ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

লক্ষ লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগ, অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব ও আপামর জনসাধারণের সহযোগিতায় ১৯৭১ এর ১৬ই ডিসেম্বর যে স্বাধীনতার সূর্য উদিত হয়েছিল আজ ৪০ বছর পরেও নানা সমস্যা ও প্রতিকূলতা তার গায়ে সৌরকলঙ্কের ন্যায় রয়ে গেছে। এই সমস্যাগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে মৌলবাদ। সাধারণ মানুষের ধর্মভীরুতার সুযোগ নিয়ে মৌলবাদী ধ্যানধারণার প্রচার, ধর্মানুভূতির কথা বলে অন্যের বাকস্বাধীনতায় আঘাত ও মুক্তচিন্তার দ্বার চিরতরে রুদ্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমে দেশকে অনগ্রসরতার দিকে নিয়ে যেতে সদা তৎপর একাত্তরের স্বাধীনতা বিরোধী গোষ্ঠী। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের একজন প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ, লেখক ও কলামিস্ট ডঃ মুহম্মদ জাফর ইকবালের বিরুদ্ধে মৌলবাদী গোষ্ঠীর নির্লজ্জ অপপ্রচার সেটারই ইঙ্গিত বহন করে। বেশ কিছুদিন আগে সচলায়তনের একটি পোস্টে ডঃ জাফর ইকবালের বিরুদ্ধে আনিত বেশ কিছু অভিযোগের উত্তর জানতে চাওয়া হয়। আজকের এই লেখায় সে অভিযোগগুলোকেই বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করা হয়েছে।

অভিযোগের যুক্তিখণ্ডনঃ


১. জাফর ইকবাল স্যারের গত দশ বছরে কোনো বৈজ্ঞানিক পাবলিকেশন নেই কেন?

উত্তরঃ জাফর ইকবাল যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াশিংটনে পিএইচডি রিসার্চার, ক্যাল্টেকে পোস্ট-ডক্টোরাল রিসার্চার ও বেলকোরে রিসার্চ সায়েন্টিস্ট হিসেবে প্রায় বিশ বছর গবেষণা করেছেন। দেশে আসার পর তিনি গণিত অলিম্পিয়াড এবং বিভিন্ন শিক্ষাকেন্দ্রিক ও সামাজিক সংস্কারের মাধ্যমে এ দেশের শিক্ষার্থীদের মুখস্তবিদ্যার প্রতি বিতৃষ্ণ করে যেভাবে বিজ্ঞানমনষ্ক করে তুলেছেন, আন্তর্জাতিক জার্নালে ব্যাপক হারে গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশের পেছনে সময় ব্যয় করে তিনি সেই উপকারটা করতে পারতেন না। আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে অংশ নেওয়া বাংলাদেশী প্রতিযোগীদের অনেকেই আণ্ডারগ্রাজুয়েট লেভেলে বৃত্তি (যা খুবই দুর্লভ) নিয়ে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়ালেখা করছে। জেলায় জেলায় গণিত অলিম্পিয়াডের আয়োজন না করলে এই প্রতিভাবানেরা গতানুগতিকতার তোড়ে শুধু মুখস্তবিদ হয়েই থাকতো, তাদের সুপ্ত প্রতিভাগুলো বিকশিত হতে পারতো না। আর থিওরি অফ রিলেটিভিটি (২০০৮), কোয়ান্টাম মেকানিক্স (২০০৯) বইগুলো কি বৈজ্ঞানিক পাবলিকেশন নয়?

জাফর ইকবালের বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক পাবলিকেশন


২. জাফর ইকবাল স্যার ভার্সিটি বন্ধ করিয়ে ছেলেমেয়েদের দুর্বিষহ সেশন জটের দিকে ঠেলে দিয়েছিলেন। এ অধিকার কি তিনি রাখেন?

