ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

বানরের গলায় যেমন মুক্তোর মালা শোভা পায় না, তেমনি আমাদের বাঙ্গালিদেরও আসলে ফেসবুক বা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের যোগ্যতা নেই। কথাটা তেতো হলেও নির্মম বাস্তবতা। অযোগ্য লোকের হাতে যদি কোন প্লাটফর্মের সহজ প্রবেশাধিকার থাকে তাহলে সে এটার অপব্যবহার করবেই। আমরাও করছি প্রতিনিয়ত। ভাবতে অবাক লাগে একটা প্রজন্ম হিসেবে আমরা কতটা নির্লজ্জ ও মানসিক অসুস্থতা নিয়ে বেড়ে উঠছি।

সত্যি বলতে ইন্টারনেট এখনো আমাদের দেশের অধিকাংশের কাছে ১৮+ উপাদান খুজে বের করার মাধ্যম। একে শিক্ষামূলক কাজে ব্যবহারে আমাদের চরম অরুচি। ইন্টারনেট যে জ্ঞান অর্জনের বিশাল এক হাতিয়ার হতে পারে সেটা খুব কম লোকই জানে কিংবা মানে। এখন তো আবার অনেকের কাছে ইন্টারনেট মানেই ফেসবুক। অনেক শিক্ষামূলক সাইটে বিনামূল্যে ভিজিট করার সুযোগ না থাকলেও ফেসবুক ব্যবহার করা যাচ্ছে খরচ ছাড়াই। আর এই সহজলভ্যতার জন্যই এর নিত্য অপব্যবহার হচ্ছে।

আমাদের ব্যক্তিগত কিংবা সামাজিক জীবনে দুঃখ দুর্দশার অভাব নেই। জাতিগত ভাবেই আমরা নানারকম প্রাকৃতিক বা মানুষ্য সৃস্ট দুর্যোগ মাথায় নিয়ে দিনাতিপাত করি। আমাদের শত মতবিরোধ, শত হতাশা, বিদ্বেষ সব এক ফুৎকারে উড়িয়ে দিতে পারেন আমাদের ক্রিকেটাররা। একমাত্র ক্রিকেটই পুরো জাতিকে একসাথে হাসাতে পারে, আবার একসাথে কাঁদাতেওপারি। ক্রিকেট তাই আমাদের জন্য শুধু খেলা নয়, বরং জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে পরিণত হয়েছে।

অথচ নামতে নামতে আমরা এতোটাই নিচে নেমেছি যে আমাদের গর্ব, আমাদের অহংকার ক্রিকেটাররাও আমাদের লোলুপ, কদর্য ও অসুস্থতা মানসিকতার কার্যকলাপ থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। শ্বাপদের মতো হিংস্র দাঁত নিয়ে আমরা তাদের আক্রমন করি ফেসবুকে, কখনো ফোন করে আবার কখনোবা গ্যালারিতে।

আমরা সাকিবের বউকে গ্যালারীতে টিজ করি। আমরা তামিমের খারাপ পারফরম্যান্সের জন্য তার বউকে ফোন করে গালাগালি করি, অনলাইনে তার বউকে নিয়ে স্যাটায়ার বানাই। আমরা নাসির আর নাসিরের বোনের ছবিতে অশ্লীল কমেন্ট করে সেটাকে সরাতে বাধ্য করি। আমরা আমাদের কাপ্তান মাশরাফিকে তার ফেসবুক পেজ রেস্ট্রিকটেড করে দিতে বাধ্য করি।

যদি বলা হয় যারা এসব করে তারা প্রকৃত ফ্যান না, তারা সংখ্যালঘু, তাহলে ভুল বলা হবে। এতে আসলে সমস্যাটাকেই এড়িয়ে যাওয়া হবে। আসলে এরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। এদের মাঝেই আছি আমি বা আপনি। বাস্তব জীবনে আপাত নিরীহ ছেলেটিও আজ সাইবার জগতে মেয়েদের হ্যারাশ করে, মেয়েদের ভোগ্যপন্য মনে করে কটুক্তি করে। ফেসবুক ছাড়াও বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকা বা ব্লগের কমেন্ট সেকশন দেখলেই এর সত্যতা মিলবে। এই নোংরা, অসুস্থ মানুসিকতার লোকজনই আজ সংখ্যায় বেশি যাদের হাতে দেশের সূর্যসন্তানরাও নিরাপদ না।

সাধারন মানুষের কথা না হয় নাই বা বললাম। আমাদের লোলুপ দৃস্টি থেকে কোন মেয়েই তো রক্ষা পাচ্ছে না। অনলাইনে একটি মেয়ের ছবির নিচে পাবলিক কমেন্টগুলো দেখলে ঘিন্নায় গাঁ রি রি করে উঠে। বাস্তবজীবনে দৈনন্দিন কাজে বাইরে বের হওয়া আমাদের মা, বোনরা প্রতিনিয়ত হ্যারাশমেন্টের শিকার হচ্ছেন। নারীদেহ যেন কবলেই ভোগ্যবস্তু। সবচেয়ে কস্টের ব্যাপার হলো নামকরা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত, কর্মরত মানুষজনও এসব নোংরা মানসিকতা ধারন করছে।

আমি খুব আশাবাদী মানুষ। কিন্তু আশাবাদের পরিধিটা ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে। দেশের উন্নয়নের সাথে সাথে আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থার না হয় উন্নতি হবে কিন্তু মানসিকতার উন্নয়ন হবে কিভাবে?

দুঃখিত নাসির,
দুঃখিত মাশরাফি,
আমরা তোমাদের ধারন করার যোগ্য না।