে। আমার এক বন্ধু তার চাপার জোরে ঢাকা মেডিকেলের শেষ বর্ষের একজন কে বিয়ে করেছেন কিন্তু বন্ধুটি ছিল বি, এ পাশ আর বেকার। এটি শুধুমাত্র সম্ভব হয়েছিল তার চমৎকার চা———-পা মারার গুনে।

আমার চেয়ে সম্প্রতি চাপার গুনাগুন বুঝতে পারেন তরুন / তরুণীরা যদি সেই তরুনীটা সুন্দরী হয় তাহলে তো কোথায় নেই সে হয়ে ওঠে একজন চাপা বিশারদ। আজকাল প্রেম, ভালোবাসা, বিয়ের ঘটকালীতে যেন চা—পা অপরিহার্য, চাপার অনুপস্থিতে এসব অসম্ভব। সালাম চাপা তোমায় আজ মানুয়ের মনে তুমি জায়গা করে নিয়েছ গভীর ভাবে।

এবার নিজের কথা বলি আমি একবার ঢাকা থেকে রাজশাহী যাচ্ছিলাম ট্রেনে, আমার পার্শ্বে বসেছিল এক অনন্যা একটি তরুণী, এখন বোঝেন আমার অবস্থা ! আমি তার সংগে কথায় চাপা মারতে গেলাম কিন্ত বিধাতা আমার সহায় ছিল না তাই ধরা পড়ে গেলাম, সেই চা—পা–র চাপ কমাতে আমাকে ৭/৮ বার বাথরুমে যেতে হয়েছিল।

সন্মানিত পাঠক চাপা নিয়ে লিখতে গেলে লিখা শেষ হবে না। আমরা সবাই এর সাথে কম বেশী পরিচিত, এটি একটি ব্যাধি, আজ আমাদের চার পার্শ্বের আকাশে বাতাসে চা—পার ছড়াছড়ি, বাসর ঘর থেকে সংসদ পরযন্ত। আসুন আমরা সবাই মিলে একটি চা—পা—র চাপ মুক্ত সমাজ গড়ি, যেখানে থাকবে চাপার চাপ মুক্ত স্বচ্ছ বাতাস।