ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

আগামী ৭-১০ই এপ্রিল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বহুল প্রতীক্ষিত ভারত সফর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ও ভারত, এই দুইদেশের জন্যই এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর আগে ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় সফরে ভারত গিয়েছিলেন। ভারতে তখন ক্ষমতায় ছিলো কংগ্রেস সরকার। সর্বগ্রাসী জয় দিয়ে ২০১৪ সালে ভারতের রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে বিজেপি, ১৫ তম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন নরেন্দ্র মোদী। তবে বন্ধুপ্রতীম দেশ ভারতের দুটি সরকারের কাছ থেকেই সহযোগিতামূলক আচরণ নিশ্চিত করতে পেরেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিঃসন্দেহে এটি আওয়ামীলীগ সরকারের বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য।

SheikhHasina_0001

আসন্ন ভারত সফরের ঠিক পূর্বে গত ১১ই মার্চ যুব মহিলা লীগের সম্মেলনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এবং মার্কিন দূতাবাস ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগকে ক্ষমতা থেকে সরাতে ভূমিকা রেখেছিলেন। ২১ শে মার্চ মাগুরার জনসভাতেও এই অভিযোগ করেন শেখ হাসিনা। উল্লেখ্য ২০০১ সালে ভারতের রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলো বিজেপি সরকার। ভারত সফরের অব্যবহিত পূর্বে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই অভিযোগ নিঃসন্দেহে আলোচনার দাবি রাখে। বিবিসির সাবেক সংবাদদাতা সুবীর ভৌমিক তাঁর কলামে এই বিষয়টি চমৎকার ভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।

সুবীর ভৌমিক তাঁর কলামে লিখেছেন, তৎকালীন ভারতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ব্রজেন দাশ শেখ হাসিনাকে তাঁর কিছু নীতি পরিবর্তনের পরামর্শ দেন। শেখ হাসিনা সাফ জানিয়ে দেন, দেশ চালানোর ব্যাপারে উনাকে কোন পরামর্শ না দেয়ার জন্য। মূলত এই কারণেই ব্রজেন দাশ তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকারের প্রতি বিরাগভাজন হন এবং ঢাকার তৎকালীন ‘র’ এর স্টেশন চীফ অমিতাভ মাথুরকে বিএনপির সাথে যোগাযোগ স্থাপনের নির্দেশ দেন। বিএনপি নির্বাচিত হবার পর ব্রজেন দাশ বলেছিলেন সব ডিম এক ঝুড়িতে রাখতে নেই। অবশ্য, পরবর্তীতে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বও ব্রজেন দাশের ভূমিকার ব্যাপারে সমালোচনা করেছিলো।

এই প্রসঙ্গে কিছু কথা বলা প্রয়োজন। ভারত বাংলাদেশের অন্যতম বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিলো। ভারতের সাথে এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের মূল কারিগর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আর তাই মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব প্রধানকারী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর সাথে ভারতের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কখনোই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যাপারে ভারতকে ছাড় দেয়নি। ইতিহাসে এর অসংখ্য নজির রয়েছে। স্বাধীনতার অব্যবহিত পরেই বঙ্গবন্ধু ভারতীয় সৈন্যদের দেশে ফিরে যাবার ব্যবস্থা করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু তনয়া জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রথমবার শাসন ক্ষমতায় এসেই ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে গঙ্গ পানিচুক্তি সম্পন্ন করেন, ভারতকে প্রভাবিত করে পার্বত্য শান্তিচুক্তি সম্পন্ন করেন। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ভারতের কাছ থেকে আইনী লড়াইয়ের মাধ্যমে সমূদ্রসীমা জয় করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগ সরকার। এমনকি তৃতীয় মেয়াদে বর্তমানে ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত স্থলসীমান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে ভারতের সাথে বিবাদমান ছিটমহল সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান করে শেখ হাসিনার সরকার।

অবাক হয়ে লক্ষ্য করতে হয় যে, বাংলাদেশের অন্যতম একটি রাজনৈতিক দল বিএনপি সর্বদাই আওয়ামীলীগকে ভারত তোষণকারী দল হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করে। প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনের পূর্বেই তারা আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসলে দেশ ভারতের কাছে বিক্রি হয়ে যাবে, ফেনী পর্যন্ত ভারত হয়ে যাবে এই ধরনের নানা মনগড়া আজগুবি প্রচারনা চালায়। অথচ এখন আমরা জানতে পারছি যে, রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসতে এই বিএনপিই দেশের প্রাকৃতিক গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও মার্কিন দূতাবাস থেকে অনৈতিক সহায়তা নিয়েছিলো। এমনকি ২০১৪ সালে বিজেপি ভারতের লোকসভা নির্বাচনে জয়লাভের পর বিএনপি এমন উদ্বাহু নৃত্য শুরু করে দিয়েছিলো যেন তারা নিজেরাই ক্ষমতায় এসেছে। নিজেদের পার্টি অফিসে তারা মিষ্টি বিতরণ করেছিলো, কোন ধরনের প্রটোকলের তোয়াক্কা না করে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নরেন্দ্র মোদীকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছিলো। এমনটাও প্রচার করা হয়েছিলো যে বিজেপি নেতা অমিত শাহ নাকি খালেদা জিয়াকে ফোন করেছিলেন নির্বাচনে জয়ী হবার পর, যা ছিলো সর্বৈব মিথ্যা। স্বয়ং অমিত শাহ তা অস্বীকার করেছিলেন। শুধু ভারত নয় বিশ্বের আরও কিছু দেশে রীতিমতো লবিস্ট নিয়োগ করে সরকার তথা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার কাজে লিপ্ত হয়েছিলো বিএনপি। অর্থাৎ এই কথা প্রমাণিত যে ক্ষমতায় আসার জন্য বিএনপি যা ইচ্ছা তাই করতে পারে, দেশের স্বার্থবিরোধী যেকোন কাজও তাদের পক্ষে করা সম্ভব। অন্যদিকে আওয়ামীলীগ সর্বদাই দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছে। ইতিহাস এর স্বাক্ষী।

