ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

স্বাধীনতার পঞ্চম দশকে এসেও বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার জন্য দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা ব্যবস্থাপকগনের প্রচেষ্টায় শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হয়।কিন্তু সম্প্রতি বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় নগণ্য সং্খ্যক শিক্ষার্থীর কৃতকার্য হওয়ায় বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।একজন নগণ্য শিক্ষাকর্মী হিসাবে আমার পর্যবেক্ষণ, দৃশ্যমান সমস্যা ও তা সমাধানকল্পে আমাদের করণীয় কী হওয়া উচিত তা সংক্ষেপে তুলে ধরার চেষ্টা করব।

প্রথমত: সুশিক্ষার জন্য সুশিক্ষকের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। বর্তমানে প্রচলিত সৃজনশীল শিক্ষার জন্য চাই সৃজনশীল শিক্ষক। সৃজনশীল শিক্ষক মানেই মেধাবী শিক্ষক। মেধাবী শিক্ষকের জন্য প্রয়োজন প্রণোদনা। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, শিক্ষকদের এদেশে প্রণোদনা তো দুরে থাক, প্রাপ্য অধিকারটুকুও দেয়া হয়না।শিক্ষকদের জন্য বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণ যেখানে বাধ্যতামূলক করা উচিত, সেখানে সরকারি নীতিনির্ধারণ পর্যায়ে তা রীতিমত রুদ্ধ। জাতিকে সঠিকভাবে শিক্ষিত করার জন্য যাদের প্রশিক্ষণ ও উচ্চতর ডিগ্রী প্রয়োজন তারা আজ অবহেলিত। অর্থবিত্ত ও ক্ষমতা যখন সামাজিক মর্যাদার মাপকাঠি হয়, তখন অর্থহীন বিত্তহীন ক্ষমতাহীন সম্মানহীন শিক্ষকতার পেশা দিনে দিনে সৃষ্টিশীলের পরিবর্তে কোনমতে জীবিকা নির্বাহের মেধা ও মননহীন আটপৌরে পেশায় পরিণত হচ্ছে। সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সমুহে বদলি ও পদোন্নতির নির্দিষ্ট নীতমালা না থাকায় তা রাজনীতিকিকরন, স্বজনপ্রীতি ও দূর্নীতিপ্রবণ পদায়নের অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে। আবার জাতীয় বিষপোরার মত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নামক এক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের যত্রতত্র অনার্স কোর্স খোলার অনুমতি দিয়ে কোচিং ব্যবসাকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত ২য় পর্বে বিশদভাবে উপস্থাপন করব ইনশাআল্লাহ। অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও পর্যাপ্ত শিক্ষক সংকট শিক্ষার মান অবনমনের অন্যতম প্রধান কারণ। অবকাঠামো উন্নয়ন ও পর্যাপ্ত জনবল থাকলে মানসম্মত শিক্ষার জন্য আমার প্রস্তাবনা…..

প্রতি ২০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক থাকতে হবে।যদি একটি ক্লাসে ১০০জন শিক্ষার্থী থাকে তাহলে প্রতি বিষয়ে ৫ জন শিক্ষক নিয়োগদান করতে হবে। প্রত্যেক শিক্ষক ঐ ২০ জন শিক্ষার্থীর ঐ বিষয়ের জন্য দায়বদ্ধ থাকবেন। শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়নের উপর ভিত্তি করে আলাদা প্রণোদনা প্যাকেজ সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের জন্য বরাদ্দ রাখা হবে।