ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

ইউরোপ, অ্যামেরিকা ও দুবাইতে বসবাসরত তিন ছেলে-মেয়েকে তিন বোতল খাঁটি সরিষার তৈল পাঠালেন দেশ থেকে এক বৃদ্ধ বাবা যেন তাঁর ছেলে-মেয়ে নাকে ঐ জিনিস (তৈল) দিয়ে শান্তিতে ঘুমাতে পারে। যদিও ব্র্যান্ড নেম গোপন রেখে বিশেষ কোড ব্যাবহার করে খোলা বাজার থেকে সংগ্রহ করা তেল বিএসটিআই কর্তৃক টেস্টের পর দেখা গেছে দেশের কোন কোম্পানির সরিষার তেলের মধ্যেই কেমিক্যাল ছাড়া সরিষার একটি দানার নির্জাসও নেই। ঘুমানোর জন্য এ জিনিস তাই খাঁটি বা কেমিক্যাল সে প্রশ্ন অবান্তর। ঐ বৃদ্ধ বাবার ছেলে-মেয়েরা কি কারণে এতকাল শান্তিতে ঘুমাতে পারেননি তা আর নাই বা বললাম। উনার ছেলে-মেয়েরা শান্তিতে একটু ঘুমাতে পারবেন এটা ভেবেই বৃদ্ধ পিতার মনঃতৃপ্তি, এপর্যন্তই থাকি। কারন প্লট কিনে সব সময় যে শান্তিতে ঘুমানো যায়না তা অনেকেরই জানা। তাছাড়া নিচের ছবিটার দিকে একটু নজর দিলে আরও স্পষ্ট হবে।

এক পুকুরের তিনপাড়ে তিন সিটি

যে কথাটা বলার জন্য আজ কিবোর্ডে উপর আমার এই আক্রমণ সেটা আমাদের ঐ যে পুল না কি জানি একটা হবার কথা ছিল সর্বনাশী পদ্মার উপর, তা নিয়ে। হাসান – হোসেন কিংবা জোরা আবুল, যাই বলি না কেন তা নিয়ে বেশ কিছুদিন দেশের আপামর জনগণ বেশ আমোদ আহ্লাদেই যে ছিল তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। পত্র চালিচালি ও কম হয়নি উভয় পক্ষ থেকে। চূড়ান্ত পরিণতির জন্য আমাদের প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে বিশ্বব্যাংককে জানুয়ারির শেষ দিন পর্যন্ত আল্টিমেটাম দেওয়া হল। যদিও তিনি “হাসান নয় কেন? শুধু হোসেন কেন?” প্রশ্ন করেছিলেন যাতে আমরা একটু হলেও বিভ্রান্তির মধ্যে পরেছিলাম। এবং আমার অন্তরে তখন ছোট করে এক প্রশ্ন বুদবুদ আকারে উঠতে চেয়েছিল; এটা জানতে যে “প্রধানমন্ত্রীর কাছে হাসানের চেয়ে হোসেন এত গুরুত্বপূর্ণ হল কেন? কিংবা বিশ্বব্যাংক হাসানের চেয়ে হোসেন কে কী বেশী করাপ্টেড মনে করেছিল? বা বিশ্বব্যাংক কি হাসান হোসেন দুজনকেই সমান করাপ্টেড বলেছিল?” কিন্তু জিজ্ঞাসা বুদবুদ অবস্থাতেই ধ্বংস করেছিলাম। কারন এসব প্রশ্ন সবার পক্ষে করা সম্ভব নয়।

যাই হোক প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রদেয় আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার একদিন পূর্বে বিশ্বব্যাংক প্রধান দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্সের কথা উল্লেখ করে জানিয়ে দেন শর্ত পূরণ না হলে পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন সম্ভব নয়।

জবাবে বাংলাদেশ সরকার গত বৃহস্পতিবার এক চিঠিতে বিশ্বব্যাংককে জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা পদ্মা সেতুর জন্য অর্থায়নের অনুরোধ প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। বিবৃতিতে আরও নিশ্চিত করা হয়েছে, পদ্মা প্রকল্পে দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে তদন্ত চালিয়ে যাওয়া হবে। এর জবাবে বিশ্বব্যাংকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ সরকারের পদ্মা সেতুতে অর্থায়নের অনুরোধ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত আমলে নিয়েছে এবং এ প্রকল্পে দুর্নীতির পূর্ণ ও নিরপেক্ষ তদন্ত শেষ করার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে উৎসাহ দিচ্ছে।

