ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

জাতীয় কবি বলেছেন, `ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর, প্রলয় নতুন সৃজন-বেদন…।’ কিন্তু কিছু ধ্বংসকে বোধহয় আর কোনভাবেই সায় দেয়া যায়না। বলছি, প্রতিবাদের `অধুনা’ ভাষা-গাড়ি ভাংচুর প্রসঙ্গে। আমাদের প্রতিবাদী জনগণ, বিশেষ করে ছাত্ররা এই কাজে অতুলনীয় পারদরশিতা দেখাচ্ছেন। সবশেষ শনিবার মিরপুরের ডাঃ আজমল হাসপাতালে সিটি কলেজের শিক্ষক কৃষ্ণা গাঙ্গুলীর ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগ তোলে তার ছাত্ররা। আর এ ঘটনায় তারা রাস্তায় গাড়ি ভাংচুর করে প্রতিবাদ জানান। এতে মূল সমস্যার সমাধান কী হলো জানিনা, তবে ছাত্রদের রাগ তো কমেছে! হায় গাড়ি, লাখো-কোটি টাকার গাড়ি!

এটা ঠিক, ছাত্ররা তখন ক্ষুব্ধ ছিল, তাদের মনের অবস্থা ভালো ছিল না, বলা ভালো মাথার ঠিক ছিল না। আমার-আপনার স্বজন মারা গেলে, আমাদের মানসিক অবস্থা হয়তো তেমনই হতো। কিন্তু নিরীহ আর মূল্যবান যানগুলোর কী দোষ? তথাকথিত এই প্রতিবাদের মাশুল গুনতে হচ্ছে গাড়ী মালিকদের। প্রিয় মালিক ভাইয়েরা, সয়ে যান, `জাতির বৃহত্তর কল্যাণে’। যেমন কবি আবুল হোসেন বলেন, `ঝিনুক নীরবে সহো, ঝিনুক নীরবে সহো, ঝিনুক নীরবে সয়ে যা…ভিতরে বিষের বালি, মুখ বুঁজে মুক্তা ফলা…।’ তাছাড়া আর কী-বা করবেন?

আমরা নাগরিক সভ্যতার আরো অনেক সমস্যার মতো এটাকে মানিয়ে নিতে বসেছি। এ বিষয়টি তো এখন নতুন কিছু নয়। যদ্দুর মনে পড়ে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরযন্ত এ নিয়ে কথা বলেছিলেন। গুণীজনরা কয়েছিলেন, গাড়ি ভাংচুর প্রতিবাদের ভাষা হতে পারেনা। কিন্তু চোরে না শোনে ধরমের কাহিনি। মুম্বাই হামলার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী যেমন বলেছিলেন, এনাফ ইজ এনাফ; আমাদের এখন তাই বলা উচিৎ। মানে করতাব্যক্তিদের বলা উচিৎ, গাড়ি ভাংলে কঠোর সাজা এবং সেটা পালন করা উচিৎ। প্রতিবাদ বা আন্দোলনের আরো অনেক রাস্তা আছে। দয়া করে রাস্তা অবরোধ-গাড়ি ভাংচুরের মতো `মহৎ’ করমসূচিগুলো বর্জন করুন ভাইয়েরা। এগুলো আপনাদের `মর্যাদা’ আর আমাদের `সভ্য আচরণকে’ প্রশ্নবিদ্ধ করে। আর জনসাধারণকে `অসাধারণ’ দুর্ভোগ পোহাতে হয়।