ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

১৮ দলের অশ্বডিম্ব(!) সদৃশ মহাসমাবেশ ঠেকাতে পুলিশের আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও তদানুযায়ী জানমালের নিরাপত্তা হেতু বরিশাল – ঢাকা রুটের লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিল গত কাল। আজ যে সকল মানুষ সেই অশ্বডিম্ব প্রাপ্তির আশায় (আমার মনে হয় বেশিরভাগই সাধারণ জনগণ যারা দৈনন্দিন কাজের তাড়নাতেই ঢাকা মুখী সাধারণ কার্যাবলী সমাধানের উদ্দেশ্যে) ঢাকা যেতে ইচ্ছুক তাদের ঠেকাতে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল সহ সকল ঘাটে সরকার এক বিশেষ বাহিনী মুতায়েন করেছেন। লাঠিয়াল আওয়ামী বাহিনী। কেউ কেউ বলছে লাঠিয়াল লীগ(!!) (আ.লীগের নতুন অঙ্গ সংগঠন)

খবরে প্রকাশ আজ সকাল হতে মহাসমাবেশে যোগদানকারীদের ঠেকাতে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে লাঠিয়াল বাহিনী মোতায়েন করেছে জাতীয় ঘাটশ্রমিক লীগ। বিশেষ এই বাহিনী পুলিশের উপস্থিতিতে লাঠিসোঁটা নিয়ে টহল দিতে দেখা যায় রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ও বুড়িগঙ্গা নদীতে। এ বাহিনী নাকি সুদূর মুন্সিগঞ্জ পর্যন্ত পৌছানো নৌপথ দাবরে বেড়াচ্ছে।

তাদের অত্যাচারে ছোট নৌকাগুলোর মাঝি ও যাত্রীদের (যারা কিনা ব্যবসাবাণিজ্যের কারনে প্রতিদিনের মত আজ নিজ নিজ কর্ম ক্ষেত্রে যোগদানের জন্য বেরিয়ে ছিলেন) মারধর করছে। আতঙ্কিত যাত্রীরা নৌকা থেকে দ্রুত নামতে গিয়ে এ সময় একটি নৌকা ডুবে যায়। তবে এতে কোন প্রকার হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

ডিজিটাল সরকারের এমন এনালগি কাজ কারবার দেখে কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন “ঢাকা আশা যাবে না সরকারীভাবে এমন ঘোষণা না দিয়ে কেন আমাদের আটকানো হচ্ছে। সরকার তো বলে দিতে পারতো আজ একদিনে জন্য ঢাকা শহরের সকল কার্যক্রম যেমন চাকুরী, ব্যবসা-বাণিজ্য ইত্যাদি স্থগিত করা হয়েছে। তা না করে আমাদের আটকানো হচ্ছে কেন? কেন আমাদেরকে সরকারের গুণ্ডা বাহিনীর হাতে লাঠি পেটা হতে হবে?”

এমন ঐতিহ্যবাহী একটা দল কেন এমন আচরণ করছে তা বোধগম্য নয়। তাদের তো এটা জানা যে স্রোত বাধাপ্রাপ্ত হলেই বেগবান হয়। তাদের নীতিনির্ধারকেরা কেন একটু ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না?

সাধারণ মানুষের একটাই প্রশ্ন নিজ দেশে আমরা আর কত কাল পরবাসী হয়ে থাকবো? আমরা ১৮ দলের মহাসমাবেশ (অশ্বডিম্ব সদৃশ) ও চাইনা কিংবা চাইনা তা ঠেকাতে পুলিশ আবহাওয়া বিশারদ হক বা কোন লাঠিয়াল বাহিনী লগি, বৈঠা নিয়ে টার্মিনালগুলো পাহারায় নিয়োজিত হক।

আমরা চাই শান্তি আর একটুখানি স্বস্থি। আমাদের এই চাওয়া কী বড় বেশি চাওয়া??

তথ্য ও ছবি: প্রথম আলো;
মানব জমিন