ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

রাজনৈতিক মাঠে মারামারি কাটাকাটি এটা নতুন কিছু নয়। লীগ আর দলের ধাওয়া পালটা ধাওয়া, জ্বালাও পোড়াও এটা আমাদের রাজনৈতিক খেলার নিত্য সঙ্গী। প্রধানমন্ত্রী কথায় কথায় বলেন বিরোধী নেত্রী নাকি লাশ চায়। হতে পারে বিরোধী নেত্রী লাশ চায় সেই লাশ নিয়ে তাঁর রাজনীতি, এটা উনাদের রাজনৈতিক খেলার একটি অংশ হলেও হতে পারে। কিন্তু তাঁর হাতে সরকার কেন বার বার লাশ তুলে দিচ্ছে??

অবস্থা দৃষ্ট মনে হয় বিরোধী নেত্রী নয় বরং প্রধানমন্ত্রী আর তাঁর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীই এই লাশ চাচ্ছেন। আর সেই লাশ তাঁরা পেতে পারে ছাত্রলীগ নামক জঘন্য পশু লীগের কাছ থেকে। তাইতো ম,খা সাহেব অর্ডার দিয়েছিলেন পশু লীগ কর্মীদেরকে বিরোধী দল দমানোর আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পরতে। সেই আস্কারায় পশু লীগ কর্মীরা ঝাঁপিয়ে পরল। বিরোধী নেত্রী বা প্রধানমন্ত্রী পেয়ে গেলেন একটি লাশ। এটা কারল লাশ? শিবির কর্মীর নাকি সাধারণ কোন পথচারীর তা দেখার সময় কোথায় ঐ উন্মত্ত পশুদের! ওদের দরকার বিরোধী নেত্রী বা প্রধানমন্ত্রীকে একটা লাশ উপহার দেওয়া, সুতরাং একটি লাশই দরকার হোক তা কোন সাধারণ পথচারী। সাধারণ পথচারী হলে তো ওদের জন্য ভালই। বিরোধী হলে তো প্রতিরোধের মুখে পরতে হতে পারে সেখানে নিরীহ পথচারী হলে তো সে আশঙ্কাও থাকে না।

সুতরাং ছাত্রলীগ বা পশু লীগ নামক হিংস্র জানোয়ারের দল বিশ্বজিৎ নামক নিরীহ হরিণ শাবকের উপর ঝাঁপিয়ে পরল, তাঁর রক্তের উপর উন্মত্ত পৈশাচিক নৃত্য করল। আমরা অন্য নিরীহ হরিণ শাবকেরা সাংবাদিক ভাইদের কল্যাণে সেই উন্মত্ত নৃত্য দৃশ্য অবলোকন করলাম, হায় হায় করে নিজেদের রক্ত হীম করলাম। পাশেই দেখলাম পোশাক ধারীরা কেমন নির্বিকার; এদের মাথার টুপিতে স্পষ্টাক্ষরে লেখা “বাংলাদেশ” আর হাতে “জানমালের রক্ষাকবচ”! এক সাংবাদিকের কল্যাণে এদেরই একজনের মুখ থেকে শুনতে পারলাম “হতে পারে এটা কোন জামাত শিবিরের কর্মী করেছে” হায়রে জানমালের রক্ষাকারী! ধিক তোকে শত ধিক! ওরা মামলা করে অজ্ঞাত হত্যাকারীদের নামে! ওরা হত্যাকারীদের খুঁজে পায়না!! জানি পাবেও না। পেলেও রাষ্ট্রপতি তো আছেই খুনিদের বাঁচাতে।

