ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

আজ শাহাবাগ আন্দোলনের ১৪তম দিন। মানুষের জীবন সংগ্রামে টিকে থাকার জন্য যেখানে প্রতিটি মুহূর্ত মূল্যবান সেখানে ১৪ টা দিন আসলেই অনেক বেশী মনে হবে অনেকের কাছে। আমার কাছে অবশ্যই ১৪ টা দিন অনেক অনেক বেশী মনে হচ্ছে। তার পরেও আমি মনে প্রাণে প্রার্থনা করছি এই আন্দোলনটা যেন আরও অন্তত ৪ দিন স্থায়ী হয়। কারণ আরও চারটা দিন স্থায়ী হলেই পারব লক্ষ জনতার কন্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে অন্তত একবার উচ্চরণ করতে “দাবী একটাই সব রাজাকারের ফাঁসি চাই, রাজাকার মুক্ত দেশ চাই””।

৩৬৫ দিন প্রচণ্ড কর্মযজ্ঞ (হারভাঙ্গা খাটুনি) সম্পন্নের পর “আমার মত মহা সৌভাগ্যবান”(!) প্রবাসীদের মেলে ৩০ দিনের কাঙ্ক্ষিত ছুটি। “আমার মত “মহা সৌভাগ্যবান””, কথাটি বলার কারণ হয়তো অনেকেই আন্দাজ করতে পারছেন। কারণ সৌভাগ্যবান ছাড়া প্রতি ৩৩৫ দিন পর ৩০ দিনের ছুটি এই বালুময় (মরু দেশে) সত্যি ভাগ্যবানদের কপালেই জুটে। সেই হিসেবে আমি ভাগ্যবানই বটে!

আজ আমার এই পোষ্টের হেতু আমার অক্ষমাতা প্রকাশ। অপরাধ বোধ প্রকাশ ও স্বীকার করা আর অক্ষমতার জন্য ক্ষমা ভিক্ষা করার জন্য। কারণ রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে চলছে নতুন প্রজন্মের হার না মানা আন্দোলন। “দাবী একটাই সব রাজাকারের ফাঁসি চাই, রাজাকার মুক্ত দেশ চাই“। এমন পরিস্থিতিতে আমি অক্ষম পরে আছি মরু প্রবাসে। দিন যতই জাচ্ছে অপরাধ বোধ ততই গভীর হচ্ছে। তাই মনে মনে সিদ্ধান্ত নিই, চলে যাব আন্দোলনে শরীক হতে। কিন্তু আমার মত অক্ষমের ছুটিতে যেতে হলে কোম্পানির কিছু অতি আব্যশিক নিয়ম কানুন শেষ করে তবেই ফাইনাল ক্লিয়ারেন্স পাওয়া যাবে। এ সবই আমার জানা। তাই একটু দ্বিধান্বিত, পারব কি এত সব ঝামেলা শেষ করে সময়মত দেশে পৌছতে? সব চেয়ে বড় কথা এখন আমার ছুটির সময় নায়, মাত্র পাঁচ মাস শেষ হয়েছে ছুটি থেকে এসেছি। কি করি? এখন ছুটির কথা বললে ম্যানেজারই বা কি মনে করবে? বিশেষ করে আমি যখনই ছুটির কথা বলি (প্রাপ্য ছুটি) ম্যানেজারের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বলে “”আমি বুঝি একেবারে চলে যেতে চাচ্ছি, আর বোধ হয় ফিরে আসবনা” – এটা উনি না প্রকাশ করলেও আমি অনুভব করতে পারি।

ওদিকে রাজাকারের ফাঁসির দাবিতে চলছে নিরবচ্ছিন্ন আন্দোলন। ওখানে শরীক হতেও মন চাচ্ছে। কি করি? শংকা আরও একটা, দেখা গেল যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম আর আন্দোলন শেষ হয়ে গেল। এমতাবস্থায় তো কোন লাভ নেই এত কাঠখড় পুড়িয়ে দেশে গিয়ে। এমনই দ্যুদুল্যমান অবস্থায় কেটে গেল বেশ কয়েকটা দিন। মনে হল না আন্দোলন সহসা শেষ হচ্ছে না, সহ যোদ্ধারা রায় না নিয়ে ঘরে ফিরবে না এমনই নিশ্চয়তার মধ্যে ছুটির আবেদনটা করেই ফেললাম। যে ম্যানেজার গো ধরে বসে প্রতিবার ছুটির সময়, সেও দেখি অতি অল্প কথাতেই ১২ দিনের ছুটি মঞ্জুর করল। শুধু বলল ২১ তারিখের পূর্বে সম্ভব নয়। জরুরী প্রয়োজনটা আমারও জানা। তাই দ্বিমত করতে পারলাম না। অনলাইনে টিকেট বুকিং করে রেফারেন্স নাম্বারটা এইচ আর ডিপার্টমেন্টে দিয়ে আসলাম। ১২ দিনের ছুটি তাই ভ্যাকেশন বেনিফিট তো নয়ই এ কয়দিনের বেতনও পাওয়াও সম্ভব নয়।

কিছুই চাইনা, যেতে পারছি সেটাই বড় কথা। শাহাবাগ চত্তরে গিয়ে “সব রাজাকারের ফাঁসি চাই, রাজাকার মুক্ত দেশ চাই” সবার সাথে এমন একটা কথা বলতে পারব মনে করেই মনটা আনন্দে নেচে উঠলো। তাছাড়া ২১শে বই মেলায় যাওয়ার ইচ্ছে, নগর নাব্য সংগ্রহ করাসহ ইতিহাসের কিছু বই সংগ্রহ করার ইচ্ছে আছে।

এ কয়দিন ব্লগে উপস্থিত না থাকতে পারার কারণ বোধ হয় বন্ধুগণ আচ করতে পারছেন। ব্লগে একয়দিন নিরব থেকেছি (থাকতে বাধ্য হয়েছি) সশরীরে শাহাবাগ স্কয়ারে বা প্রজন্ম চত্তরে উপস্থিত হয়ে শুধু “সকল যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি চাই, রাজাকার মুক্ত পবিত্র দেশ চাই” – এটুকু বলতে ছুটির ক্লিয়ারেন্স সংগ্রহ করার ঝামেলার কারণে। আশা করছি এ কয়দিনের অনুপস্থিতি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন সহব্লগার বন্ধুগণ।

সব রাজাকারের ফাঁসি চাই।
রাজাকার মুক্ত পবিত্র দেশ চাই।
জয় বাংলা। বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।।

পুনশ্চঃ এই মাত্র দেখলাম “নগর নাব্য ২০১৩” বইমেলায় এসেছে। কাঙ্কিত “নগর নাব্য ২০১৩” তে আমার একটি লেখাও প্রকাশিত হয়েছে দেখে আপ্লুত, কৃতজ্ঞ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি। এই আনন্দ প্রকাশের ভাষা জানা নাই। সকলের প্রতি আবারও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আর আবেদন করছি অন্তত পাঁচটি কপি আমার জন্য রিজার্ভ করতে।