ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

 

জাতীয়তাবাদ মানে একটি অঞ্চলের জনসমষ্টির জাতীয় জীবন গড়ে তোলার মানসিকতা। যা নির্ভর করে ভৌগলিক, সামাজিক, প্রথাগত, বংশগত, ভাষাগত ও সাহিত্য-সাংস্কৃতিগত ঐক্য এবং আচার আচারণের উপর। জাতীয়তাবাদের ধারণা প্রথম প্রকাশ করেন ষোড়শ শতকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ম্যাকিয়ােভলী। আধুনিক বিশ্বে এই জাতীয়তাবাদের ধারণা রাজনীতির মূল মন্ত্র। ঠিক তেমনি বাঙ্গালী অস্তিত্বের এবং রাজনীতির প্রধান শক্তি বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ। আমরা বাঙ্গালী ভারতের প্রতিপক্ষ। বিশ্ব আসরে । শত বৎসর আগে অবিভক্ত ভারত কি এমনটা ভেবেছিল?

ভেবেছিল ! কিন্তু চেয়েছিল না এমনটা। কারণ ভারতবর্ষে শতবৎসরের পরাধীনতার পর প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম বা জাতীয় বিপ্লব শুরুহয় ১৮৫৭ সালে ২৯শে মার্চ বঙ্গদেশের ব্যারাকপুরে। তারপরে মীরাট, দিল্লী, যুক্তপ্রদেশ, মধ্যভারত প্রভৃতি স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে বৃিটিশ ভারতের উপনিবেশে বাঙ্গালীরা স্বাভাবিক ভাবেই বৃিটিশের শত্রু ছিল। তাছাড়া বঙ্গ ছিল বৃিটিশ বিরোধী সন্ত্রাসবাদের আখড়া। বলেই, আয়তনের কথা, জনসাধারণের প্রশাসনিক সুযোগ সুবিধার কথা বলে প্রথম যাত্রায় ১৯০৫ সালে বঙ্গ-কে ভঙ্গ  করে বিফল হয় এবং ১৯১১সালের ১২ই ডিসেম্বর রদ করা হয়।। পরের যাত্রায় ধর্মীয় সাম্প্রদায়ীকতার ধুঁয়া তুলে সফল হয়ে ছিল। এটা পরিকল্পনা করে করা হয়েছিল। ভেবেছিল বাঙালি দুই অংশে, দুই দেশে বিভক্ত থাকলে সাড়া জীবন পরাধীন থাকবে ।  ভারত বর্ষের বাঙালি দমিয়ে থাক! এই সবের মূল পরিকল্পনাকারী কিন্তু বৃিটিশরা এবং তাদের ভারতীয় দোসররা। কংগ্রেস-কে আমার বৃিটিশ-ভারতে বৃিটিশদের স্বার্থ রক্ষাকারী দল হিসাবে মনেহয়। এর উল্লেখযোগ্য কারণ কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা। কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৮৫ সালে অবসর প্রাপ্ত একজন ইংরেজ সিভিলিয়ন এ্যালেন অক্টোভিয়ান হিউম। অথচ ১৮৭৬ সালে সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি “ইন্ডিয়ান এসোসিয়েশন” গঠন করেন। যারা উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষিত ভারতীয়দের মধ্যে জাতীয় চেতনার সঞ্চার ঘটানো। “ইন্ডিয়ান এসোসিয়েশন” এর সাফল্য ছিল “সিভিল সার্ভিস বিধি” সংশোধন। এতে ইংরেজদের টনক নড়ে এবং ইংরেজ প্রধান্য বজায় রাখার জন্য কংগ্রেস প্রতিষ্টা করা হয়।ইংরেজরা কংগ্রেস পন্ডিতকে এটা বুঝাতে সফল হয় যে বঙ্গ-কে দাবিয়ে রাখতে না পারলে ভারতবর্ষ তাদের উপনিবেশে পরিণত হবেই। নেতাজী সুভাশ চন্দ্র-কে মারাও সেই পরিকল্পনারই অংশ ছিল।

কিন্তু আমরা তখনকার পূর্ব-বাংলা আজকের বাংলাদেশ, স্বাধীন। এই স্বাধীনতার চিন্তা করছিলাম ১৯৪৮ সালে, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ কর্তৃক ঘোষণা উর্দু হবে পাকিস্থানের রাষ্ট্রভাষা। তখন বাংলার তরুন সমাজ প্রতিবাদী হয় এবং  ১৯৫২ সালে তার প্রথম আঘাত । তারপর ১৯ বৎসর ধরে, ১৯৫৪ সালের নির্বাচন, ১৯৬৩ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালে ছয় দফা আন্দোলন  ও গলঅভ্যুথান, ১৯৭০ সালের নির্বাচন এবং সর্বোশেষ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা সংগ্রাম; একের পর এক আঘাত করে আমরা স্বাধীন হলাম। কেউ যদি মনে করে ৯ মাসে বাঙ্গালী স্বাধীন তাহলে ভূল করবে। ৯ মাস ছিল চুড়ান্ত পর্ব। সশস্ত্র সংগ্রাম। আমরা স্বাধীন। আমরা ভারতীয় না, আমরা বাঙালি। মহাত্না গান্ধী আমাদের জনক না, আমাদের জনক শেখ মুজিবুর রহমান। আমরা ভারতকে প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসাবে সন্মান করি। পূজা করিনা। প্রতিদ্বন্দীতা করি।

আগামী শতবৎসরের মধ্যে আমরা বাঙ্গালী প্রমান করে দিবো বিশাল দেহধারী ভারতের মাথা বাংলাদেশ। জয় বাংলা।

( বানানের রীতি নিজেস্ব )

——–মশিউর রহমান