২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির আশার পালে যে হাওয়া লেগেছিলো তা মিলিয়ে যেতেও সময় নেয়নি বেশি। মোদী সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ২০১৪ সালের জুন মাসেই বাংলাদেশ সফরে আসেন এবং স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়ে যান আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের সাথেই কাজ করতে আগ্রহী বিজেপি সরকার এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে তাদের কোন বক্তব্য নেই। এখানে উল্লেখ্য যে, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া সুষমা স্বরাজের সাথে দেখা করার জন্য দীর্ঘসময় হোটেল লবিতে বসে ছিলেন। একটি দেশের দুইবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর এই ধরনের আচরণ দেশের ভাবমূর্তিকেই ক্ষুণ্ন করে।

২০১৫ সালের ৬-৭ ই জুন দুইদিনের বাংলাদেশ সফরে আসেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দুই দেশের জন্যই অত্যন্ত সফল এই সফরে বহুল কাঙ্ক্ষিত স্থলচুক্তির যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছিলো, দুই দেশের মাঝে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিলো। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো নরেন্দ্র মোদী তাঁর সফরের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিয়ে গিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশ কতটা গুরুত্বপূর্ণ, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ কতটা নিরাপদ। নরেন্দ্র মোদী তাঁর আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের মুগ্ধতার কথা জানিয়েছিলেন, শেখ হাসিনার ভিশন ২০২১ এবং ২০৪১ এর ব্যাপারে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন। সর্বোপরি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সাথেই উন্নয়ন এবং সন্ত্রাসের মূলোৎপাটনে একসাথে কাজ করার ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদ ব্যাক্ত করে গিয়েছিলেন।

PID68683

নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের প্রায় দুইবছর পর ভারতে পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় সফরে যাচ্ছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুইবার এই সফরের তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে সর্বোচ্চ সুবিধাজনক সময়ে সফরটি অনুষ্ঠিত করার জন্য। ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতি ভবনে থাকার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। বিশ্বের খুব রাষ্ট্রপ্রধানই এই সম্মান পান। এ থেকেই বুঝা যাচ্ছে ভারত সরকার এই সফরকে কতটুকু গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। বাংলাদেশের জন্যও এই সফরের তাৎপর্য অপরিসীম। এই সফরেই হয়তো বহুল কাঙ্ক্ষিত তিস্তা পানি চুক্তির ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে। এছাড়াও অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা এবং দ্বিপাক্ষীয় সমঝোতা স্বারক কিংবা চুক্তি হতে পারে।

ভারতের রাজনীতিতে নরেন্দ্র মোদী বর্তমানে এক অপরাজেয় শক্তি। সাম্প্রতিক উত্তর প্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনই এর বড় প্রমাণ। কোন মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী না দিয়েও নরেন্দ্র মোদী একক কারিশমায় বিজেপিকে মিনি ইন্ডিয়া হিসেবেখ্যাত উত্তর প্রদেশের শাসন ক্ষমতায় নিয়ে এসেছেন। ভোটাররা নরেন্দ্র মোদীর উপর ভরসা করেই বিজেপিকে ভোট দিয়েছে যেমনটা দিয়েছিলো লোকসভা নির্বাচনে। অথচ নরেন্দ্র মোদীর নোট বাতিলের সিদ্ধান্তের পর ভারতের অর্থনীতি কিছুটা হলেও টালমাটাল হয়েছিলো, বিরোধীরাও একজোট হয়ে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নেমেছিলো। কিন্তু এসব কিছুই নরেন্দ্র মোদীর জয়রথ থামাতে পারেনি। এই ব্যাপারটিও আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কেননা মূলত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর বিরোধিতার কারণেই এখন পর্যন্ত তিস্তা পানি চুক্তি সম্পাদিত হয়নি। উত্তরপ্রদেশ বিজয়ের পর কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদীর ক্ষমতা আরও সুসংহত হয়েছে। ফলে মমতা ব্যানার্জীর বিরোধিতার সুযোগও অনেকাংশেই কমে গিয়েছে। কারণ লোকসভায় কোন বিল পাশ করতে এখন নরেন্দ্র মোদীকে অন্যকোন দলের মুখাপেক্ষী হতে হবে না। এটা তিস্তা চুক্তি সম্পাদনে সহায়ক হিসেবে কাজ করবে বলেই মনে হয়।