এভাবে পদ্মার পুলের উপর বসে বিশ্বব্যাংকের ইলিশ শিকারের আশার আলো নিভে যাওয়ার পর আরেক সহযোগী অর্থদাতা এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও পদ্মা পুলে তাঁদের সহায়তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তাঁদের কথা হল প্রধান অর্থ দাতা যেখানে থাকছে না (রাখা হচ্ছে না) সেখানে আমরা থেকে লাভকি? তাঁদের কথার সুর অনেকটা এমনই। শুক্রবার রাতে এক বিবৃতিতে এডিবি জানিয়েছে, “এই প্রকল্পের প্রধান অর্থদাতা ছিল বিশ্ব ব্যাংক। এডিবি, জাইকা ও আইডিবি সহযোগী অর্থদাতা। তাই অর্থায়নে প্রধান দাতা বিশ্ব ব্যাংক না থাকায় এডিবিও সেখানে থাকতে পারে না”। অর্থাৎ এডিবি ও আর পদ্মার রূপালী ইলিশের স্বাদ নিতে আগ্রহী নয়।

এবার বাকী থাকলো জাইকা ও আইডিবি। সরকার কি এদের ধরে রাখতে পারবে? যদিও সার্বিক বিবেচনায় অর্থের পরিমাণ কম তবুও পদ্মায় সেতু সত্যি চাইলে এদের ধরে রাখা উচিত। না পারলে পুরো অর্থের অন্বেষণ করতে হবে নতুন করে। (শেষ পর্যন্ত জাইকা, আইডিবি ও থাকলো না। – পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়ালো জাইকাও আইডিবি)। এই বিপুল পরিমান অর্থ জোগান দিয়ে মাত্র দুইমাসের মধ্যে সরকার কি পারবে পদ্মার বুকে পিলার বসাতে? এটা কি সত্যি বাস্তব বোধ সম্পন্ন চিন্তাধারা? যদি সত্যি সংশয় থাকে তবে কেন মন্ত্রীরা এমন অবাস্তব কথা বলে মুখে ফেনা তুলছেন।

কেমন করে এমন সব বানী এখনো তাঁদের মুখ থেকে নির্গত হচ্ছে? লজ্জা শরমে বালাই না থাকলেই বোধ হয় এমনটা সম্ভব।
পদ্মা সেতুর কাজ দুই মাসের মধ্যে’ অর্থমন্ত্রী / মানবজমিন

আগামী মাসেই পদ্মা সেতুর টেন্ডার: অর্থমন্ত্রী / বাংলা নিউজ২৪ ডট কম

দুই মাসের মধ্যে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ –শুরু হবে – অর্থমন্ত্রী /কালের কণ্ঠ

……….. ইত্যাদি ইত্যাদি শিরোনামে অনলাইন পত্রিকাগুলো ভরপুর।

পদ্মায় অর্থায়ন থেকে বিরত হয়ে বা অর্থায়ন করা থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হয়ে এখন বিশ্বব্যাংক বিজ্ঞাপনের ঐ বুড়ো বাপের ছেলেমেয়েদের মত নাকে তেল দিয়ে ঘুমাবে; এটাই স্বাভাবিক। একই ভাবে আমারাও চাই আমাদের অর্থমন্ত্রী বা অন্যান্য মন্ত্রীরাও নাকে একটু বেশী পরিমাণ তৈল দিয়ে কিছু দিন ঘুমাক।

আগামী মাসে টেন্ডার আহ্বান করতে পারব। এর পর ৪৫ দিন সময় লাগবে। সব মিলিয়ে দুই মাসের মধ্যে সেতুর কাজ শুরু করতে পারা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী”

