ক্যাটেগরিঃ মানবাধিকার

IMAGE-blog-2015-04-29

আমাদের সমাজের রীতিনীতি নিয়ত পরিবর্তনশীল, সেই সাথে পরিবর্তনশীল আমাদের চিন্তা চেতনা। আজ সমাজের চোখে যা ভুল কাল তা ঠিক মনে হতে পারে। অনেক ধ্যান ধারনা আছে যা প্রথমে গৃহিত না হলেও কালের বিবর্তনে তাই সমাজ দ্বারা স্বীকৃত হয়েছে, প্রশংসিত হয়েছে। তাই কোন কনসেপ্ট বা ধারনাকে বাতিলের খাতায় ফেলে দেবার পূর্বে ভাবা দরকার কেন আমরা তা বাতিল করে দিচ্ছি! কারণ কী শুধুই আমার মানসিক ভাবে গ্রহন করতে না পারা, নাকি অন্য কোন যৌক্তিক কারণ যা সেটাকে অন্যায়ের পর্যায়ে ফেলতে পারে?

যদি মানসিকতার ব্যাপার থাকে তাহলে সেটা আমার কাছে গ্রহনযোগ্য না হলেও, অন্য কারো কাছে গ্রহনযোগ্য হতে পারে। আমি হয়তো এটা এক্সেপ্ট করবো না, কিন্তু অন্য কেউ করতে চাইলে তাতে বাধা দেয়াও উচিত নয়। অন্যদিকে এটা যদি অন্যায়ের পর্যায়ে পরে তাহলে সেটা কারও দ্বারাই গ্রহনযোগ্য হবে না। যেমন, মার্ডার একটা ক্রাইম। যে ‘সাইকো’ তার এটা ভালো লাগলেও সৃস্টির কোন পর্যায়েই এটা গ্রহনযোগ্য হবে না কারন এতে অন্যের অধিকার খর্ব হবার ব্যাপার থাকছে।

LGBT বিয়েতে অন্য কারও অধিকার ক্ষুন্ন হচ্ছে না। ন্যাচার কিছু মানুষের মাঝে যে অস্বাভাবিকতা তৈরি করেছে তাদের অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। যতদিন পর্যন্ত তা সমাজের অন্যদের অধিকারকে খর্ব না করবে ততদিন সেটাকে অন্যায় বা অযৌক্তিক বলা যাচ্ছে না যতোই অস্বস্তি লাগুক না কেন। আর হ্যা, এটা শুধুমাত্র তাদের জন্যই প্রযোজ্য যাদের মাঝে এই অস্বাভাবিকতা জন্মগত ভাবে প্রকৃতি তৈরি করে দিয়েছে। কিন্তু যারা বিকৃত যৌনাচারের জন্য কিংবা বিপরীত লিঙ্গের কাউকে না পেয়ে ক্ষনিকের উত্তেজনার বশে সমগামি হয় তাদের জন্য নয়। এরা অপরাধী, এরা আইনের ধার ধারে না। ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকে চিন্তা করলে আসলে কোন বিতর্ক চলে না, যুক্তি চলে না। ধর্ম অন্ধ বিশ্বাস। যুক্তি দিয়ে এটার জাস্টিফিকেশন সম্ভব নয়। আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে বলতে গেলে, আমরা এখনো এই ব্যাপারে কথা বলার মতো অবস্থানেই পৌঁছাইনি। বৈধতা তো অনেক পরের ব্যাপার। যে সমাজ ছেলে মেয়েদের হাত ধরে হাঁটাকে খারাপ চোখে দেখে সেখানে সমকামিতা নিয়ে কথা বলার কোন যুক্তিই নেই।