ক্যাটেগরিঃ সেলুলয়েড

গল্পের একটি চরিত্র তার জীবনের গভীরতম সংকটে পড়েছে। সহসা সে তার সংকটের একটি প্রতিরূপ আবিষ্কার করল একটা মগের ভেতর রাখা পানীয় থেকে উঠে আসা অস্থির বুদবুদের ভেতরে। ১৯৪৬ সালের চলচ্চিত্র Odd Man Out এর নির্মাতা ক্যারল রিড তাঁর ছবিতে একটি চরিত্রের ভেতরকার অস্থিরতাকে প্রকাশের জন্য সম্পূর্ণ নতুন এই পদ্ধতিটির প্রয়োগ ঘটালেন। এর প্রায় বিশ বছর পর ফরাসি চিত্র পরিচালক- জ্যা লুক গঁদার তাঁর Two of Three Things I know About Her (1967) চলচ্চিত্রের প্রধান চরিত্রের সংকটকে উপস্থাপন করতে একই পদ্ধতি ব্যবহার করলেন। কিন্তু ততদিনে বিশ্বব্যাপী সিনেমার ভিসুয়্যাল সেন্স এর বহু পরিবর্তন ঘটে গেছে। ফলে গঁদারের হাতে একই আইডিয়ার উপস্থাপন ক্যারল রিডের চেয়ে বহুগুণে শক্তিশালী হলো। মজার বিষয় হচ্ছে ১৯৭৬ সালে মার্টিন স্করসিজ তাঁর Taxi Driver চলচ্চিত্রে একই পরিস্থিতিতে, গল্পের প্রধান চরিত্রের পয়েন্ট অব ভিউ থেকে একই ক্লোজ শটের ব্যবহার করলেন। সারা পৃথিবীর সিনেমা জগতে এভাবেই একজন আরেকজনকে অনুপ্রাণিত করে চলেন। কোন নির্মাতার নির্মিত একটি চলচ্চিত্রের আইডিয়া বা কোন বিশেষ পরিস্থিতিতে একটি শটের কার্যকরী উপস্থাপন অন্যদেরকে প্রভাবিত করে।

সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত আবু শাহেদ ইমনের চলচ্চিত্র জালালের গল্প’কে ঘিরে চলচ্চিত্রের আবহমান কাল ধরে টিকে থাকা একটি প্রশ্ন- এই বাংলাদেশে আবার আলোচনার সামনে চলে এসেছে। চলচ্চিত্রের গুরুত্ব কি এর আর্টে না বাণিজ্যে ? চলচ্চিত্রকে আমরা কীভাবে বিচার করব ? এই আলোচনাকে উসকে দিতেই উপরের উদাহরণটির প্রয়োগ করলাম। আন্তর্জাতিকভাবে একটি চলচ্চিত্রের বিচারের জায়গা হচ্ছে এর মৌলিকত্বে বা অরিজিনালিটিতে। এই কারণে আপনি ছবির টাইটেলে দেখতে পান, অরিজিনাল স্ক্রিন প্লে বাই অমুক, অরিজিনাল মিউজিক বাই তমুক ইত্যাদি। এখানে কোন বিকল্প ধারা টারা বলে কিছু নেই।

