ক্যাটেগরিঃ নাগরিক সমস্যা

বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট বিপর্যয়ের খবর একটি নিত্য ঘটনা। তবে ফ্লাইট বিপর্যয়ের ঘটনা মারাত্মক আকার ধারন করে এই হজ্জ মৌসুমে। আজও দেশের প্রধান দৈনিকগুলোতে বিমানের ফ্লাইট বিপর্যয় ও এর কারণে যাত্রীদের মাঝে উত্তেজনা। হজ্জ মৌসুমে আপনি যদি ঢাকার হযরত শাহ্‌ জালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে গিয়ে থাকেন তবে সবার আগে আপনার চোখে পরবে বিমানের যাত্রীদের দীর্ঘ জটলা। ফ্লাইট বিপর্যয়ের কারনে যাত্রীরা যে সীমাহীন দুর্ভোগের স্বীকার হন তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। ঢাকার বাইরের জেলাগুলো থেকে আগত যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে।
ফ্লাইট বিপর্যয়ে যাত্রীরা যতোটা না শারীরিক কষ্টের স্বীকার হন তার চেয়েও বহুগুণ কষ্টে বা আতংকে ভোগেন চাকরি হারানোর ভয়ে বা ভিসার মেয়েদ শেষ হয়ে যাচ্ছে আর ওদেশে যাওয়া যাবেনা এমন একটা ভয়ে।

এখানে আমি সেই সব আতঙ্কগ্রস্থ ভাইদেরকে বলছি, আপনারা আতঙ্কিত হবেন না। বিমানের ফ্লাইট বিপর্যয়ের কারনে সঠিক সময়ে কর্ম ক্ষেত্রে যোগদান সম্ভব অনেক সময় নাও হতে পারে। আর এর জন্য কারো চাকরী হারাতে হয়েছে বলে আজ পর্যন্ত কোন তথ্য জানা নেই। তবে কোম্পানিতে কারন দর্শাতে হতে পারে। এ ক্ষেত্রে কারন দর্শানো বড় কোন ব্যাপার বলে আমি মনে করি না।

বর্তমানে ঢাকার বিমানবন্দরে যারা ফ্লাইট বিপর্যয়ের কারনে অপেক্ষার প্রহর গুণছেন তাদের বলছি আপনারা একদম আতঙ্কিত হবেন না, বিশেষ করে চাকরী হারানোর ভয়ে তো নয়ই। এখানে উল্লেখ্য যে কিছু কিছু কোম্পানি এভাবে দেরিতে কাজে যোগ দেওয়ার কারনে অনুপস্থিত দেখিয়ে সেই দিনগুলির বা তার ডাবল বেতন কাটতে পারে যদি আপনি যথাযথ কারন দেখাতে না পারেন। তবে এমন কোম্পানির সংখ্যা খুব বেশী নয়।

এবার আসছি ““ভিসার মেয়াদ শেষ”” প্রসঙ্গে। আমার জানামতে ভিসার মেয়াদ মানে এক্সিট – রি এন্ট্রি এর মেয়াদ শেষ হওয়া। এতেও আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও একটু সমস্যা নিশ্চয়ই হবে তবে এটা আতঙ্কিত হওয়ার মত বড় কোন সমস্যা নায়। আপনার উচিত আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধারন করা। কারন আপনি নিশ্চয়ই জানেন বর্তমানে আপনার ওয়ার্ক পারমিটের (আকামার) মেয়াদ আপনার এক্সিট – রিএন্ট্রি ভিসার মেয়াদের চেয়ে অন্তত তিন মাস বেশী আছে। মনে রাখবেন এই সময়ের মধ্যে আপনি সেই দেশে যেতে পারবেন। তবে এর জন্য অতিরিক্ত কিছু পরিশ্রম আপনাকে ও আপনার কফিল (মালিক) বা কোম্পানিকে করতে হবে। আপনার কোম্পানি বা কফিল ভাল হলে, আর সেখানে আপনার অবস্থান খারাপ না হলে কোম্পানি বা কফিল এটুকু পরিশ্রম করতে কুণ্ঠিত হয়না। সুতরাং ফ্লাইট বিপর্যয়ের কারণে আপনার ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও আপনার এতোটা উৎকণ্ঠিত হওয়ার কিছু নেই।

পরিশেষে মধ্যপ্রাচ্য বিশেষ করে সৌদি প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে বলছি আমারা যে দেশপ্রেম আর দেশের বিমানের প্রতি ভালবাসা আর মমতায় বিমানের টিকেট কিনি একটু বেশী পয়সায় হলেও, আমাদের উচিত হজ্জের মৌসুমের দিকটা একটু খেয়াল রাখা। আপনার দেশে আগমনের তারিখটা যদি কুরবানির ঈদের পরপর (মানে হজ্জের পর) আর দেশ থেকে গমনের তারিখটা যদি হজ্জের পূর্বে হয়ে থাকে তবে বিমান বাদে অন্য কোন এয়ারলাইনে টিকেট কিনুন। এতে আপনি শারীরিক ও মানুষিক উভয় প্রকার দুঃচিন্তা থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন।