ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

 

কাজটা ঠিক হয়নি, আগেই স্বীকার করছি। রীতিমতো অনৈতিক বলা যেতে পারে। নিচের লেখাটুকু পড়ে `সুইসাইড নোট’ জাতীয় কিছু বলে মনে হলো। তবে কথাগুলোর মধ্যে একটা কেমন যেন ব্যাপার আছে। তাই চুরি করে ফেললাম `তার’ কম্পিউটার থেকে। আগেই বলেছি ঠিক হয়নি, তবে এটা ঠিক তার কাছ থেকে চুরি করার অধিকার অন্তত আমার আছে। রবীন্দ্রনাথের শেষের কবিতার নায়ক যেমন তার এক `কবিবন্ধুর’ কবিতা মাঝেমধ্যেই পড়ে শোনাতো। অনেকটা তেমনই বলা যেতে পারে। আর হ্যাঁ, শিরোনামটিো কিন্তু তারই দেয়া।

..। ..। …

“আমার মাঝে মাঝে খুব মরে যেতে ইচ্ছে করে। কেন, ঠিক বুঝতে পারি না। কথিত আনন্দ আর বেদনার সুতোর মাঝখানে গিয়ে দাঁড়ালেই বোধহয় এমনটা হয়। জীবনে অবশ্য আমার কোন উদ্দীপনা নেই। তীব্র কোন সাধ নেই, অপূর্ণতাও বোধ করি না খুব একটা। অনুভব করি, একটা অসার জীবন বয়ে বেড়ানোর প্রায় দুঃসহ ভার। মাঝে মাঝে অদ্ভুত, ব্যাখ্যাতীত ও অপার্থিব অনুভুতি আমাকে গ্রাস করে ফেলে।
আত্নহননকেই অনিবার্য পথ বলে মনে হয়, মুক্তির।

পরিশ্রমের সামর্থ্য ও নিদেনপক্ষে চলনসই মেধা আমার আছে বলেই ধারণা। তবু সাফল্যের সঙ্গে আমার আড়ি। আসলে উন্নতির জন্য এখন যেসব গুণাবলী অপরিহার্য, সেখানেই আমার ব্যাপক ঘাটতি। থাক, সফল হওয়ার লোকের আকাল নেই দুনিয়ায়। আমি নাহয় অযোগ্য হিসেবেই হারিয়ে যাব কালের গর্ভে।

কারো প্রতি বিদ্বেষ নেই, ভুলে যাচ্ছি পুরনো ক্ষোভ। আর যাদের নির্মম প্রবঞ্চনা আমাকে বিধ্বস্ত করেছে-তারাও ভালো থাকুক, সুখে-শান্তিতে রূপকথার দিনযাপন করুক। ক্ষমা চাইব না। আমার মনে হয় তেমন কোন অপরাধ আমি করিনি। আর যদি গৌন কিছু ভুল করেও থাকি, সহজাত অনুশোচনার আগুনে তার বহুগুণ মাশুল দিয়েছি।”