কিন্তু বাণিজ্যিক ছবির ক্ষেত্রে ঠিক কি ঘটে ? ১৯৯৯ সালে দ্যা ম্যাট্রিক্স ছবিতে প্রথমবারের মতো বুলেট টাইম নামে একটি ভিসুয়্যাল ইফেক্ট ব্যবহার করা হয়- যেখানে গুলি চলার সময় ও স্থানের মাঝে স্লো মোশনের মাধ্যমে ক্যামেরাকে অনেক বড় স্পেস দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে এই ইফেক্টটি অ্যাকশনধর্মী বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে সারা পৃথিবীতে একটি বড় উপাদানে পরিণত হয়। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে- এই যে নিরীক্ষাধর্মী কাজ তা কিন্তু বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে খুব কমই ঘটে থাকে। কারণ বাণিজ্যিক ছবির প্রোডিউসাররা কোন ধরনের ঝুঁকি নিতে নারাজ। দ্যা গড ফাদার (১৯৭২) এর মতো ছবির নির্মাতা ফ্রান্সিস ফোর্ড কপোলাকেও বলতে শুনি- ‘এতো বছর ছবি করে একটা জিনিস বুঝেছি- ছবি যদি বানাতে হয়, গল্প নিজে লেখ আর নিজেই তার প্রযোজনা করো। প্রযোজকরা কখনোই তোমাকে তোমার ছবিটি তৈরি করতে দেবে না। কারণ ওরা পরীক্ষা করা পছন্দ করে না।’ এর ফল হচ্ছে সারা পৃথিবীতেই বাণিজ্যিক ছবির প্রযোজক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিখ্যাত ও সফল উপন্যাস অবলম্বন করে ছবি নির্মাণ করা। তামিল কোন ছবি জনপ্রিয় হলে অবধারিতভাবে তার হিন্দি ভার্সন নির্মিত হওয়া। বেদের মেয়ে জোছনা বানিয়ে কেউ ব্যবসা সফল হলে, পরবর্তীতে অন্যান্য প্রযোজকদের শত শত সাপের ছবি নির্মাণের হিড়িক পড়ে যায়।

04

ঠিক এই আলোচনার প্রেক্ষিতে বলতে চাই- জালালের গল্প’র নির্মাণের ক্ষেত্রে আবু শাহেদ ইমনের সর্ব প্রথম ও সর্ব প্রধান সার্থকতা হচ্ছে- এর অরিজিনালিটি। চলচ্চিত্রের প্রতি নির্মাতার সৎ থাকার যে প্রচেষ্টাকে আমরা ছবি দেখার পুরোটা সময় ধরে উপলদ্ধি করি, সেটা বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের নির্মাতাদের ভেতর থেকে নিঃসন্দেহে ইমনকে অভিনব ভাবে অনেকখানি এগিয়ে রাখে। আলোচনা হতে পারে এই প্রচেষ্টার সফলতা ও ব্যর্থতা নিয়ে। দর্শক হিসেবে আমাদের ভালো লাগা মন্দ লাগা নিয়ে। যদিও এটা খুব আপেক্ষিক বিষয়। কেননা ছবি ভালো লাগা না লাগার অনেকখানিই ছবি দেখার সময়ে দর্শকের মুডের উপর নির্ভর করে। ক্লান্ত ও মন বিক্ষিপ্ত থাকলে, আপনার পক্ষে একটি ভালো ছবির রস পুরোপুরি গ্রহণ করা সম্ভব নাও হতে পারে। এই তত্ত্ব আমার না, স্বয়ং সত্যজিৎ রায়ের। ফলে জালালের গল্প বিষয়ক পরবর্তী আলোচনা’র পুরোটাই এক চলচ্চিত্রপ্রেমী দর্শকের নিজস্ব বোঝাপড়া হিসেবে গ্রহণ করতেই অনুরোধ করছি। এই লেখার দায় কোন অবস্থাতেই অন্য কারো নয়।

সত্যি কথা বলতে, আমি আমার জীবনে যতগুলো চলচ্চিত্র দেখেছি (সংখ্যায় খুব কম নয়), সেগুলো থেকে জালালের গল্পে’র একটি মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। এই পার্থক্যটি খুঁজে পাওয়া সম্ভব, জালালকে খুঁজে বের করার চেষ্টার মাধ্যমে। যারা ইতিমধ্যে চলচ্চিত্রটি দেখেছেন বা এর রিভিউ পড়ে ফেলেছেন, তারা অবশ্যই জানেন যে, পুরো ছবিতে জালাল কেন্দ্রীয় চরিত্র হলেও সে কোন প্রোটাগনিস্টের ভূমিকাতে নেই। বরং চলচ্চিত্রের শেষ পর্যন্ত তাকে ঘিরে অথবা তার আশেপাশের ঘটে যাওয়া ঘটনার নীরব দর্শক হয়ে থাকাই তার কাজ। অনেক আলোচক- ছবির পূর্বের নাম ‘জালালের পিতাগণ’কেই যথার্থ ছিল বলে দাবি করেছেন। কারণ গল্পের তিন পর্বে জালালের তিন পিতাই প্রোটাগনিস্টের ভূমিকাতে ছিলেন। ভীষণ দাপটে সব চরিত্র।