উত্তরঃ অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা তাই এ নিয়ে বলার কিছু নেই। তবে অধিকারের প্রসঙ্গে বলা যায় যে জাফর ইকবাল যেমন একমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে একক আন্দোলন, গণিত অলিম্পিয়াড আয়োজন, বিজ্ঞানভিত্তিক বই লেখা ইত্যাদির মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের প্রতি তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন, তেমনি তরুণ প্রজন্মের কাছ থেকেও কিছু পাওয়ার অধিকার তিনি রাখেন।


৩. জাফর স্যার কেন অমুক বিষয়ে লিখলেন না, কেন পরিমলকে নিয়ে লিখলেন না? নিশ্চয়ই তিনি ওসব সাপোর্ট করেন।

উত্তরঃ ধর্ষণের ঘটনা বাংলাদেশে এর আগেও বহুবার ঘটেছে। এখনো ঘটছে। পরিমল জয়ধরের যথোপযুক্ত শাস্তি হওয়া উচিত। কিন্তু, হঠাৎ এক হিন্দু ব্যক্তি ঘটনাটা ঘটাবার পর এ নিয়ে এতো হিড়িক পড়ে গেল কেন? পরিমল জয়ধরের ঘটনার আগে ও পরে শুধু মূলধারার শিক্ষকই নয়, মাদ্রাসা শিক্ষক দ্বারাও ধর্ষণের বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে।

ভিকারুন্নিসার শিক্ষার্থী ও অভিভাবক ব্যতীত অন্যরা যারা পরিমল নিয়ে এতো গগনবিদারী হুঙ্কার ছাড়লেন, ব্লগ-ফেসবুক ইত্যাদিতে তুলকালাম কাণ্ড করলেন, মাদ্রাসা শিক্ষকদের ছাত্রছাত্রী ধর্ষণ নিয়ে তো তাদের কাউকে কোনদিন একটা বাক্যও ব্যয় করতে দেখা গেল না। তাহলে, এটি কি ছিল ধর্ষণের বিচার চাওয়ার প্রয়াস নাকি সাম্প্রদায়িকতার ধোঁয়া তোলার অপচেষ্টা?

কিছু সংবাদ শিরোনাম-

সেই জলিলসহ তিন মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার– প্রথম আলো
মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে শিক্ষকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড– ইউকেবিডিনিউজ
মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশু ধর্ষণের অভিযোগ– বাংলানিউজ২৪
উখিয়ায় দুই মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষিত, শিক্ষক বহিষ্কার– বাংলাদেশ প্রতিদিন
ছাত্রকে যৌন নির্যাতন, মাদরাসা শিক্ষক কারাগারে– বার্তা২৪.নেট


৪. জাফর ইকবাল স্যার নিজের লেখা গণিতের বইয়ের বিক্রি বাড়ানোর জন্য গণিত অলিম্পিয়াড করে বেড়ান।

উত্তরঃ আসলে নিন্দুকের কাছে অভিযোগের কোন অভাব হয় না! যুক্তির খাতিরে যদি ধরেও নেই যে তিনি গণিতের ওপর লেখা বইয়ের বিক্রি বাড়ানোর জন্য গণিত অলিম্পিয়াড করে বেড়ান তাতে আমাদের কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আমাদের দেখার বিষয় তার কাজ থেকে আমরা উপকৃত বা অপকৃত হচ্ছি কিনা। গণিতের বই বিক্রি করে যে অর্থ লাভ হয়, তার চেয়ে অনেক বেশী অর্থ ব্যয় হয় জেলায় জেলায় গণিত অলিম্পিয়াডের আয়োজন করতে। প্রথম আলো আর ডাচ্ বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের সহযোগিতায় এই প্রতিযোগিতাগুলো আয়োজিত হওয়ার ফলে শিক্ষার্থীরা ধীরে ধীরে ভৌত বিজ্ঞানের মূল চালিকাশক্তি গণিতের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে গণিতের বইয়ের তুলনায় জাফর ইকবালের লেখা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর বইয়ের সংখ্যা অনেক বেশী। গণিত অলিম্পিয়াডগুলোতে তো সেসকল বইয়ের প্রদর্শনী হয়েছে বলে শোনা যায়নি। আর প্রদর্শনী হলেও তাতে দোষের কিছু থাকার কথা না, কারণ বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী কিশোর মনকে অনুসন্ধিৎসু করে তোলে, তাদের সুপ্ত উদ্ভাবনী ক্ষমতাকে জাগিয়ে তোলে।


৫. জাফর স্যার তো আওয়ামী লীগের পক্ষে কথা বলে!

