ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

বর্তমান দেশের গণতন্ত্র কি পর্যায়ে আছে তা আমরা সকলেই জানি। একে গণতন্ত্র বলা যায় কিনা এতে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। আমাদের গণতন্ত্র বহুদিন থেকেই বন্ধী হাসিনা – খালেদার হাতে। ‘‘৯০ এর দশকে যারা মনেপ্রানে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছিলেন তারা আজ এহেন গণতন্ত্রের লেবাস দেখে শুধু লজ্জিত হন আর আক্ষেপ করে বলেন “এ গণতন্ত্র জন্য তো আমরা সংগ্রাম করিনি”। এহেন নেত্রিতান্ত্রিক গণতন্ত্রের জন্য কি নূর হোসেন, ডাক্তার মিলন রক্ত দিয়েছিলেন? এরূপ গণতন্ত্রের জন্যই কি জেল জুলুম সহ্য করেছিলেন অগনিত ছাত্র, যুবক আর সাংবাদিকগণ? দুই নেত্রীর হাতে বন্দি গণতন্ত্র দেখে কি নূর হোসেন আর ডাক্তার মিলনের রক্ত আমাদের অভিশাপ দিচ্ছে না?

গণতন্ত্র; হাসিনা – খালেদাগং দের হাতে বন্দি হয়ে আছে সেই ’৯০ এর স্বৈরাচার পতনের পর থেকে আজ অব্দি। গণতন্ত্র মানে আজ হাসিনা আর খালেদা, এরাই সর্বেসর্বা, দলে এরাই সুপ্রিম পাওয়ারের অধিকারী, যা গণতন্ত্রের মুখে কালিমা লেপন ছাড়া কিছুই নয়। আর এই সুপ্রিম পাওয়ারের অধিকারীদের কার্যকলাপের ফলেই মাঝে মাঝে গণতন্ত্র চলে যায় বা চলে যেতে চায় কখনো সরাসরি, কখনো বা সমর্থন পোষ্টের সেবাসে সেনাবাহিনীর হাতে।

সাম্প্রতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক ঘোষিত কাদের মোল্লার বিচারের রায় যে ভাবে বিক্ষুব্ধ করেতুলেছে গোটা দেশের মানুষকে তা থেকে সহজেই অনুমেয় যে বাংলার দামাল ছেলে আসলেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে শিখেছে। আজ এ রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মুখর হয়ে ফুঁসে উঠেছে সারা দেশ, সমগ্রদেশের তরুণ সমাজ। আর সেই বাঁধ ভাঙা তরুনের জোয়ারে সামিল হয়েছেন সকল মুক্তিযোদ্ধা। সকলের কণ্ঠেই এক দাবি “কাদের মোল্লার ফাঁসি চাই, সকল যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি চাই। এক দাবি এক চাওয়া সকল যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি“।

দেশের প্রধান দলদুটির স্বৈরাচারী মনোভাব দেখে আমরা যারা নিরাশ হয়েছিলাম দেশে সত্যিকারের গণতন্ত্র বুঝি অধরাই থেকে যাবে। কিন্তু এক কাদের মোল্লার রায়ের ফলে লক্ষ কোটি জনতার প্রতিবাদ আর গনজোয়ার আমাদেরকে আশাবাদী করে তুলেছে। বাংলার দামাল ছেলে আজ মনে হচ্ছে জেগে উঠেছে। এ গনজোয়ার ততক্ষণ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত দেশের মাটিতে একজন যুদ্ধাপরাধী অবশিষ্ট থাকবে। এ জেগে উঠা যে শুধু কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে তা নয়, এ জেগে উঠা থেকে গণতন্ত্রও জেগে উঠবে এমন প্রত্যাশা আজ অমূলক নয়। তাই এই প্রজন্ম স্কয়ার থেকেই বন্ধী গণতন্ত্র মুক্তির ডাক প্রত্যাশা করছি

প্রধান দুই দলের দিকে তাকালে আমরা কি দেখতে পাই? আমরা দেখতে পাই এক দল নগ্নভাবে যুদ্ধাপরাধীদের সমর্থন করছে আর এক দল পূর্বে এদের সাথে আঁতাত করেছে আর এখন অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে গোপন আঁতাতের পায়তারা করেছে। না হলে কি করে আইন প্রতিমন্ত্রী বলেনঃ “জনগণ এমন ভাবে প্রতিবাদ মুখর হবে, সরকার আগে বুঝতে পারলে রায় অন্যরকম হত”। এমন উক্তি যে রাজনৈতিক দেওলিয়াপনারই বহিঃপ্রকাশ তা কি উনি জানেন?