06

দর্শক হিসেবে আমার নতুন কিছু পাওয়ার অভিজ্ঞতা ঠিক এখানেই। একটি চলচ্চিত্রের কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে কুকুর, গাধা, হাতি বা ডাইনোসরের ব্যবহার আমরা দেখেছি। কিন্তু একটি ছায়া চরিত্রকে কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে দাঁড় করিয়ে দিয়ে আবু শাহেদ ইমন চলচ্চিত্রের গল্প বলার ঢঙে যে পরিবর্তন তৈরি করলেন- সেটা খুবই অভিনব এবং কোন অবস্থাতেই এটি হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোন বিষয় নয়। সুচিন্তিত, নিয়ন্ত্রিত।

পুরো ছবিতে আপনি অনেক এক্সট্রিম লং শট, লং শট অথবা মিড লং শটে অসম্ভব সুন্দর সব দৃশ্যকে উপভোগ করবেন। আবার অনেক প্রয়োজনীয় ক্লোজ শটের অনুপস্থিতি আাপনার চোখে তীব্র হয়ে দেখা দিতে পারে। অনেক চরিত্রের ইমোশনের ডিটেইলকে আপনি হয়তো মিস করতে পারেন। প্রকৃতপক্ষে এটি ক্যামেরাকে এমন এক অবস্থানে রেখে গল্প বলার প্রচেষ্টা- যেখানে প্রধান পার্শ্বচরিত্ররাই প্রধান চরিত্র। আবার ঠিক প্রধানও নয়। এটি যে বাংলাদেশের কোন নবীন পরিচালকের ঝড়ে বক পড়া নয়, সেটা পরিষ্কার হয় পুরো ছবিতে এই পদ্ধতিকে একই মাত্রায় প্রয়োগের ধরন দেখে। এবং এই পদ্ধতি প্রয়োগের কারণেই গল্পটি আর জালালের পিতাগণের গল্প থাকে না। জালালের গল্প হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু ঐ যে বললাম, ছায়া চরিত্র। ধুস! কেন্দ্রীয় চরিত্র কি আবার ছায়া হতে পারে ? ঠিক এইখানে দর্শক হিসেবে আমি অনুভব করেছি, অথবা বলা যেতে পারে নির্মাতা পুরোটা গল্পকে বলে না দিয়ে দর্শকের ভাবনার উপরে দায়িত্ব ছাড়েন জালালকে খুঁজে বের করার। নাম পরিচয় গোত্রহীন এক মানব সন্তানের।