ভারতের সফরের অব্যবহিত পূর্বে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে অভিযোগ উত্থাপন করেছেন সেটারও কূটনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে। আমাদের মনে রাখতে হবে ডিপ্লোম্যাটিক টেবিলের আলোচনায় আবেগের কোন স্থান নেই। এখানে সবাই আপার হ্যান্ড হতে চায়, নিজেদের দেশের পক্ষে সর্বোচ্চ সুবিধাটুকু আদায় করে নিতে চায়। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও ভারতের প্রতি একটি বার্তা দিয়ে রাখলেন যে, আমরা সব জেনেও সহযোগিতামূলক আচরণ করে যাচ্ছি। এবার তোমাদের এর প্রতিদান দেবার পালা।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বর্তমান বিশ্বের অন্যতম অভিজ্ঞ ও দক্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সরকারপ্রধান। ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আওয়ামীলীগের হাল ধরার পর থেকে এখন পর্যন্ত নিরলসভাবে দেশ এবং দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। দুইবার প্রধানমন্ত্রী এবং দুইবার বিরোধীদলীয় নেত্রীর দায়িত্ব পালনের পর এবার তিনি তৃতীয় মেয়াদের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন। এই দীর্ঘসময়ের পথ পরিক্রমায় কখনোই দেশের স্বার্থে কারও সাথেই আপোষ করেননি। ঘাতকের বুলেট, গ্রেনেড উনাকে তাড়া করেছে কিন্তু লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। বর্তমানে তিনি শুধু বাংলাদেশ নন সমগ্র বিশ্বেরই একজন গুরুতপূর্ন নেতা, যিনি সর্বদাই সত্যভাষণে উচ্চকিত হন। তাইতো জাতিসংঘের সম্মেলনে দাঁড়িয়ে ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনের জনগণের পক্ষে কথা বলেন তিনি। বিশ্বব্যাংক যখন বাংলাদেশে কে কালিমালিপ্ত করতে চায় তখনো ঢাল হিসেবে দাঁড়িয়ে যান তিনি, নিজেদের অর্থায়নে পদ্মাসেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন করে বুঝিয়ে দেন আমরা এখন আর বটমলেস বাস্কেট নই। পরাশক্তি না হতে পারি, কিন্তু মাথা উঁচু করে চলার সামর্থ্য আমাদের রয়েছে।

বিশ্ব রাজনীতিতে বাংলাদেশ এখন একটি সমীহ জাগানো নাম। শুধু ভারতই নয়, বিশ্বের অন্যতম দুই পরাশক্তি রাশিয়া এবং চীনের সাথেও আমাদের সৌহার্দ্যপূর্ণ সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বিদ্যমান। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে আমাদের সদর্প বিচরণ। দারিদ্র বিমোচন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশ আজ রোল মডেল। আর এসব অর্জনের মূল কৃতিত্ব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার। আমাদের অধিকাংশ অর্জনই উনার হাত ধরে এসেছে। অতএব শেখ হাসিনার উপর আস্থা রাখুন, উনার সরকারকে নিরবিচ্ছিন্নভাবে তাদের কাজ করে যেতে দিন। যে উন্নয়নের স্বপ্ন বঙ্গবন্ধু কন্যা আমাদের দেখিয়েছেন সে স্বপ্নের বাস্তবায়ন হবেই। শেখ হাসিনার ধমনীতে যে জাতির পিতার রক্ত প্রবাহমান, এই রক্ত দেশবাসীকে কখনোই হতাশ করেনি।

৫৫ হাজার বর্গমাইলের লাল সবুজের ছোট এই বাংলাদেশে ১৭ কোটি মানুষের বসবাস। আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য নেই। সম্পূর্ণ নিজেদের চেষ্টায় আমরা এতোদূর এসেছি। কিন্তু উন্নত দেশ হবার যে স্বপ্ন আমরা দেখি তা বাস্তবায়ন করতে হলে বহির্বিশ্বের সাথে আমাদের সম্পর্ক উন্নয়নের কোন বিকল্প নেই। গ্লোবালাইজেশনের এই সময়ে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হয়ে বসবাসের সুযোগ নেই। আমাদের সম্ভাবনার খাতগুলো হলো জনশক্তি, ট্যুরিজম ও বিশাল সমূদ্রসীমা। এই প্রতিটি খাত থেকে সর্বোচ্চ সুফল লাভের জন্য আমাদের বিশ্বের অন্যান্য বিভিন্ন দেশের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে হবে। এটা তখনই সম্ভব হবে যখন আমাদের সীমান্ত নিশ্চিদ্র থাকবে, প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথে সৌহার্দমূলক সম্পর্ক থাকবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর বাংলাদেশ সফরের সময় ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্কের পালে বিশ্বাস ও আস্থার হাওয়া যুগিয়েছিলেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফরের মধ্য দিয়ে তা নতুন উচ্চতায় উঠবে বলেই আমার বিশ্বাস।