ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

পুলিশ প্রধান বলেছেন, জঙ্গিরা জেএমবি সদস্য যারা গুলশানের হলি আর্টিসান বেকারিতে দেশি ও বিদেশী নাগরিকদের জিম্মি ও হত্যাকারী। অন্যদিকে আই এস দাবী করছে তারা আই এস এর সদস্য। সত্য কে ? না দুজনেই সত্য ? দুজনেই সত্য হলে সত্য কিন্তু এক রকম না, দুরকম। একদিকে ধামা চাপা দেওয়ার চেষ্টা অন্যদিকে আত্নপ্রকাশের চেষ্টা। আমার মনে হচ্ছে তারা প্রথমত: জেএমবি, দ্বিতীয়ত: আই এস সদস্য। শুরু জেএমবি দিয়ে তারপরে প্রমোশন পেয়ে আই এস। এটা অবশ্যই মহা সাংঘাতিক বিষয়। বিষয়টা  কেবল শুরু। তারা জেএমবি পর্যন্ত হলে অবশ্যই সরকারের এত দিনের যে না-না তার মুখ রক্ষা হয়! কিন্তু জঙ্গি তো জঙ্গিই! সে আইএস হউক আর জেএমবি হউক। কাজ তো সব জঙ্গি গোষ্ঠীর একই। সন্ত্রাসের মাধ্যমে শাসক গোষ্ঠীকে উৎখাত করে তাদের মতাদর্শ প্রতিষ্ঠা করা।

ধরলাম, তারা পুলিশ প্রধানের ভাষ্যমতে জেএমবি সদস্য। তারা পুলিশের তালিকা ভুক্ত। তাহলে পুলিশ কয়দিন আগে যে জঙ্গি ধরপাকড় করল তাতে তারা ধরা পড়েনি এবং ধরা পড়ল না কেন ? তার মানে শুধু জেএমবি সদস্য হলেও তারা এখন পুলিশের নখদর্পণের বাহিরে। তাদের হামলার ধরণ আর হালকা পরিসরে নয়। পুলিশ তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। অতএব আপনারা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য আপনাদের চেয়ে তারা বেশি কৌশলী। তাদের আর জেএমবি মনে করে ছোট করে দেখার দরকার বা অবকাশ নাই। আপনারা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা আর ঘোড়া বুঝ আমাদের দিয়েন না। বহু নাটক আমরা দেখলাম। আপনারা নিজেরায় নিজেদের নিরাপত্তা দিতে পারেনা। আপনাদের নাটক বন্ধ করা দরকার। আপনাদের কৌশল পরিবর্তন করা দরকার। দেশে বিদেশে আপনাদের বিভিন্ন ট্রেনিং নেওয়া দরকার। নিজেদের দুর্বলতা উল্টাপাল্টা বুঝ দিয়ে ঢাকার বৃথা চেষ্টা করে লাভ নাই। আমরা দেখলাম আপনারা কতখানি পারেন! সারা রাত পারলেন না আর মাত্র ২৫ মিনিটে সেনাবাহিনী থান্ডারবোল্ড দিয়ে সব সমাধান করে ফেললেন। আপনাদের যুগ যুগান্তরের মানসিকতার পরিবর্তন করা দরকার। আপনারা কেন সব সময় সরকারের আজ্ঞাবহ দাশে নিজেদের পরিণত করে রাখবেন ? দেশও জাতির মঙ্গলের জন্য স্বতন্ত্র সিদ্ধান্ত আপনাদেরও নেওয়ার ক্ষমতা আছে।।

ধরলাম  আই এস এর কথায় সত্য তারা আইএস সদস্য। তার মানে আইএস জানান দিল যে তারা বাংলাদেশেও কার্যক্রম শুরু করেছে।  বাংলাদেশেও তাদের জাল বিস্তার লাভ করছে। এটা পুলিশের বা গোয়েন্দা সংস্থার নাকের ডগার বাহিরে। তারা যে কোন  ঘটনা ঘটাবে তা পুলিশ বা গোয়েন্দা সংস্থা বুঝতেও পারবেনা। ঘটনা ঘটার পর জানতে পারবে। এটা আমাদের ভীতিকর। জীবন ও মৃত্যুর মধ্যে আমাদের থাকতে হবে। মৃত্যু সব সময় আমাদের পাশে ওঁত পেতে থাকবে আমরা বুঝতেও পারবোনা। সজনদের জন্য উৎকণ্ঠার মধ্যে থাকতে হবে। যে কোন সময় যে কোন কিছু ঘটে যেতে পারে। সেটা হতে পারে বাসে বা রেস্তরায় বা মসজিদে বা মন্দিরে বা হাটে বা ঘাটে; এক কথায় যেখানে ২০/২৫ জনের সমাগম সেখানেই হামলার শিকার আমরা হতে পারি।

তারা দেশীয় পরিচয় জেএমবি এবং আন্তর্জাতিক পরিচয় আইএসআই। তারা যাই হউক তারা জঙ্গি তারা চায় সরকারের পতন।  আমার ধারণা, জঙ্গি দের যে ধ্বংসযজ্ঞ ঢাকাতে শুরু হয়েছে তা একে একে সব বিভাগীয় শহরে তারপরে জেলা শহরে ছড়িয়ে পরবে। তাদের তাণ্ডবলীলা চলতেই থাকবে। এতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকার বেকায়দায় পরবে। অলরেডি পড়ে গেছে। কিন্তু পুলিশ মানতে নারাজ, তারা আইএস সদস্য। কারণ আইএস সদস্য হলে পুলিশ সামর্থ্যহীন। পুলিশের পক্ষে করার কিছু থাকবে না। কিন্তু আমাদের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী জঙ্গিদের আইএস মনে করে নিজেদের মনোবল নষ্ট করতে চান না। তারা তাদের অটুট মনোবল নিয়ে এগিয়ে যেতে চান। হউক সে আই এস বা জেএমবি। অবশ্যই এটা আমাদের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সৎ সাহস। “আমরা পারি” মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু শেষে তা যেন নাটক না হয়ে যায়!

সেই দুজন দেশ প্রেমিক বীর অফিসারের জন্য স্যালুট।

বর্তমান সরকারের একনায়ক মনোভাবের পরিবর্তন করা দরকার। কারণ তাদের বিপরীতে আছেন ডানপন্থী বিরোধী দল, যাদের কড়া ডোজই জঙ্গি। এতো সোজা হিসাব। যাদের সবকিছুর মুলে অস্থিরতা, ধ্বংস জীবন নাশ এবং সরকার পতনের মধ্যদিয়ে তাদের মতাদর্শ প্রতিষ্ঠা করা। আমরা সাধারণ জনগণ আমরা শান্তি চাই। আমরা ডান-বাম বুঝিনা, আমরা বুঝি শান্তি। আমরা শান্তি চাই। আমরা চাইনা দেশে বোমাবাজি হউক। আমরা চাইনা দেশ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলির মত অস্থির দেশ হউক।

 

-মশিউর রহমান

(বানানের রীতি লেখকের নিজেস্ব )