ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

 
murgi

আমি গত সপ্তাহে ঢাকার একটি বাজারে মুরগী কিনে বাজর থেকেই পরিস্কার করার জন্য একটি হাঁস-মুরগী ড্রেসিং-এর দোকানে যাই। মুরগী ড্রেসিং করার আগে মুরগীর পাখ নরম করার জন্য ফুটানো গরম পানিতে চুবানো হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় ঐ দোকানের হাঁড়ির ভিতর ফুটানো গরম পানির দিকে তাকিয়ে আমার মুরগী ড্রেসিং করার স্বাদ মিটে যায়।কারণ আমি যখন বাজারে গিয়েছি তখন বিকেল বেলা। আর ঐ হাড়ির পানি ফুটানো হচ্ছে সকাল থেকে। আমার মনে হলো সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ঐ হাঁড়িতে কমপক্ষে কয়েক শ’ মুরগী চুবানো হয়েছে। কিন্তু  ঐ পানি একবারও পরিবর্তন করা হয় নাই। ফুটানো পানি কমে গেলে ঐ পানির ভিতর আবার পানি ঢালা হচ্ছে। এভাবেই সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ঐ পানিতে মুরগী চুবিয়ে চুবিয়ে পানির আকার এমন ধারন করেছে যে নর্দমার কালো বিষাক্ত ময়লা পানির চেয়েও খারাপ অবস্থা।

আরেকটি খারাপ অবস্থা আমার চোখে পড়লো, সেটা হলো, যে মুরগীটিকে গরম পানিতে চুবানো হচ্ছে সেই মুরগীর গায়ে এবং পায়ে নানা রকম নোংরা ময়লা, মুরগীর পায়খানা বা বিষ্ঠা প্রচুর পরিমানে লেগে থাকে। কিন্তু এসব নোংরা ময়লাগুলোর কোন কিছুই পরিস্কার করা হচ্ছে না। মুরগীর ঐসব নোংরা ময়লা, বিষ্ঠা ও জবেহ করা মুরগীর রক্তসহ ফুটানো গরম পানিতে চুবানোর কারণে, সবকিছু মিশে গরম পানি বিষাক্ত পনিতে পরিণত হয়।

 

মুরগীর পায়খানা বা বিষ্ঠা কোনক্রমেই মানুষের খাবার উপযোগী খাদ্য নয়। গরম পানিতে মুরগী চুবানোর পর ঐসব বিষাক্ত জিনিষ মুরগীর চামড়া বা মাংসের ভিতর ঢুকে যায়। আমরা সেইসব বিষাক্ত মুরগীর চামড়া বা মাংস বিভিন্ন মসলা দিয়ে সুস্বাদু মজাদার রান্না করে আত্মীয়-স্বজনসহ মজা করে খাচ্ছি। তাৎক্ষনিকভাবে আমাদের শরীরে এসব বিষক্রিয়া কাজ না করলেও ধীরে ধীরে মানব শরীরের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। কাজেই এসব বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি দেয়া উচিৎ।

 

পরামর্শঃ মুরগী ড্রেসিং করার আগে ভালো পরিস্কার পানিতে ধুয়ে পরিস্কার করে তারপর গরম পানিতে চুবানো দরকার এবং নির্দিষ্ট পরিমান মুরগী চুবানোর পরে ঐ ময়লা পানি ফেলে দিয়ে আবার পরিস্কার পানি গরম করা উচিৎ।

slide