ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

চমকে গেলাম এই পেজটা দেখে

তাজ্জব বনে গেলাম যখন দেখলাম ফেসবুকের এই পেজটা দেখে, তাও আবার সাংবাদিকতা ক্যাটাগরিতে–আর নাম দিয়েছে আমরা বাংলাদেশের সব মানুষ চাই বাংলাদেশ ভারতের অঙ্গরাজ্য হোক.

এই পেজে আবার ৩১৯ জন লাইক দিয়েছে।

দিনকালের পরিবর্তন দেখি খুব দ্রুত হচ্ছে (সাধারন মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন ব্যতীত)। মুক্তবাজার অর্থনীতি থেকে শুরু করে, মুক্ত সংস্কৃতি চর্চা আর মতামত প্রকাশের অবাধ সুযোগ পেয়ে কারো কারো মাথা খারাপ হয়ে গেছে।

নাহলে যারা এই পেজটা বানালো ওরা কতবড় “আহাম্মক” হইলে এরকম কাজ করতে পারে!

আজকাল অনেক ছেলে-মেয়ে, মা-চাচারা সারাদিন-রাত ভারতের চ্যানেল নিয়া বসে থাকে — বিনোদনের একটা বড় উৎস হওয়াতে নাচ-গান আর নাইলে সিরিয়াল বা বিজ্ঞাপনের জন্য ইতিমধ্যেই বিখ্যাত হয়ে গেছে ভারতের মিডিয়া।

আমার মনে হলো এই বোকারা এত ঝামেলা না করে ভারতে আশ্রয় চাইলেই পারে, কষ্ট করে তাদের এই দেশে থাকার দরকারটা কি?

এরা ইতিহাসের গল্প বলে মানুষকে বুঝাতে চাইছে যে বাংলাদেশ ভারতের প্রদেশ হতে পারে যেহেতু এক সময় অর্থ্যাৎ ‘৪৭-এর আগে তাই ছিল। আমার কাছে খুবই ন্যাকা যুক্তি মনে হলো এটা। তাহলে তো কেউ কেউ বলবে পুরো ভারতবর্ষটাই আবার এক হওয়া উচিত, আগের মত।

কিন্তু সেই ব্রিটিশ সরকারের কুমতলব আর জিন্নাহ সাহেবের “ক্ষুরধার” বুদ্ধির কারনে দেশটা ৩ ভাগ হলো — তাও আবার ধর্মের ভিত্তিতে যাতে করে সারা বছর এখানে মারামারি, বৈষম্য, ঝগড়াঝাঁটি, প্রতিহিংসা লেগেই থাকে। আর হয়েছেও তাই।

তাছাড়া বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশ যত ছোট হবে, নানা গোষ্ঠীকেন্দ্রীক দেশ হবে মানবজাতির জন্য তা ততই মঙ্গল হবে বলে আমি মনে করি — “যদিও তা আমার কখনোই কাম্য নয় কেননা আমি এক বিশ্বের সমর্থক”। কিন্তু বাস্তবতা বিচারে, মানুষের চিন্তা-ভাবনা, আর্থ-সামাজিক অবস্থা আর অসহিষ্ণু মনোভাবের কারনে আগামী ২০০ বছরেও তা সম্ভব না।

এক পৃথিবী তখনই সম্ভব যখন মানবজাতি ধ্বংসের মুখে পড়বে আর তখন বিপদ থেকে বাচঁতে একে অন্যকে আকঁড়ে ধরবে।