ক্যাটেগরিঃ নাগরিক সমস্যা

চিনি উধাও ও তেলের মূল্য নিয়ন্ত্রণহীন শিরোনামে জনপ্রিয় দৈনিক প্রথম আলোতে সংবাদটা শুরু হয়েছে এভাবে, “সরকারের সিদ্ধান্তের কারণে বাজার থেকে উধাও হয়ে গেছে চিনি। দর বেঁধে দেয়ার পরদিন থেকেই বাজারে চিনি মিলছে না”।

নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্য ক্রমাগত উর্ধ্বমুখী মানুষের জীবনযাপনকে অসহনীয় করে তুলছে। এসব নিয়ে অনেক কথাবার্তাও হচ্ছে। সংবাদপত্রগুলোতে প্রতিদিন নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্য নিয়ে সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে। বাজার সংক্রান্ত তথ্য সবার নিকট যতই উন্মুক্ত হচ্ছে, দ্রব্যাদির বাজার ততই উর্ধ্বমুখী হতে শুরু করেছে। এক কথায়, বাজার নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীদের নিকট সরকার অসহায় হয়ে পড়ছে ক্রমাগত। বিশেষতঃ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে এক প্রকার তামাশা শুরু করেছেন ব্যবসায়ীবৃন্দ। সেই তামাশায় রশদ যোগান দিতে শুরু করেছে গণমাধ্যমগুলো। প্রথম আলোতে সংবাদটির শুরুর বক্তব্যটির উপস্থাপন হতে মনে হতেই পারে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চিনি ও তেলের মূল্য নির্ধারণ করে বাজার মনিটরিং টিমের মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিয়ে ভুল করেছেন। অর্থাৎ বাজার মূল্য নির্ধারণ না করলেই ভাল হতো। অর্থাৎ বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য মনিটরিং টিম গঠন করা উচিত হয়নি।

একদিকে ব্যবসায়ীদের তামাশা, অন্যদিকে গণমাধ্যমের তামাশার রশদ যোগানো এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দোদুল্যমানতা ও ধীরগতির কারণে সাধারন মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপন ক্রমান্বয়ে কঠিন হয়ে পড়ছে। পক্ষান্তরে, সরকারের কর্মকান্ডে সাধারন মানুষ ক্রমাগতভাবে বিতশ্রদ্ধতা প্রকাশ করছে, যা জন অসন্তোষের কারণ হয়ে উঠবে; যা সরকারের জন্য কোন শুভ সংবাদ বয়ে আনবে না – বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং সর্বোপরি, জনগণের নিরাপদ জীবনযাপনের নিরাপত্তার অঙ্গীকার প্রদান করে যে সরকার ক্ষমতায় আসীন হয়েছেন, সেই সরকার যতো তাড়াতাড়ি বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারবেন, ততই তাদের জন্য মঙ্গল হবে।

প্রতিদিন আমরা শুনতে পাচ্ছি, তেল ও চিনির সরবরাহ যথেষ্ঠ পরিমাণ আছে। পরিসংখ্যানও প্রকাশিত হচ্ছে। মন্ত্রীরাও বলছেন, কোন সমস্যা হবে না, “সরবরাহ যথেষ্ঠ”। তারপরও কেন বাজারে তেল ও চিনির মূল্য ঊর্ধ্বগতির দিকে যাচ্ছে এবং তা মনিটরিং এর উদ্যোগ নিলে ব্যবসায়ীরা বাজার হতে চিনি উধাও করে কৃত্রিম সংকট তৈরী করছেন?

অনেকেই বলে থাকেন, বাজার সিন্ডিকেটের কথা। কিন্তু সংবাদটির পাঠক মন্তব্যের দিকে নজর দিন। পাঠকরা সরাসরি বলেছেন, বাণিজ্য মন্ত্রীর ব্যর্থতা, তাই তারা বাণিজ্য মন্ত্রীর অপসারণ চাচ্ছেন। বাণিজ্য মন্ত্রীকে এ বিষয়টি উপলব্ধিতে নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কঠোর হতে হবে, এটা যদি উনি বুঝতে না পারেন, তবে এ অবস্থা চলতেই থাকবে। পাঠকরা বলেছেন, সেনাবাহিনী তলব করার কথা। যখন জনপ্রতিনিধিবৃন্দ জনগণের দৈনন্দিন নিরাপত্তা প্রদানে ব্যর্থ হন, তখন জনগণ যা দেখে এসেছেন, তাই বলবেন, এটাই স্বাভাবিক। অতীতে দেখা গেছে, সেনাবাহিনী তলব করা হলে তারা সরাসরি ব্যবসায়ীবৃন্দের উপর মারমুখী আচরণ করেন এবং ব্যবসায়ীরা ভয়ে হোক আর বাধ্য হয়েই হোক, সরকারি সিদ্ধান্তকে বিনা বাক্যব্যয়ে মেনে নিতে কার্পণ্য দেখান না। যদিও বিষয়টি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির যখন হুমকি স্বরূপ, কিন্তু কেউ যদি আইনকে বিভিন্ন অজুহাতে অবজ্ঞা করার ধৃষ্টতা দেখান, তবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্যই সরকারের কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিৎ, অর্থাৎ অজুহাত না দেখে বাজার অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য যারাই দায়ী তাদের বিরুদ্ধে আইনগতভাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সরকার যদি এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে ব্যর্থ হন কিংবা দেশের বৃহত্তর জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণের চেয়ে অল্পসংখ্যক ব্যবসায়ী ও তাদের স্বার্থ রক্ষাকারী সিন্ডিকেটের সদস্যদের মান রক্ষার চিন্তা করেন, তবে জনগণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ব্যর্থতার জন্য সরকারের প্রতি আস্থাশীল থাকবে, এমন ভাবনা অর্বাচীন প্রমাণিত হবে। অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে বাজার নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে, এর কোন বিকল্প খুঁজে দেখার চিন্তা শুধুই কালক্ষেপণ হবে এবং এই কালক্ষেপণের দায়ভার সরকারকেই বহন করতে হবে। আশাকরি, বাণিজ্যমন্ত্রী জনগণের ভাষা বুঝতে সমর্থ হবেন।