উত্তরঃ জাফর ইকবাল মৌলবাদ, ধর্মান্ধতা, মুক্তিযুদ্ধ, সমাজ-সংস্কৃতি ও শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন। তার দর্শনের সাথে আওয়ামী লীগের মূলনীতির আদর্শিক মিল থাকতেই পারে। তার মানে এই নয় যে তিনি আওয়ামী লীগের পক্ষে কথা বলছেন অথবা আওয়ামী লীগের সদস্যদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করছেন। জাফর ইকবাল আওয়ামী লীগের পক্ষে কথা বলেন কিনা তা নীচের লেখাটি পড়লেই বোঝা যাবে।

http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-03-05/news/135872


৬. তিনি কেন নিজের ছেলেমেয়েরে বিদেশে/ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ালেন?

উত্তরঃ বিদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এদেশের চেয়ে অনেক ভাল। সেজন্য উনি ওনার সন্তানদের ওখানে পড়াতে চাইতেই পারেন। ওনার সন্তানরা দু’জনেই স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত কর্নেল ইউনিভার্সিটিতে পড়ছে। এতে অন্য কারো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। এদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বিদেশ থেকে উচ্চতর শিক্ষা নিয়ে আসছেন বলেই দেশের শিক্ষাব্যবস্থা এখনো টিকে আছে। তাই বিদেশী শিক্ষা ব্যবস্থাকে কটাক্ষ করারও কোনো সুযোগ নেই।

ইংলিশ মিডিয়ামে পড়া শিক্ষার্থীদের প্রধান সমস্যা হল সমাজ সচেতনতার অভাব ও ফ্যান্টাসির জগতে পড়ে থাকা। জাফর ইকবাল কখনো বলেননি ইংলিশ মিডিয়াম বিলুপ্ত করে দিতে, বরং সেখানকার শিক্ষার্থীদের সমাজ, সংস্কৃতি ও রাষ্ট্র সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে চেয়েছেন। তাছাড়া আরেকটি ব্যাপার বিবেচনায় রাখা দরকার যে জাফর ইকবালের সন্তানদের ছোটবেলা কেটেছে আমেরিকায়। অর্থাৎ তাদের শিক্ষার হাতেখড়ি কিন্তু হয়েছিল ইংরেজিতেই।

সূত্রঃ “A life in quantum leap”- ১লা জানুয়ারী, ২০০৬ Newage পত্রিকায় প্রকাশিত মাহতাব হায়দারের নেওয়া সাক্ষাতকার


৭. জাফর স্যারের সাইন্স ফিকশনে নায়করা নাস্তিক। এসব দিয়ে তিনি নাস্তিকতার প্রচার করছেন।

উত্তরঃ পদার্থবিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন, স্টিফেন হকিং, জিনতত্ত্ববিদ জেমস ওয়াটসন (DNA’র গঠন আবিষ্কারক), গণিতবিদ সাইমন ল্যাপলাস কিংবা পদার্থ ও রসায়ন দুটোতেই নোবেল পাওয়া মাদাম কুরীর মতো বিখ্যাত ব্যক্তিত্বরা কি নাস্তিক (Atheist) কিংবা অজ্ঞেয়বাদী (Agnostic) নন? এরকম আরও অনেক উদাহরণ দেওয়া যাবে। তাহলে, সায়েন্স ফিকশনের নায়কদের নাস্তিক বানানো জাফর ইকবালের দোষ না আস্তিকদের ব্যর্থতা? বিজ্ঞানী আইনস্টাইন, গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সার্গেই ব্রিন এবং ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ (বর্তমানে atheist) ইহুদী বংশোদ্ভূত। বিশ্বে ইহুদীদের সংখ্যার তুলনায় বিজ্ঞানে তাদের নোবেল পাওয়ার হার অনেক বেশী। যারা এই অভিযোগ করেন তাদের সৌভাগ্য জাফর ইকবাল কোনো ইহুদীকে সায়েন্স ফিকশনের নায়ক বানাননি। বরং মৌলবাদী গোষ্ঠী প্রতিনিয়ত অমুসলিমদের আবিষ্কারগুলোকে ব্যবহার করেও তাদের বিরুদ্ধেই বিষেদগার করে বেড়াচ্ছে।