কে এই জালাল ? কীভাবে এই ছবি তৈরির অনুপ্রেরণা সে একজন নবীন নির্মাতাকে দান করল ? এই প্রশ্নের উত্তর একজন শিল্পীর মানুষকে বোঝা ও ব্যাখ্যা করার মধ্যে নিহিত রয়েছে। জালাল তো আসলে আমরা। শেখ, সৈয়দ, বিএনপি আওয়ামীলীগ ইত্যাদি পরিচয়কে বাদ দিলে, আবহমান কাল ধরে বাংলার বুকে যে সাধারণ মানুষের বসতি- তাদের ভূমিকা প্রোটাগোনিস্টের নয় বরং উচ্চ পর্যায়ের সহনশীল নীরব দর্শকের, নির্যাতিতের। এই মানুষদের ভবিষ্যৎ যেমন নদীতে ভেসে আসে, নদীতে ভেসে যায়। তেমনি হয়তো নদীতেই তার সলিল সমাধি। আর মাঝপথে বিচরণের সময়টুকুতে সে কারো অর্থনৈতিক লালসার শিকার, অথবা কোন ক্ষমতাশালীর তীব্র আকাক্সক্ষার কাছে বন্দি। অথবা কারো নির্যাতনের নীরব সাক্ষী। এই মানুষের হয়তো একটি নরম, পেলব কল্পনার জগৎ রয়েছে- কিন্তু তার বাস্তব জগতে সেই পেলবতার কোন স্থান নেই। বাস্তব কঠিন। এইতো মানুষের গল্প। এইখানে আপনি আমিই জালালের ভূমিকা গ্রহণ করি। আমরাই জালাল হয়ে উঠি। জালালের গল্প- আমাদেরই গল্প হয়ে উঠে। এই চলচ্চিত্রের কেন্দ্রীয় চরিত্রকে ছায়া চরিত্র হিসেবে যে ব্লাঙ্ক স্পেস রাখা হয়েছে- সেই প্রেমিসিসে যেন আপনি আমি ঢুকে পড়তে পারি- নিজেদেরকে বসিয়ে নিতে পারি-এভাবেই এটাকে সাজানো হয়েছে। এটাই আবু শাহেদ ইমনের মুনশিয়ানা। তাঁর কাজের উজ্জ্বলতম বৈশিষ্ট্য। তাঁর মৌলিকত্ব।

10665750_1480944538827217_4119432199380752779_n

অনেকদিন পর এমন একটি বাংলাদেশি চলচ্চিত্র দেখার অভিজ্ঞতা হলো, যেখানে চরিত্রগুলোর চরিত্রায়ন ঠিকঠাক ভাবে করা হয়েছে। বিগত কয়েক বছরে হলে গিয়ে- আমি এই বিষয়টিরই সবচেয়ে অভাব অনুভব করেছি। প্রখ্যাত নির্মাতার কাজ দেখতে গিয়ে মনে হয়েছে- সবগুলো চরিত্রের মুখ দিয়ে নির্মাতাই কথা বলছেন। চরিত্রগুলো চরিত্র হয়ে ওঠার সুযোগ পাচ্ছে না। কিন্তু জালালের গল্প এক্ষেত্রে আশ্চর্য রকম ব্যতিক্রম। প্রত্যেকটি চরিত্রের আলাদা আলাদা মানসিক গঠন, ঘটনার সাথে তাদের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া খুবই স্বাভাবিক মনে হয়েছে। চরিত্রগুলোকে আমরা আলাদা আলাদা ভাবে চিনে নিতে পারি।

তবে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে একজন নবীন পরিচালককে সারা বিশ্বেই যে অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়, তা হচ্ছে স্টার অভিনেতাদের পরিচালনা করা। এই স্টারিজমকে নিয়ন্ত্রণ করে গল্পের স্বপক্ষে কাজ করানো একজন নবীন নির্মাতার জন্য খুবই চ্যালেঞ্জিং। আমার ধারণা জালালের গল্পের নির্মাতাকে-ও একই অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে। ফলে স্টার অভিনেতারা তাদের স্বভাব সুলভ ভঙ্গি ভেঙে বের না হতে পারলেও- অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত মুখগুলো অভিনয়ের ক্ষেত্রে একটি সততা ও আন্তরিকতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। আমি দর্শক হিসেবে, কাজের প্রতি তাদের সৎ থাকার প্রচেষ্টা মুগ্ধ হয়ে দেখেছি।

