ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সেশনজট নিরসনের জন্যই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সৃষ্টি। পরবর্তীকালে জাবি নিজেই যখন ঐ গর্তে পড়ে কর্দমাক্ত হয়ে গেল তখনই সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সব সরকারি কলেজকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনায় নিয়ে আসার প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়। এ প্রেক্ষিতে জাবি কর্তৃপক্ষ একটি ক্র‍্যাশ প্রোগ্রাম হাতে নেয় যাতে তাদের অস্তিত্ব টিকে থাকে এবং ২০১৮ সালের মধ্যে সেশনজট সম্পূর্ণ দূর হয়ে যায়। এ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে জাবি আশ্চর্য সব কর্মকান্ড শুরু করে। যাদের আগে ছিল ১৯ মাসে বছর তারা হঠাৎ করে ৬ মাসে বছরের স্বপ্ন বাস্তবায়ন শুরু করে। মায়ের পেটে ১০ মাসের কম বয়সের বাচ্চা যেমন অপরিপক্ব থাকে এবং হাই এন্টিবায়োটিক দিয়ে ইনকিউবেটরে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয় তেমনি জাবি ও হাই ভোল্টেজ CGPA যুক্ত সার্টিফিকেট হাতে দিয়ে অপরিপক্ক জাতি গঠনের মহান (!) দায়িত্ব পালন করছে। অথচ জাবি শিক্ষার্থীরা বিসিএস হতে শুরু করে সকল সেক্টরে মেধার স্বাক্ষর রেখে যাচ্ছে। আমি বুঝে উঠতে পারি না এদেশে শিক্ষার এই নৈরাজ্য নিয়ে কথা বলার একজন ও কি নেই? নাকি আমরা ধরেই নিয়েছি নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তের শিকড় ধ্বংস করতে পারলে দেশ তরতর করে এগিয়ে যাবে! এদেশের জাতীয় ঐতিহ্য, সংহতি, ঐক্য, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, শ্রদ্ধাবোধ, নীতি, আদর্শ এখনো শূন্যের কোটায় আসেনি এই নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর কারণে। আমরা যারা শিক্ষাকর্মী হিসাবে নিয়োজিত আছি তারাই জানি জাবি নামক ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানটি এদেশের কোটি কোটি শিক্ষার্থীর মা-বাবার স্বপ্ন নিয়ে কীভাবে নির্দয়ভাবে খেলা করছে। এ খেলা বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে সমগ্র জাতিকে এর মূল্য দিতে হবে। অপরিপক্ব (Premature) মানব সন্তান যেমন পরিবারকে আর্থিকভাবে ও মানসিকভাবে পঙ্গু করে দেয় তেমনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের জাতীয় সম্পদ ( শিক্ষার্থী)-কে মানে, জ্ঞানে, দক্ষতায় পঙ্গু বানিয়ে ছাড়বে। বন্ধ হোক এই অভিশপ্ত খেলা। #চলবে