৮. আমেরিকায় ভাত না পেয়ে দেশে চলে আসছে।

উত্তরঃ জাফর ইকবাল এবং ওনার স্ত্রী দুজনেই আমেরিকায় পিএইচডি করেছেন। উনি “Bell Communications Research (Bellcore)” (বর্তমানে Telcordia Technologies) নামক বিখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠানে Research Scientist হিসেবে যোগদান করেছিলেন। চাকরীটা তো ওনার আত্মীয়-স্বজনেরা ধরিয়ে দেননি। যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেই তাকে সেখানে ঢুকতে হয়েছে। এমন লোকের ঐ দেশে খাওয়ারও জোগাড় হবে না সে কথা স্থূলমস্তিষ্ক ও নিন্দুকদের মুখেই শোভা পায়। Telcordia তে বর্তমানে একজন Senior Research Scientist এর মাসিক বেতন বাংলাদেশী টাকায় সাত লক্ষ টাকা, যেখানে বাংলাদেশের কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের বেতন সত্তর হাজার টাকাও না।

সূত্রঃ salarylist.com


৯. ফিজিক্সে পিএইচডি করে কম্পিউটার শেখাবে কীভাবে?

উত্তরঃ কম্পিউটার সায়েন্স এণ্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এর কোর্স কারিকুলামের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ দখল করে আছে ডিজিটাল ইলেকট্রনিক্স আর ডিজিটাল কমিউনিকেশন। পদার্থবিজ্ঞান থেকেও এসব বিষয়ে উচ্চতর গবেষণা করা যায়। অন্যদিকে গণিত ও যুক্তিতে ভাল যে কেউই তত্ত্বীয় কম্পিউটার বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করতে পারেন। Dennis Ritchie, John Mauchly, Gene Amdahl, Edsger W. Dijkstra, Donald Knuth, Andrew S. Tanenbaum সহ আরও অনেক বিখ্যাত কম্পিউটার বিজ্ঞানী পদার্থ বিজ্ঞানে পড়ালেখা করেছেন। আর জাফর ইকবাল যেই প্রতিষ্ঠানে চাকরী করতেন সেটার অধিকাংশ কাজই কম্পিউটার ও নেটওয়ার্ক সিস্টেমস কে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়। সুতরাং, কম্পিউটার সংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ে তার প্রোফেশনাল এক্সপেরিয়েন্স/ফ্যাকাল্টি যে রয়েছে তা সুস্পষ্ট।


১০. বুয়েট-মেডিকেলের মতো জায়গার কত ছেলেমেয়ে এবার এই লিঙ্ক শেয়ার করেছে জানেন? তার শঠতার বিরুদ্ধে একটি গণজাগরণ সংগঠিত হয়েছে!

উত্তরঃ আল কায়েদার সাবেক প্রধান ওসামা বিন লাদেন ছিলেন একজন প্রকৌশলী, আর বর্তমান প্রধান আইমান আল জাওয়াহিরি একজন চিকিৎসক। লাদেন ও জাওয়াহিরির মত উগ্রবাদী চেতনাধারী অনেক লোকজন বুয়েট-মেডিকেলে রয়েছে।