আমাদের দেশে লাশের রাজনীতি বহু পুরোনো। এমন পশু জানোয়ারদের উন্মত্ত নিত্য দৃশ্য এর পূর্বেও দেখার দুর্ভাগ্য হয়েছে এই অভাগা জাতির। লাশের ওপর উল্লাসনৃত্যের দৃশ্য সর্বপ্রথম দেখা গিয়েছিল ২০০৬ সালের ২৮শে অক্টোবর। সেদিন রাজধানীর পল্টনে লগি-বৈঠার নির্মমতার শিকার হয়েছিলেন জামায়াত-শিবিরের ছয় নেতাকর্মী। লাশের ওপর দাঁড়িয়ে উল্লাসনৃত্য করেছিল হত্যাকারীরা। ওটা রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে বিরাট প্রভাব ফেলেছিল। তার পর এই সরকারের আমলে আবার দেখার দুর্ভাগ্য হয়ছিল নাটোর উপজেলা চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ বাবুকে পিটিয়ে হত্যা করে উল্লাস প্রকাশের সেই নির্মম দৃশ্য। যা করেছিল এই জানোয়ারের দল। ওগুলো ছিল রাজনৈতিক বলি। কিন্তু এই নির্মম উল্লাস বর্বরতা থেকে বর্তমানে আর রক্ষা মিলছেনা সাধারণ পথচারীর।

কেন ঐ পশুর দল এমন বেপরোয়া আচরণ শুরু করল? কেন ওরা মানুষ রূপী পশুতে পরিনত হল। কি এমন মহা শক্তি ওদের এমন আচরনে উৎসাহিত করছে। এটার কারন মনে হয় রাষ্ট্রপতির সেই ক্ষমার উদারতা!! রাষ্ট্রপতি একের পর এক ফাঁসির আসামিকে খালাস করে ইতি মধ্যে বাংলাদেশের এই ৪০ বছরের ইতিহাসে রেকর্ড গরে ফেলেছেন। আর এসব দেখে উৎসাহিত হচ্ছে মানুষ রূপী জানোয়ারেরা।

বাংলাদেশের ৪০ বছরের ইতিহাসে বর্তমান সরকার বিরল যে রেকর্ডের জন্ম দিয়েছে তাঁর একটি হল ফাঁসির আসামীকে ক্ষমা করা। খবরে প্রকাশ স্বাধীন দেশে ৪০ বছরে সর্বমোট ২৫ ফাঁসির আসামি ক্ষমা পেয়েছে। আর এর ২১ জনই ক্ষমা পেয়েছে বর্তমান সরকারের তিন বছরের শাসনামলে। ক্ষমা পেয়ে পেয়ে ওরা হয়ে পরেছে উন্মত্ত এক একটা হায়না। যে হায়নাদের সর্বশেষ স্বীকার নিরীহ বিশ্বজিৎ।

গতকাল হানিফ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিল নিরীহ বিশ্বজিৎ এর মৃত্যুর দায় তাঁদের নয়। তা হলে এই দায় কার? এ দায় কি তা হলে আমাদের, সাধারণ পথচারীর যারা বিরোধীদের হরতাল অবরোধ অমান্য করে পেটের দায়ে কর্ম ক্ষেত্রে যাবার পথে সরকার দলীয় উন্মত্ত হায়নাদের নির্মম হত্যার স্বীকার? এ দায় কি তাহলে আমাদের পেটের ক্ষুদার? না না না।

এর জন্য দায়ী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর যার নির্দেশে ওরা বেপরোয়া। এ দায় আইন মন্ত্রীর যার আইন বাচিয়ে দেয় ফাঁসির আসামীকে। এ দায় প্রধান মন্ত্রীর যিনি দেশের জনগনের নিরাপত্তা রক্ষায় অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়ে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। সর্বোপরি এ দায় রাষ্ট্রপতির যিনি ফাঁসির আসামীদের একের পর এক ক্ষমা করে ওদের এমন উন্মত্ত হায়নায় পরিনত করেছে।

(কৃতজ্ঞতা: কয়েকটি অনলাইন দৈনিক সংবাদ পত্র)
ছবি ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমা সংক্রান্ত তথ্য: মানবজমিন অনলাইন।ctgtimes.com