অনেকেই বলেন আরব বসন্তের প্রতীক মিশরের তাহরির স্কয়ার হোক আমাদের শাহবাগ চত্তর (প্রজন্ম স্কয়ার)। আমি প্রত্যাশা করছি আমাদের প্রজন্ম স্কয়ার থেকে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবীর সাথে উচ্চারিত হোক সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবিও। নেত্রীদ্বয়ের কাছে বন্ধী গণতন্ত্র মুক্তি পাক; “গণতন্ত্র মুক্তির শপথ হোক প্রজন্ম স্কয়ার থেকেই“।

দেশের প্রচলিত আইন বা আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনের মারপ্যাঁচের কারনে লক্ষ জনতা মনে হয় না কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় ঘোষণা সাথে নিয়ে ঘরে ফিরতে পারবে। কারন ঘোষিত রায় বাতিল করে তা ফাঁসির আদেশে পরিণত করতে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া হয়তো বা সম্ভব নয়। ফাঁসির রায় হলে তা বাতিল করা বা সাধারণ ক্ষমা করে দেওয়া যতটা সহজ ও দ্রুত সম্ভব পক্ষান্তরে যাবত জীবন কারাদণ্ডের আদেশ থেকে ফাঁসির রায়ে তা রুপান্তর করা ততটাই কঠিন। কারন দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করে ঘোষিত রায় কিছুতেই ফাঁসির রায়ে পরিণত করা মোটেই সম্ভব নয়। সুতরাং লক্ষ কোটি জনতার দাবি মেনেও সরকারের পক্ষে আইনি পথ অতিক্রম না করে এ রায় বদলানো কঠিন। আমাদের আবেগের সাথে এ দিকটাও বিবেচ্য। সরকার আন্তরিক হলে তাঁদের সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি নিয়ে আমাদের আপাতত সন্তুষ্ট থাকতে হবে আর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখতে হবে সরকার এ প্রতিশ্রুতি পূরণে কত দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে। এ বিষয়ে চাপ অব্যাহত রাখতে হবে। আইন প্রতিমন্ত্রীর কথা বিশ্লেষণ করলে বুঝা যায় সঠিক রায় প্রদানের ক্ষেত্রে সরকার হয় আঁতাত করেছিল জামাত বা শিবিরের সাথে না হয় শিবিরের মারমুখি কর্মকাণ্ডে কিছুটা ভীত হয়েছিল। উভয় ক্ষেত্রেই ট্রাইব্যুনালের উপর কিছুটা হলেও সরকারের প্রভাব ছিল। আজ জনতার চাপে সরকার যাই বলুক ট্রাইব্যুনালের উপর যে তাঁদের চাপ ছিল না তা বলা যাবে না। প্রভাবমুক্ত হয়ে ট্রাইব্যুনাল রায় প্রদান করতে পারলে এ রায় অবশ্যই ফাঁসি ছাড়া বিকল্প কিছু হত না।

বাস্তব ক্ষেত্র বিবেচনায় যেহেতু আমাদের অপেক্ষা ছাড়া উপায় নাই। তরুণ সমাজ যেহেতু জেগে উঠেছে, প্রবীণরাও যেহেতু নবীনদের সাথে একাত্মতা পোষণ করছেন তাই আমরা আশা করতে পারি নেত্রী তোষণকারী বন্ধী গণতন্ত্র থেকে দেশ অচিরেই মুক্ত হবে। গণতন্ত্র বলতে সত্যি যা বুঝায় সেই গণতন্ত্রের সুবাতাস দেশে প্রবাহিত হবে অচিরেই। তাই আসুন আমরা এই বিশাল জনসমুদ্র থেকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, দেশের মাটি থেকে যুদ্ধাপরাধী পদচারনা চিরতরে বন্ধ করতে, দেশকে কলঙ্কমুক্ত করতে।

আসুন আমরাই মুক্ত করি নেত্রীদ্বয়ের কাছে বন্দি হয়ে পরা গণতন্ত্রকে। দেশকে পুতপবিত্র করতে, গণতন্ত্রকে কালিমা মুক্ত করতে, আসুন প্রজন্ম স্কয়ার থেকে অঙ্গীকার করিঃ আমরাই নেতৃত্ব দেব দেশ, আমরাই ঝিমিয়ে পরা গণতন্ত্র সতেজ করব, আমরাই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করব”। দেশকে অভিশাপ মুক্ত করতে আর সত্যিকার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে আসুন একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল গড়ে তুলি এই প্রজন্ম স্কয়ার থেকেই। নতুন এই রাজনৈতিক দলের প্রধান অঙ্গীকার হবে যুদ্ধাপরাধীদের অভিশাপ থেকে দেশকে চিরতরে মুক্ত করা সাথে বন্দি গণতন্ত্রের মুক্তি।।