স্বাধীনতা বিরোধী মৌলবাদী চক্রের ইন্ধনে বর্তমানে এদেশে একদল তরুণের উদ্ভব ঘটেছে যারা ইসলামের ‘অ’,‘আ’-ও জানে না কিংবা জানলেও তা বিন্দুমাত্র পালন করেনা। কিন্তু, ইসলাম প্রচারের নামে ব্লগ-ফেসবুকে মৌলবাদী পোস্ট শেয়ার কিংবা ফরোয়ার্ড করাকে তারা রেফারাল পদ্ধতিতে পূণ্য কামাবার উপায় মনে করে। এরাই হলো জ্ঞানপাপী, প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত হয় ঠিকই কিন্তু মনে মনে জমিয়ে রাখে অন্ধবিশ্বাস ও স্বার্থের তাড়নায় সেই পশ্চিমা বিজ্ঞানশিক্ষাকে অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে।


১১. জাফর ইকবাল স্যার বাংলা ভাইয়ের চেয়ে কোনো অংশেই কম নন। তিনিও অগণিত শিশু-কিশোরের ব্রেইন ওয়াশ করছেন প্রতিনিয়ত। তাদের বুকে ঘৃণার বীজ বপন করছেন।

উত্তরঃ কোথায় জাফর ইকবালের মত একজন বুদ্ধিজীবী আর কোথায় বাংলাভাইয়ের মত একজন উগ্র মৌলবাদী! যেখানে বাংলা ভাইয়েরা সাধারণ মানুষের ধর্মভীরুতাকে কাজে লাগিয়ে ও ধর্মান্ধতাকে উস্কে দিয়ে ঘৃণা ও মৌলবাদের বীজ বপন করেছে সেখানে জাফর ইকবাল ত্রাণকর্তার ভূমিকায় আবির্ভূত হয়ে অগণিত শিশু-কিশোরের মনে বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদের বীজ বপন করেছেন। এই হলো পার্থক্য।

নারী-পর্দা-হিজাব-বুরখা-নিকাব


১. কলা আল্লাহ প্যাকেট করে দিয়েছেন, চকলেটও ফ্যাক্টরি থেকে প্যাকেট হয়েই বের হয়, কিন্তু তাদের চেয়েও অমূল্য যে নারী, তাকে কীভাবে প্যাকেট না করার কথা ভাবি?

উত্তরঃ আমার প্রশ্ন হলো, আল্লাহ তো মানুষকে নগ্ন অবস্থায় পৃথিবীতে পাঠান। হযরত আদম (আঃ) ও বিবি হাওয়া (আঃ) কেও তিনি নগ্ন অবস্থায়ই সৃষ্টি করেছিলেন। তাই বলে কি সমগ্র মানব জাতি নগ্ন হয়ে থাকবে?


২. ইরান ও মালয়েশিয়ায় মেয়েরা হিজাব পরে, ওরা কত উন্নত!

উত্তরঃ ইউরোপ আমেরিকার মেয়েরা হিজাব পরে না, সেখানকার দেশগুলো ইরান আর মালয়েশিয়ার চেয়ে আরও অনেক বেশী উন্নত। বরং মালয়েশিয়ায় সরকারী চাকরিজীবী মহিলাদের সম্পূর্ণ মুখমণ্ডল ঢাকা নিষিদ্ধ। সেদেশের সুপ্রিম কোর্টের ঘোষণা অনুযায়ী, “নিকাব বা পর্দার সাথে ইসলাম ধর্ম পালনের সাংবিধানিক অধিকারের কোনো সম্পর্ক নেই”, কারণ ইসলাম মুখমণ্ডল ঢাকাকে বাধ্যতামূলক করেনি।

সূত্রঃ Hijab by country- Wikipedia


৩. পর্দা প্রথা উন্নয়নের পথে অন্তরায় নহে। পর্দা করেও বহু মেয়ে পিএইচডি করছে, স্পোর্টসে অংশগ্রহণ করছে -কীভাবে হল এইটা?

