ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

আমি আগের এক লেখাতে উল্লেখ করেছিলাম যে, এক মুসলিমই রামুতে সাম্প্রদায়িক হাঙ্গামার পেছনে ছিল। অনেকে আমাকে বিশ্বাস করেছে। অনেকে না। যারা করেনি তারা সেই ‘উত্তম কুমার বড়ুয়া’-কেই দোষারোপ করতে থাকেন যেহেতু তার ফেইসবুক প্রোফাইলে ইসলাম অপমানের ছবি ট্যাগ হয়েছিল।

অবশেষে গ্রেফতার হলেন সেই মুসলিম ব্যক্তিটি। নাম: মোহাম্মদ আবদুল মোক্তাদির আরিফ; পিতা: শাহাবউদ্দিন; বাড়ি: শ্রীকুল গ্রাম, রামু। বাকি বিস্তারিত আমি আর পুনর্ব্যক্ত করছি না। সংবাদের রিপোর্টেই পড়ে নেবেন। নিচে শুধু রিপোর্টগুলো কপি-পেস্ট করে দিলাম।

চট্টগ্রাম, অক্টোবর ১০ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- রামুর সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের ঘটনায় পুলিশ চট্টগ্রাম থেকে এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে, যিনি ফেইসবুকে থাকা অবমাননাকর ছবি নামিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের দেখিয়েছিলেন।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, গ্রেপ্তার মো. আব্দুল মোক্তাদির আরিফ (১৮) রামুর শ্রীকূল গ্রামের শাহাবউদ্দিনের ছেলে।

তিনি চট্টগ্রামের শ্যামলী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার ডিপ্লোমা বিভাগের ষষ্ঠ সেমিস্টারের ছাত্র বলে এএসপি জানান।

তিনি বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে নগরীর মুরাদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাতেই তাকে কক্সবাজার নিয়ে আসা হয়েছে।”

উত্তম বড়–য়া নামে রামুর এক যুবকের ফেইসবুক প্রোফাইলে কোরআন অবমাননাকর ছবি থাকার অভিযোগ তুলে গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধ মন্দির ও ঘরবাড়িতে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর চালায় র্র্ধমীয় উগ্রপন্থীরা। রাতভর হামলায় সাতটি বৌদ্ধ মন্দির, অন্তত ৩০টি বাড়ি ও দোকান পুড়িয়ে দেয়া হয়। হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয় আরো শতাধিক বাড়ি ও দোকানে।

এএসপি বাবুল আক্তার জানান, ঘটনার দিন বিকালে আরিফ রামু বাজারে একটি মোবাইল ফোনের দোকানে বসে নিজের ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে উত্তম বড়–য়ার প্রোফাইলে যায় এবং সেইসব ‘অবমাননাকর’ ছবি স্থানীয় লোকজনকে দেখায় ও ডাউনলোড করে।

পরে রাতে এর প্রতিবাদ জানিয়ে রামু বাজারে সমাবেশ করে পাঁচ শতাধিক লোক। সেই সমাবেশ থেকেই মিছিল নিয়ে বৌদ্ধ বসতিতে হামলা চালানো হয়।

ঘটনার পর ‘ফারুক কম্পিউটার টেলিকম’ নামে ওই দোকানের মালিক ফারুককে আটক করা হয়। কিন্তু মুক্তাদির পালিয়ে ছিলেন।

পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আকতার বলেন, “মুক্তাদিরকে এখন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সে ঘটনায় জড়িত থাকার সত্যতা স্বীকারও করেছে।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/ইউএস/প্রতিনিধি/জেকে/১৭০৫ ঘ.

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

কক্সবাজার: কক্সবাজারের রামুতে ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে বৌদ্ধবিহার ও বসতিতে সহিংসতার সূচনাকারী সেই আবদুল মুক্তাদির আরিফকে আটক করা হয়েছে। তিনি অবমাননাকর ছবিটি ফেইসবুক থেকে নিয়ে প্রিন্ট করে বিলি করেছিলেন।

মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানাপুলিশ তাকে আটক করে। বুধবার মুক্তাদিরকে কক্সবাজারে নেওয়া হয়।

মুক্তাদির ফেনীর শ্যামলী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র। ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। মুক্তাদির রামু উপজেলার শ্রীকুল এলাকার সাহাব উদ্দিনের ছেলে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বাবুল আকতার বাংলানিউজকে জানিয়েছেন, মুক্তাদিরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি ঘটনায় জড়িত থাকার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

গোয়েন্দাদের তথ্যমতে, ২৯ সেপ্টেম্বর রামুর ফকিরাবাজারের ‘ফারুক কম্পিউটার টেলিকম’ নামের দোকানে এসে মুক্তাদির নামের পলিটেকনিক কলেজের এক শিবিরনেতা উত্তম কুমার বড়ুয়ার ফেইসবুক পরিদর্শন করে বির্তকিত সেই ছবিটি বের করেন। এরপর ছবিটি শত শত কপি প্রিন্ট করে সরবরাহ করা শুরু হয়। এ কাজে অংশ নেন আবদুল হক, রোহিঙ্গা জঙ্গি হাফেজ আহমদ, শিবিরের কর্মী খোরশেদ আলমসহ অনেকেই ।
ইতিমধ্যে ‘ফারুক কম্পিউটার টেলিকম’ এর মালিক ফারুককে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার দোকানের কম্পিউটারসহ অন্য মালামালও জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনায় সংশ্লিষ্ট রামু, উখিয়া ও টেকনাফে প্রায় ২০০ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের অনেককেই রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। এরা প্রাথমিকভাবে ব্যাপক তথ্য প্রকাশও করছে বলে জানা গেছে।

আদালত সূত্র বলেছে, এ ঘটনায় আটক ৫ জন ইতিমধ্যে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবাববন্দিও দিয়েছেন। ওই জবানবন্দিতে অনেকের নামও উঠে এসেছে।

প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যে বাংলানিউজে ‘রামুর হামলার পরিকল্পনাকারীরা শনাক্ত’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়েছে।

এবারে দেখুন তাহলে কি রকম ধর্মপ্রাণ(!) মুসলিম এরা। অপরের ধর্ম তো দূরের কথা, এরা নিজের ধর্মকেই সম্মান করতে জানে না। এইরকম অধার্মিক (সে যে ধর্মেরই হোক না কেন) পুরো ধর্মাবলম্বী জাতিরই লজ্জার কারণ। এদেরকে চিনুন। আপনার আশেপাশে থাকলে চিহ্নিত করুন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিন। আরেকটা রামুর ঘটনার মতো নেক্কারজনক কিছু ঘটার আগে এদেরকে সমাজ থেকে নিশ্চিহ্ন করুন। এটা মুসলিম হিসেবে মুসলিমদের, হিন্দু হলে হিন্দুদের, বৌদ্ধ হলে বৌদ্ধদের – সকলেরই দায়িত্ব। এক্ষেত্রে আমি মনে করি সকলেরই বাংলার সেই প্রবাদ পালন করা উচিত – “দুষ্ট গরুর চেয়ে শূণ্য গোয়াল ভালো”।