ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

ভ্যাট প্রদান নিয়ে ভোক্তাদের সচেতনতা বৃদ্ধির ব্যাপারে নানা ক্যাম্পেইন হচ্ছে। লক্ষনীয় ভাবে সচেতনতাও বাড়ছে। ইতোমধ্যে বুয়েট ও এমআইএসটির শিক্ষার্থীরা দুটি এন্ড্রয়েড এপ তৈরি করেছে যা দিয়ে সহজেই কোন প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন নম্বর চেক করা যাচ্ছে, কোন অসংগতি দেখা দিলে তাৎক্ষনিক ভাবে অভিযোগও করা যাচ্ছে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে। নিঃসন্দেহে আশাবাদী হবার মতো ব্যাপার।

এবার ভ্যাট সংক্রান্ত অন্য একটি ব্যাপারে সকলের দৃস্টি আকর্ষণ করছি। প্রায় সব রেস্টুরেন্টে মিনারেল ওয়াটার কিংবা কোল্ড ড্রিংকসের দাম বোতলের গায়ে লিখা দামের চেয়ে বেশি নেয়া হয়। সাধারণত ১৫ টাকা দামের ২৫০ এমএলের বোতলের দাম ধরা হয় ২৫ টাকা। মোট বিল করার সময় এই ২৫ টাকার উপর আবার ১৫ পার্সেন্ট ভ্যাট ধরা হয়। অর্থাৎ ভোক্তার কাছ থেকে ১৫ টাকার একটি পানির বোতলের দাম নেয়া হয় ২৮.৭৫ টাকা। অথচ বোতলের গায়ে ভ্যাট ইনক্লুড করেই সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১৫ টাকা লিখা থাকে।

একইভাবে অধিকাংশ সুপারশপ গুলোতে অধিকাংশ প্রোডাক্টের গায়ে যে মূল্য লিখা থাকে অর্থাৎ উৎপাদনকারীরা যে মূল্য নির্ধারণ করে তার উপর ব্যাবসায়ীরা নতুন করে তাদের ইচ্ছামতো প্রাইস ট্যাগ লাগিয়ে বিক্রি করে। সন্দেহাতীতভাবে এটাও অন্যায় এবং এতে করেও ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে।

এইসব অন্যায় সবার চোখের সামনে হচ্ছে এবং আমরা একপ্রকার মেনেই নিয়েছি এগুলো। ভ্যাট নিয়ে যে সচেতনতা তৈরি হচ্ছে তা আশার উদ্রেক করেছে। তাই এই দুটি ব্যাপারও নজরে আশা উচিত। আমরা ভোক্তারা একটু সচেতন হলেই মুনাফালোভী এইসব ব্যবসায়ীদের রুখে দেয়া সম্ভব। আইন আমাদের পক্ষে আছে। দরকার শুধু জনসচেতনতা।

আসুন আমরা সবাই সচেতন হই।

আমরা যদি না জাগি মা, কেমনে সকাল হবে!