ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

 

দুদক সার্টিফিকেট দিয়েছিল পদ্মা সেতু প্রকল্পে কোনও প্রকার দুর্নীতি হয়নি। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন যেখানে সেতু নির্মাণ শুরুই হয়নি সেখানে দুর্নীতির প্রশ্ন উঠতেই পারে না। আর আমাদের বামে মন্ত্রীর (বাস কন্ট্রাক্টরদের ভাষ্য – “উস্তাদ ডাইনে প্লাস্টিক আর বামে আবুল”) টসটসে পাকা টমেটোর মত মসৃণ হাসি মুখের কথা আর নাই বললাম।

সরকারের মধ্যে এমন কাউকে পাওয়া ভার যারা বিশ্ব ব্যাংকের এই ক্ষুদ্র(!!) অভিযোগের ভিত্তিতে অর্থ বরাদ্দ বন্ধের সমালোচনা করেননি। অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণের জন্য আমাদের বামে মন্ত্রীকে কিক আউট না করে মন্ত্রণালয় (অনেকে বলেন প্রমোশন দিয়ে) তদস্থলে অন্য দুই জন জাদরেল রাজনীতিবিদ কে দায়িত্ব দিয়েছিলেন, এক যোগাযোগ মন্ত্রণালয় ভেঙে দুটি স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় গঠন করে।

তার একজন রেলের কাল বিড়াল ধরতে গিয়ে নিজেই বস্তা ভর্তি কাল বিড়াল উপহারের জন্য বসে নিশি অবসান করে শেষ মেষ নিজেই নিজের প্রদত্ত কাল বিড়াল খেতাব বগল দাবা করে নিয়েছেন।

আর দ্বিতীয় জন অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে অগ্রসর হচ্ছেন। “ডু অর ডাই” মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে। যে করেই হক সেতুটা উপহার বাংলার জনগণকে দিতেই হবে। বিশ্ব ব্যাংক যেহেতু ফালতু (!!) একটা অভিযোগে অর্থ বরাদ্দ স্থগিত করেছে, তাই আমরা দেখিয়ে দিব তাদের সাহায্য ছাড়াই আমরা এমন প্রকল্প বাস্তবায়ন করার সমর্থ রাখি! সে জন্য তার সে কী দৌড়ঝাঁপ। কখনো শুনছি মালয়েশিয়ার সাথে তো চুক্তি স্বাক্ষর এই হয়েই যাচ্ছে!! তবে তার মানসিকতা, তার চেষ্টা প্রশংসা যোগ্য।

তবে তিনি বেশি প্রশংসিত হতেন যদি সাবেক বামে মন্ত্রীর সময়কার বিশ্ব ব্যাংকের অভিযোগটা আমলে নিয়ে তা সমাধান করে সেই বিশ্ব ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সেতুর কাজে হাত দিতেন। এতে হয়তো তার ডান-বামের হাত হতে কিছু মাংস ছাটাই বাছাই করতে হতো। আমি নিশ্চিত তিনি আরো বেশি প্রশংসিত হতেন। আর ওই স্বপ্ন সেতুর কাজের কিছুটা হলেও আমজনতার দেখার সৌভাগ্য হতো (এখন তো শুধু টিভির পর্দায় মনোরম কার্গো ট্রেন চলতে দেখছি)। কিন্তু তিনিও দেশের চেয়ে নিজের বাহুর বেদনার কথাই বেশি ভাবলেন আর আমাদেরকে সেই স্বপ্ন সেতু দেখার সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত করছেন।

যাই হোক যা বলতে চাচ্ছিলাম এই মেগা প্রজেক্ট থেকে কর্তাদের “শুধু পরামর্শক থেকে কমিশন প্রাপ্তির আশা ছিল ৪ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার!!” কি ভাবে? খবরে প্রকাশ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান “এসএনসি-লাভালিন” কে কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য তাদের কাছে ১০ শতাংশ হারে অর্থ কমিশন চেয়েছিলেন যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের তিনজন শীর্ষ কর্তা ব্যক্তি। আর এই প্রজেক্টের পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ ছিল চার কোটি ৭০ লাখ ডলার।

সোজা হিসাব ৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার এর কমিশন ৪ দশমিক ৭ মিলিয়ন তথা ৪৭ লক্ষ ডলার!! সম্প্রতি অবৈধ অর্থের লেনদেনের জন্য এসএনসি-লাভালিনের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়েরে দুহাইম গ্রেপ্তার হওয়া পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য পেয়েছে কানাডার পুলিশ। আর বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে এই তথ্য পেয়েছে আমাদের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ওই প্রতিবেদনে সোনার বাংলার সাচ্চা আর খাঁটি সোনায় মোড়ানো প্রভাবশালী রাজনৈতিকদের সম্পৃক্ততার তথ্যও রয়েছে বলে প্রকাশিত হয়েছে।

এই নিয়ে দুদক তাদের দেওয়া “কোন দুর্নীতি হয়নি” সার্টিফিকেট বদলাতে (হতে পারে ক্যানসেল করতে) ফের তদন্তে নেমেছে। যার ফলশ্রুতিতে গতকাল আমরা দেখলাম জাতীয় সংসদের হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটনের ভাই নিক্সন চৌধুরীকে অতি চাতুর্যের সহিত নিজের মুখটি টিভি ক্যামেরাকে ফাঁকি দিয়ে অতি দ্রুত সটকে পড়তে দুদকের ভিআইপিদের জিজ্ঞাসাবাদের রুম থেকে।

তথ্য ও ছবি: প্রথম আলো অনলাইন