ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কাম বিদ্যুৎ মন্ত্রীর মহামান্য(!) উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহী আজ আমাদের জন্য নতুন এক বিশেষণ নিয়ে হাজির হয়েছেন। উনার বিশেষণে আমরা হয় অজ্ঞ নয় তো জ্ঞানপাপী। কেউ কেউ হয় তো দেশদ্রোহী ও হতে পারি। দেশের কোটি কোটি টাকার ভক্ষক সর্বাধিকফ্লপ প্রজেক্ট “কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র” নিয়ে কোনও কথা, মানে আলোচন সমালোচনা করা যাবেন। কারণ ওগুলো যে আমাদেরকে বিদ্যুৎ এ ভাসিয়ে দিচ্ছে!!

আগে (বিএনপি-জামাত জোটের আমলে) যেখানে দিনের বেশির ভাগ সময়েই আমরা চাতক পাখির মত খুঁজে ফিরেছি কখন কাঙ্খিত বিদ্যুৎ আসবে আর পাখাটা একটু ঘুরে বায়ু প্রবাহিত হয়ে শরীরের ঘাম শুকিয়ে একটু প্রশান্তি পাব। সেখানে এই কুইক রেন্টাল কেন্দ্রগুলো হতে আহরিত বিদ্যুৎ দিয়ে আমরা পরম আয়েশে দিবা ও নিশি জাপান করছি(!)। হায় বিদ্যুৎ, হায় কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র! দুষ্ট লোকে যতই বলুক এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোই আমাদের অর্থনীতির বারোটা বাজিয়েছে, বারোটা বাজিয়ে চলছে। কিন্তু তাতে কী আমি উপদেষ্টা, আমি বলছি এই কেন্দ্রগুলো স্থাপিত না হলে আমরা আগের সরকারের সময়ের মতই অন্ধকারে বসে থাকতাম (মনে হচ্ছে আজ যে আমরা বিদ্যুৎ বন্যায় ভেসে যাচ্ছি)। আমি উপদেষ্টা, মম মস্তিস্ক হতে নির্গত এই প্রজেক্ট বিফল হতে পারে না। আমি বলছি এটা খুবই ফলদায়ক আর জরুরী তাই আপনাদেরকেও স্বীকার করতে হবে এটা ফলদায়ক, এটার জন্যই আমরা বিদ্যুৎ পাচ্ছি। স্বীকার না করলেও বিরোধিতা করতে পারবেন না। বিরোধিতা করলে আপনি দেশদ্রোহী, আপনার স্থান এদেশে হবে না। বিরোধিতা করবেন তো আপনার উপাধি হবে অজ্ঞ, অথর্ব, আর জ্ঞান পাপী। অর্থমন্ত্রী বা অন্যরা যতই বলুক এটা সুফল দিচ্ছে না, তাতে কি। আমি উপদেষ্টা আমি জানি এটা কতটা ফলদায়ক!!

তাই অতীব জরুরী এই কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কোনও সমালোচনা করা যাবে না। তিনি আজ সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে জ্বালানি বিষয়ক ম্যাগাজিন ‘”এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার”’ আয়োজিত কর্মশালায় তিনি মন্তব্য করেন যে “কুইক রেন্টাল নিয়ে যারা সমালোচনা করেন তারা হয় অজ্ঞ আর না হয় জ্ঞানপাপী, সরকারবিরোধী অথবা দেশদ্রোহী”

মাননীয় উপদেষ্টা, আপনি মনে হয় জানেন না বা জেনেও কমিশন বন্ধের ভয়ে (শ্রীঘরের ভয় থাকলে ও থাকতে পারে) প্রকাশ করছেন না আজ দেশের ভঙ্গুর অর্ধনীতির অনেকগুলো কারণের মধ্যে এটা (কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র) অন্যতম প্রধান কারণ।

মাননীয় উপদেষ্টা, যেহেতু আমার অন্ধকার ঘর আমি চাহিবা মাত্র (সুইচ অন করা মাত্র) দিনের আলোর মত ফকফকা হইয়া যায় না, রাতের অন্ধকারে যেহেতু আমাকে ঘর হতে হাত পাখা নিয়ে বাহির হইয়া যাইতে হয়, একটু খানি প্রকৃতি প্রদত্ত বায়ু প্রবাহের জন্য যেহেতু আমাকে অস্থির থাকতে হয়, যেহেতু আমার ছোট্ট শিশু সন্তান আর রুগ্ন মা প্রচন্ড গরমে ছটফট করে সর্বোপরি যেহেতু রাষ্ট্রের টাকা শ্রাদ্ধ করে নির্মিত ওই কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র আমাকে অন্ধকারে আলো আর গরমে একটু বায়ু প্রবাহের ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ তাই আমি এর গুণ কীর্তন করতে পারব না।

মাননীয়(!) উপদেষ্টা, আমাকে ক্ষমা করবেন। আমাকে দেশদ্রোহী বলুন, আমাকে অজ্ঞ, অথর্ব, আর জ্ঞানপাপী যাই বলুন; আমি বলব আপনার মস্তিস্ক হতে নির্গত ওই প্রজেক্ট শুধু কিছু বিত্তবানকে আরো বিত্তশালী করছে। যার একটা অংশ আপনার আর আপনি যাকে উপদেশ দিচ্ছেন তার একাউন্টে যাচ্ছে বা ডলারে কনভার্ট হয়ে দেশ হতে উধাও হচ্ছে। তাই আমি এর গুণ কীর্তন করতে পারব না। আপনি হইত রাষ্ট্র দ্রোহের ভয় দেখিয়ে আমাদের মুখ বন্ধ রাখবেন, কিন্তু আমদের অন্তর ঠিকই বলবে এটা আমাদের জননীসম রাষ্ট্রের অর্থনীতিকে ভঙ্গুরতর করছে।

মাননীয় উপদেষ্টা, প্লিজ দয়া করে বলবেন কি কথায় কথায় আপনারা আমাদেরকে অজ্ঞ, অথর্ব, আর জ্ঞানপাপী বলে সত্যি কি আপনারা মহা জ্ঞানী বনে যাচ্ছেন? যে আপনি এমন কথা কোনও সম্মেলনে বলতে পারেন, আমার সন্দেহ হয় আপনাদের মত উপদেষ্টাদের উপদেশেই আমাদের মহামান্য প্রধানমন্ত্রী মাঝে মধ্যে এমনিতর কিছু কথা বলে ফেলেন, যার কারণে দেশ জুড়ে সমালোচনার ঝড় বহে কারণে অকারণে।

সুত্র: বিডিনিউজ24ডটকম, প্রথম আলো অনলাইন, যায় যায় দিন।