উত্তরঃ পরিসংখ্যান ও পর্যবেক্ষণ দ্বারা এটাই প্রতীয়মান হয় যে পর্দাহীন দেশে মেয়েরা আরও অধিক হারে পিএইচডি করছে, আর খেলাধুলায় আরও অনেক বেশী ভালো করছে। ইরানে রাষ্ট্রীয়ভাবে নারীদের পর্দা করা বাধ্যতামূলক। ২০০৮ সালের বিশ্ব অলিম্পিক গেমসে ইরান ৫৫ জন প্রতিযোগী পাঠিয়েছিল এবং তাদের মধ্যে নারী প্রতিযোগী ছিল মাত্র ৩ জন। পুরুষদের ইভেন্টে একটি স্বর্ণ ও একটি ব্রোঞ্জ জিতলেও নারীদের ইভেন্টে তাদের অর্জন ছিল শূন্য। অন্যদিকে পর্দা বাধ্যতামূলক করা আরেকটি রাষ্ট্র সৌদি আরব অলিম্পিক গেমসে নারীদের অংশগ্রহণই করতে দেয় না। বোরকা পরে দৌড়, জিমন্যাস্টিক্স, ফুটবল, ক্রিকেট, হাই জাম্প, লং জাম্প, হার্ডলস, পোলভল্ট ইত্যাদি খেলায় অংশগ্রহণ করা সম্ভব? জেতা সম্ভব?

সূত্রঃ Iran at the 2008 Summer Olympics- Wikipedia
Saudi Arabia at the 2008 Summer Olympics- Wikipedia


৪. কতো মেয়ে স্বেচ্ছায় বোরখা পরে জানেন?

উত্তরঃ স্বেচ্ছায় করলেই কি কোনো কাজ ভাল হয়ে যায়? একইভাবে পাল্টা যুক্তি দিয়ে যদি বলা হয় এখন তো অনেক মেয়ে স্বেচ্ছায় বেশ খোলামেলাভাবে মডেলিং করছে তাহলে মৌলবাদী গোষ্ঠী কি এ পেশাকে মেনে নেবে? কোনো একটা ধারণার পক্ষে বিপক্ষে মতামত থাকতেই পারে। জাফর ইকবাল বোরখা সম্পর্কে তার মত প্রকাশ করেছেন মাত্র। বহুদিন ধরে ধর্মভীতিকে কাজে লাগিয়ে বোরখা পরতে একচেটিয়াভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে বলেই বাংলাদেশে আজ বোরখা পরার হার কিছুটা বেড়েছে। তাছাড়া নারীদের মাঝেও অনেক তালেবানপন্থী উগ্রবাদী আছে। মৌলবাদীদের দ্বারা মুরতাদ ঘোষিত হওয়ার কিংবা জঙ্গি হামলার শিকার হওয়ার ভয়ে সুশীল সমাজের অনেকেই এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাননি। জাফর ইকবাল এর বিরুদ্ধে মতামত তুলে ধরে তার ব্যাপক সাহস ও দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন। জাফর ইকবাল ঠিকই বলেছেন এদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে যে নারীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন তাদের প্রায় কেউই হিজাব পরিহিতা ছিলেন না। যারা তা জানেন না তারা নীচের ছবিগুলো দেখতে পারেন।






৫. যারা হিজাব করে না, তারা তো ইভটিজিং এর শিকার হবেই!

এবং
৬. একজন মেয়ে যদি নিজেকে সামলিয়ে চলতে না পারে, পুরুষকে প্রলুব্ধ করে, ঐ দুর্বল-কাতর মুমিন যদি নিজেকে সামলাতে না পারে – তাহলে কি সব দোষ ঐ পুরুষের? টাইট জিন্স আর ফতুয়া পড়া মেয়েটার কোনো দোষ নাই?

উত্তরঃ আমি এরূপ প্রশ্নকারীকে পাল্টা প্রশ্ন করতে চাই হিজাব বিহীন নারীদের দেখলে কি আপনার মধ্যেও ইভটিজিং করার কুপ্রবৃত্তি জাগ্রত হয়? সাধারণভাবে আপনি যদি সেসময় দুর্বল-কাতর মুমিন না হয়ে যান তাহলে অন্যরাও তা হবে না। আর যদি হয় তাহলে সেটা হবে অপরাধ। সেক্ষেত্রে নারীদের প্রতি বোরখা না চাপিয়ে অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা উচিত। পাশাপাশি নির্যাতিতা নারীরা যাতে সামাজিকভাবে নিগৃহীত না হন, সে জন্য সামাজিক সচেতনতাও তৈরি করা জরুরী।