যেমন জালালের প্রথম মা খুবই সামান্য সময়ই স্ত্রিনে ছিলেন। কিন্তু তার ক্লান্ত ও নির্লিপ্ত মুখচ্ছবি এতটাই স্বাভাবিক ও আন্তরিক- তার মুখের একটা পাশ, অভিব্যক্তি- আবহমানকাল ধরে বাংলার নারীদের প্রোট্রেট তৈরি করেছে। যে মুখের সাথে আমাদের মায়েদের মুখগুলোর খুব মিল। ফলে বোঝা যায় বড় পর্দার অনভিজ্ঞ শিল্পীদেরকে নির্মাতা কত দক্ষতার সাথেই ব্যবহার করার সক্ষমতা রাখেন।

তবে ছবিটির যে অংশটি আরো ভালো হতে পারতো বলে আমার মনে হয়েছে- থার্ড অ্যাক্ট বা রিজোলিউশন অংশে (ছবির যে অংশে গল্পকে গুছিয়ে এনে পরিণতির দিকে নিতে হয়) নতুন একটি শক্তিশালী চরিত্রকে দর্শকদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া। কারণ এই পর্যায়ে নতুন চরিত্রটিকে স্ট্যাবলিস্ট করতে গল্প যে স্বাভাবিক সময় দাবি করে- তা পরিণতির অংশে ডিটেইলের কাজ করার সুযোগ কমিয়ে আনে। ফলে গল্পকে গুছিয়ে আনার ক্ষেত্রে আকস্মিক ছন্দপতন ঘটতে পারে। এটি যে কোন চিত্রনাট্যের বেলাতেই সত্যি।

হ্যাঁ, তৃতীয় পর্বে মোশাররফ করিমের কথা বলছি। এই অংশে মোশাররফ করিমকে এতো বেশি টাইম ও স্পেস দিতে হয়েছে যে তাতে মূল গল্পকে গুছিয়ে নিতে নির্মাতার বেশ বেগ সামলাতে হয়েছে। পরিণতির অনেক অংশে তিনি ডিটেইল কাজ করার সুযোগ হারিয়েছেন। ফলে জালাল এখানে ছায়া চরিত্র থেকে আবছায়া চরিত্রে পরিণত হয়। যা সামান্য হলেও ছন্দপতন ঘটায়। অথচ মধ্যের গল্পের কবিরাজি তুকতাক কমিয়ে এনে, নির্মাতা অনায়াসেই এই সময়টিকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারতেন বলেই মনে করছি।
07

এতো কথা বলার পরে আরেকটি কথাও বলতে চাই। রসগোল্লার স্বাদ কেমন- সেটা যেমন রসগোল্লা যে খায়নি তাকে বোঝানো সম্ভব নয়। তেমনি সিনেমাও অন্যের চোখে দেখে বোঝা যায় না। চিন্তার উপাদান সরবরাহ করতে সক্ষম এমন একটি চলচ্চিত্রকে- এক একজন দর্শক তার নিজস্ব অবস্থান থেকে, নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে এক এক ভাবে বিচার করে থাকেন। ফলে হলে গিয়ে জালালের গল্প না দেখলে, এই ছবি সম্পর্কে আপনার নিজস্ব ভাবনাটা আপনার অজানাই থেকে যাবে।

হলে গিয়ে ছবি দেখুন। একটি ভালো ছবি নির্মাণের জন্য নির্মাতা, শিল্পী ও কলাকুশলীদের যে আন্তরিক প্রচেষ্টা, সেই সৎ সিনেমার স্বপক্ষে থাকুন। আমার জানা মতে গত দশ বছরে বাংলাদেশের কোন ছবি নিয়ে এতো আলোচনা ও লেখা তৈরি হয়নি, যতটা হয়েছে জালালের গল্পের ক্ষেত্রে। চলচ্চিত্র নিয়ে আলোচনার নতুন পরিসর সৃষ্টির জন্য জালালের গল্প’র নির্মাতা আবু শাহেদ ইমন ও ছবির সাথে সংশ্লিষ্ট সকলেই আরো একবার ধন্যবাদ পাবার অধিকার রাখেন। অভিনন্দন ইমন ভাই। অভিনন্দন জালালের গল্প’র টিম।
11986965_10156004916495442_2323524293145204396_n