ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

রাষ্ট্রধর্মের বিরুদ্ধে করা ১৯৮৮ সালের একটি পিটিশন সম্প্রতি হাইকোর্ট আবার শুনানী করতে চাইলে অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই বিষয়টি আবারো সামনে চলে আসে। এর আগে ২০১১ সালে তিন/চারদিন শুনানী হলেও সংবিধান সংশোধন হয়ে যাওয়ায় আর শুনানি হয়নি।

নীচে রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে পত্রিকা ও ব্লগ মারফত প্রাপ্ত তথ্যের সংকলন করা হলোঃ

  • এরশাদ ১৯৮৮ সালের ৯ই জুন সংবিধানে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

  • সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে আপিল করেন ১৫জন বিশিষ্ট শিক্ষক, সাহিত্যিক, লেখক, সাংবাদিক ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। তারা হলেন: বেগম সুফিয়া কামাল, সাবেক প্রধান বিচারপতি কামাল উদ্দীন হোসেন, অধ্যাপক কবীর চৌধুরী, অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন, অধ্যাপক খান সারোয়ার মুরশিদ, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, মেজর জেনারেল চিত্ত রঞ্জন দত্ত, বদরুদ্দীন ওমর, বিচারপতি কে এম সোবহান, বিচারপতি দেবেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য, সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, কলিম শরাফী, বোরহান উদ্দীন খান জাহাংীর ও সাংবাদিক ফয়েজ আহমেদ।

  • সুলতানা কামাল ১৯৮৮ সালে তার একটি প্রবন্ধে উল্লেখ করেনঃ “রাষ্ট্রধর্ম প্রবর্তনের পেছনে যেসব যুক্তি তুলে ধরা হয়েছিল সেগুলো হল: সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর জাতীয়তা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করা; এবং ধর্মীয় উগ্রবাদ বিশেষ করে জামায়াতের উত্থান রোধ করা। সংবিধান সংশোধন বিলটি পাশ হবার পর এরশাদ বলেছিল উগ্রপন্থী ও সমাজতন্ত্রীদের হাতে ইসলাম নিরাপদ নয়। এদেশে কোরান ও সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোন আইন করা হবেনা…”

  • ২০১০ সালের ৪ঠা অক্টোবর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করে বলেন যে, বাংলাদেশ এখন থেকে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। তবে আদালত রাষ্ট্রধর্মের বিষয়ে কিছু বলেননি। উল্লেখ্য, যে অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রধর্ম যোগ করা হয় সেই সংশোধনীও বাতিল করেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। মানে সংসদ চাইলে রাষ্ট্রধর্ম ও অন্যান্য সংশোধনী বাতিল করতে পারে। 

  • ২০১১ সালের ৮ই জুন প্রথম শুনানির দিনে হাইকোর্ট সরকারের ব্যাখ্যা চেয়ে রুল জারি করেন। প্রথমে ১২জন ও পরের দিন আরো দুইজন সিনিয়র আইনজীবীকে এই বিষয়ে মতামত দিতে মনোনয়ন দেন। তারা হলেন: টিএইচ খান, কামাল হোসেন, আমিরুল ইসলাম, রফিকউল হক, মাহমুদুল ইসলাম, এম জহির, ফিদা এম কামাল, রোকনউদ্দিন মাহমুদ, আজমালুল হক কিউসি, ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, এএফএম মেসবাহ উদ্দীন, আব্দুল মতিন খসরু, এএফ হাসান আরিফ এবং আখতার ইমাম।

  •  ১৬ই জুন আদালতে তিনজন আইনজীবী তাদের মতামত তুলে ধরেন, কিন্তু বিষয়টি সংসদের উপর ছেড়ে দেওয়ার পক্ষে মত দেন। তারা হলেন: এম জহির, ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন এবং আব্দুল মতিন খসরু। এম জহির বলেন, একটি রাষ্ট্রের কোন ধর্ম থাকতে পারেনা। তার মতে ধর্মনিরপেক্ষতা একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা। হুমায়ুন বলেন, অষ্টম সংশোধনীর মধ্য দিয়ে সংবিধানে রাষ্ট্রধর্মের প্রচলন করার পেছনে কোণ বিশেষ উদ্দেশ্য ছিল, কেননা তখন এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো কোন অবস্থা সৃষ্টি হয়নি। 

  • এরপর আদালত ১৪ই জুলাই শুনানির জন্য রাখলেও তা আর হয়ে উঠেনি। তার আগেই ৩০শে জুন সংসদে পাশ হয় পঞ্চদশ সংশোধনী যার মাধ্যমে রাষ্ট্রধর্মকে বহাল রেখে ধর্মনিরপেক্ষতা যুক্ত করে সংসদ। সরকার এখনো সেই রুলের জবাব দেয়নি।

  • সংবিধান সংশোধনের পর আপিলকারীদের আইনজীবীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১১ সালের ডিসেম্বরে আদালত সরকারের প্রতি আবারো রুল জারি করেন।

  • সর্বশেষ গত বছরের ৭ই সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৌমেন্দ্র নাথ গোস্বামী রাষ্ট্রধর্ম বাতিলের আবেদন করলে আদালত তা খারিজ করে দেন।

  • ১৯৮৮ সালের আপিলকারীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২৯শে ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট শুনানি করতে ২৭শে মার্চ দিন ধার্য করেছেন।