উল্লেখিত এমন অনর্থক কথা আর না বলে তাঁদের উচিত ব্যাঙের মত শীত নিদ্রায় যাওয়া। একই ভাবে আমাদেরও বোধ হয় উচিত হবে কেমিক্যাল যুক্ত বা সরিষা বিহীন সরিষার তেল নাকে দিয়ে ঘুমিয়ে যাওয়া অথবা দায়িত্বপ্রাপ্তদের এমন কথার আর গুরুত্ব না দেওয়া (অনেকে খুব একটা হয়তোগুরুত্ব দিচ্ছেও না)।

এক আবুলকে বাঁচাতে গিয়ে ১৬ কোটি মানুষের মুণ্ডুতে যেন অতিরিক্ত ঋণের বোঝা না চাপে সে দিকটা অবশ্যই লক্ষ রাখতে হবে। অন্তিম মুহূর্তে বিশ্বব্যাংকে বাদ দিয়ে মালয়শিয়া, চীন বা ভারতের ঋণে সেতু হোক কোন আপত্তি নেই। তবে অবশ্যই লক্ষ রাখতে হবে আবুলকে বাঁচানোর কারণে দেশের ১৬ কোটি মানুষের উপর অতিরিক্ত ঋণের বোঝা চাপালে তার খেসারত সরকারকেই দিতে হবে।
তার চেয়ে বলি কি এই চিন্তাটা আপাতত বাদ দিয়ে নাকে তেল দিয়ে ঘুমান। দুই মাসের মধ্যে নয় আগামীতে সরকার গঠন করতে পারলে তখন না হয় ধীরে সুস্থে শুরু কবতে পারবেন। অতি তাড়াতাড়িতে (কিংবা বাড়াবাড়ি করে করলে) কোন কাজই যে ভাল ভাবে শুরু বা শেষ করা যায় না সেটা বুঝতে দার্শনিক হওয়ার প্রয়োজন নেই। তাই প্রধান মন্ত্রীর উচিত তাঁর মন্ত্রীদের বলা –“নে বাবা, নাকে তেল দিয়ে এবার একটু ঘুমা”
সম্মানিত ব্লগার ও পাঠক বন্ধুগণ আপনারা পদ্মার ঘটনাগুলোর বিষয়ে নিশ্চয়ই অবগত আছেন। এর পরও এক নজরে এখানে ক্লিক করে চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন। পদ্মা সেতুর ঘটনাপঞ্জি

সাম্প্রতিক খবরে জানা গেল বিশ্বব্যাংক এলজিএসপি প্রকল্পের ২০০০ কোটি টাকা আটকে দিয়েছে। কিন্তু কেন? সরকার এই অর্থ আটকে দেওয়ার সঠিক ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য বিশ্বব্যাংকের প্রতি জোরালো চাপ প্রয়োগ করবে বলে আশা করছি।

আমরা কি পারব বিশ্বব্যাংককে বাদ দিয়ে দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে। যদি পারি, সেই মনের জোর, সাহস আর অর্থ জোগাড় করার মত সামর্থ্য থাকে তবে বিশ্বব্যাংক নামের মাতাব্বরদেরকে এখনই না বলতে হবে; বিশ্বব্যাংককে না বলুন আওয়াজ তুলতে হবে জনে জনে ১৬ কোটি কণ্ঠে। আর যদি তাঁদের কাছে যেতেই হয়, তেমন সামর্থ্য অর্জনের যদি এখনো বাকী থাকে তবে তাদেরকে খেপিয়ে মাতাব্বরির মাত্রাটা অসহনীয় করা কেন?? তাঁর চেয়ে বরং কৌশলে ওদের মাতাব্ববরি সহনিয় পর্যায়ে রেখেই নিজেদেরকে সামর্থ্যবান করে তোলার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। ওদের কাছে যতদিন আমাদের হাত পাততে হবে ততদিন ওদের মাতাব্বরি স্বাভাবিক ভাবেই মেনে নিতে হবে। সুতরাং যতদিন সেই সামর্থ্য আমাদের না হচ্ছে ততদিন অনেক বেশী কৌসুলি হয়ে কাজ আদায় করে নেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। নিজেরা সামর্থ্যবান হওয়ার পরই কেবল পারব ওদের বুড়ো আঙ্গুল দেখাতে। তার পূর্বে নয়। তার পূর্বে এটা করতে গেলে নাকানি চোবানি আমাদেরকেই খেতে হবে।।