কারও সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হলেই কি তার প্রতি নির্যাতন চালাতে হবে? বিপুল অর্থবিত্ত-ও তো মানুষের মনে লোভ লালসার সৃষ্টি করতে পারে। আর সেই লালসার বশবর্তী হয়ে সে অসৎকার্যে লিপ্ত হতে পারে। তাই কেউ যেন লোভ লালসার বশবর্তী না হয় তার জন্য অর্জিত বিপুল সম্পদের পুরোটাই বিলিয়ে দেওয়ার কোনো বিধান কি ইসলামে রয়েছে? তাহলে অর্থবিত্তের ক্ষেত্রে যদি নিজেকে লালসা থেকে দূরে রাখার বিধান মেনে নেওয়া যায় তাহলে নারীর ক্ষেত্রে সেই একই যুক্তি মেনে নিতে আপত্তি কোথায়?


৭. বোরখা না পরলে সমাজে অসামাজিক কার্যকলাপ বেড়ে যাবে।

উত্তরঃ কিন্তু, দেখা যায় বোরখার আড়ালে থাকা নারীরাও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে কম লিপ্ত হন না। এতে নিজের পরিচয় গোপন করে দেহব্যবসা চালিয়ে যাওয়া সহজতর হয়। বাংলাদেশের হোটেল গুলোতে নারী ব্যবসা নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদনগুলো মাঝে মাঝে টেলিভিশনের পর্দায় ভেসে ওঠে। সেখানে যে সকল নারীদের দেখা যায় তাদের প্রায় সবাই বোরখা বা হিজাব পরিহিতা। ঢাকা শহরের রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো ভাসমান পতিতারাও বোরখা পরিহিতা। বাসে করে রাস্তায় যাতায়াত করলে দেখা যায় রাস্তার মোড়ে মোড়ে যেসকল মহিলা বাসের যাত্রীদের যৌন সমস্যা সমাধানের বিকৃত বিজ্ঞাপন ছুড়ে মারে তারাও কিন্তু বোরখা পরিধান করেন। আবার বোরখার দ্বারা নিজেকে আড়াল করেই একজনের পরীক্ষা অন্যজন কর্তৃক দেওয়া সম্ভব যার কিয়দংশই পর্যবেক্ষকদের দ্বারা ধরা পড়ে। অন্যদিকে উন্নত দেশগুলোর সিসিটিভি নির্ভর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় বোরখা পরিহিতা নারী অপরাধীদের কিভাবে ধরা সম্ভব? তাহলে বোঝা যাচ্ছে বোরখা পরলেই অসামাজিক কার্যকলাপ প্রতিহত করা সম্ভব নয়।

ফার্মগেটে ভাসমান যৌনকর্মীঃ

হাটহাজারীতে ধরা পড়া ছয় পতিতাঃ

সূত্রঃ nijhumdip.com
chtnews23.com


৮. বোরখা একটি প্রতিরক্ষা বর্ম।

উত্তরঃ কিন্তু এই বর্ম পরিহিতাদের কর্মের দৌড় এখন পর্যন্ত খুব বেশী দূর গড়ায়নি। বরং বর্মহীন নারীরাই তাদের যোগ্যতার যথার্থ পরিচয় দিয়ে পুরুষের দাসত্ব থেকে প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা করেছে। পশ্চিমা বিশ্বে নারীরা পণ্যে পরিণত হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তাদের তা হতে বাধ্য করা হচ্ছে না। বরং তারা যা করছে স্বেচ্ছায় করছে। এভাবে নারীরা পণ্যে পরিণত হলে সেসকল সমাজের পতন হবে কিনা তা গবেষণা সাপেক্ষ বিষয়। আশা করি, তারা গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করে দেখবে।

