ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

 

সম্প্রতি ভারত-বাংলাদেশের মধ্যকার ৩-ম্যাচের ODI ক্রিকেট সিরিজের টানা দুই ম্যাচে ভারতের হারের পর পুরো বাংলাদেশ যেন আনন্দে ফেটে পড়ে। স্টেডিয়াম থেকে রাস্তা-ঘাট, অলি-গলি, পাড়া-মহল্লায় যেন আনন্দের মিছিল ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এরই মাঝে ঘটে যায় নিকৃষ্ট একটা ঘটনা। ভারতের সুনামখ্যাত একজন দর্শক, সুধীর কুমার গৌতম, যিনি প্রায় সকল ভারতের ম্যাচেই উপস্থিত থাকেন গ্যালারীতে দল জিতুক আর হারুক শেষ পর্যন্ত, আর সেটা অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড কিংবা যেকোনো দেশেই হোক না কেন, ছিলেন সেদিনকার ম্যাচেও। খেলার শেষে তিনি যখন গ্যালারী থেকে বেড়িয়ে যাচ্ছেন, তখন আনন্দরত দর্শকের মধ্য থেকে তার উদ্দেশ্যে ইট-পাথড় ছুড়ে মারা হয়। তিনি কোনো মতে যানবাহন করে তার হোটেল অবদি পৌঁছান। কিন্তু সেসব অতর্কিত ইট-পাথড়ে তিনি খানিকটা আহত হন।

এ তো গেলো ঘটে যাওয়া ঘটনা। এরপরে বাংলাদেশের মিডিয়া এই খবরকে নিয়ে নানা মারপ্যাচ লাগাতে থাকে। ভারতীয় মিডিয়া যখন এই খবরকে ফলাও ভাবে প্রচার করছে, তখন বাংলাদেশের গণমাধ্যম কোনো না কোনো ভাবে চেষ্টা করছিলো কিভাবে ঘটনাটিকে স্বাভাবিক হিসেবে ফলাও করা যায় সে নিয়ে ব্যস্ত। প্রসঙ্গত, এই ভিডিওটি দেখলেই এটি আরো পরিস্কার হবে। বাংলাদেশী সাংবাদিক কথা বলার সুযোগই দিচ্ছেন না সুধীর গৌতমকে তার পুরো বক্তব্য বলার। সাংবাদিক টেনে টেনে এনে যতটুকু শোনালে এটি প্রমাণ হবে যে সুধীর বাবু আহত হননি, ততটুকুই চেষ্টা করছিলেন এই অংশটি জুড়ে। বাংলাদেশের সাংবাদিকতার অপমান করতে চাচ্ছি না। কিন্তু এমনতর যদি একটা প্রাইভেট টিভি চ্যানেলের সাংবাদিকতার নমুনা হয়, তাহলে তো মানুষ সত্য কখনোই জানবে না। যেমনভাবে দর্শককে গেলাবে, তেমনটাই দর্শক গিলবে – সে যদি কোনো খুনও হয়, তাতেও খুনীকে ভূয়সী প্রশংসার পাত্র বানাতে কোনো অসুবিধাই হবে না এমন সাংবাদিকদের।

পরিশেষে এটুকুই বলবো, বাংলাদেশে দিন বদলের পালা চলছে। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার কাজ চলছে। উন্নতির শিখায় উঠতে উঠতে নিজের আগের অবস্থাকে ভুলে গেলে ভবিষ্যত খুব সুখকর হবে না। যতই বড় হোক না কেন দেশ, যতই উন্নত হোক না কেন ক্রিকেট, যতই আধুনিক হোক না কেন মানুষ – নিজের পেছন ইতিহাস ভুলে গেলে ক্রিকেটার নাসিরের ফেইসবুক নিয়ে যে ঘটনা ঘটেছে, রমনায় বর্ষবরণে নারীদের প্রকাশ্যে শ্লীলতাহানির যে ঘটনা ঘটেছে – এমন ঘটনা আরো বাড়বে। আগের কিছু লেখায় দিয়েছিলাম যে, যারা বুঝতে পারছে তারা নিজেদের মেয়েদের এমন দেশে বড় করতে সাহস পাবে না, কিংবা আগেই এমন ভবিষ্যতবাণী দিয়ে ফেলতে পারে যে ক্রিকেট ক্রেইজ থেকে নানা নোংরামীর সৃষ্টি হতে পারে। এই প্রবণতা যদি আরো বেশী চলতে থাকে তাহলে ভারতে কেন, বাংলাদেশেও কোনো প্রবাসীনী, বিদেশীনীরা পা ফেলতে এগোবে না। ধর্ষণ-শ্লীলতাহানি, নোংরা মন্তব্য, আবেগপ্রবল আঘাত – এসব যদি সামনের নব্য প্রজন্মকে বর্ণনা করে, তাহলে এমন ডিজিটালের চেয়ে সেই আগেকার গ্রাম্য থাকাই মন্দ না। যেই বাংলাদেশ, বাঙালীরা আতিথেয়তার জন্য অন্যান্য সমাজের কাছে প্রসিদ্ধ, তাদের যদি এমন ভবিষ্যত প্রজন্ম হয়, তাহলে নিজেকে বাংলাদেশী পরিচয় দিতেও দু’বার চিন্তা করে নেব।

পূর্বপ্রকাশিত