মৌলবাদী গোষ্ঠীকে সচরাচর একটা যুক্তি প্রদর্শন করতে দেখা যায়। সেটা হলো আল্লাহ যেমন বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের মাঝে শ্রম বণ্টন করে দিয়েছেন তেমনি নারী পুরুষের মাঝেও শ্রম বণ্টন করে দিয়েছেন। পুরুষেরা আয়-রোজগার করে যেমন স্ত্রী সন্তানের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করবে তেমন নারীরা সন্তান লালনপালন ও গৃহস্থালি কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত থাকবে। মৌলবাদী গোষ্ঠী দুর্বল কাতর মুমিনের অস্তিত্ব স্বীকার করে ঠিকই। কিন্তু এই দুর্বল মুমিন যে একজন স্বেচ্ছাচারী নির্যাতক স্বামীও হতে পারে তা স্বীকার করে না। আয়-রোজগারহীন ঘরে বন্দী নির্যাতিতা নারীরা বোরখা পরে বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারলেও অর্থনৈতিক মুক্তি ব্যতীত অভ্যন্তরীণ শত্রুর দাসত্ব থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবে না।

এই হলো সেই আয়েশা বিবি, এক আফগান কিশোরী যাকে এক তালেবান জঙ্গির সাথে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই তালেবান জঙ্গির অমানুষিক নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে সে পালানোর চেষ্টা করে এবং ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত স্বামী ও শ্বশুরের নৃশংসতার বলি হয়ে তাকে নাক ও কান হারাতে হয়। মানবতাবাদী বিজ্ঞানমনষ্ক মানুষ তালেবানদের মত কাটতে জানে না ঠিকই। তবে নিখুঁতভাবে জোড়া লাগাতে তারা কোনো ভুল করে না। অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান গ্রেসম্যান ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় আয়েশা ফিরে পায় তার পূর্বের চেহারা।

এখন যেমন আছেন আয়েশা বিবি– প্রথম আলো


৯. আপনি কি চান, আপনার মা-বোনরাও বিদেশিদের মতো খুল্লাম খুল্লা হয়ে ঘুরুক?

উত্তরঃ বিদেশীদের মত সংক্ষিপ্ত পোশাক না পরা মানেই যে বোরখা পরিধান করা সেটা আপনাকে কে বললো? পশ্চিমা সমাজে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো আমাদের সমাজে শ্রুতিকটু হলেও তারা যে আমাদের চেয়ে মানসিকভাবে খারাপ আছে তা আমরা কীভাবে বলতে পারি? মানসিক অশান্তিতে ভোগা সমাজ কীভাবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে এরূপ উৎকর্ষ সাধনের প্রেরণা পায়? অ্যাপেলের প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস বান্ধবীর গর্ভে এক কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন। তিনি কি তার কাজের মাঝে সৃজনশীলতার ছোঁয়া রাখতে পারেননি? আপনি যেই ইন্টারনেট ব্যবহার করে বিদেশীদের বিরুদ্ধে লেখালেখি করছেন সেই ইন্টারনেট ব্যবস্থা ও এ সংক্রান্ত সকল কিছু কিন্তু তাদেরই তৈরি করা। তাদের সমাজ আপনার ভাষায় “খুল্লাম খুল্লা” হয়ে চলা শুরু করেছে আজ থেকে অনেক বছর আগে। এতো দিনে কি তাদের পতন অনিবার্য ছিল না?


১০. সৌদি আরবে যখন বিদেশিনীরা যাবে, তখন তাদের তো বোরখা পরতেই হবে। ওদের দেশে যাবা আবার ওদের আইন মানবা না?

এবং
১১. ফ্রান্স বোরখা/নিকাব নিষিদ্ধ করলো কেন? এ কেমন ধৃষ্টতা! ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ।

উত্তরঃ সৌদি আরবে যখন বিদেশিনীরা যাবে তখন যেমন বোরখা পরে যাবে তেমনি ফ্রান্সে ঢুকতে হলেও তাদের বোরখা খুলে ঢুকতে হবে। দু’দেশের জন্য দুই রকম যুক্তি প্রদর্শন করার অর্থ কী? সমস্যা হলো ফ্রান্সে বোরখা পুনরায় চালু করার জন্য কিছু বললে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হবে না, অন্যদিকে সৌদি আরবে বোরখার বিরুদ্ধে কিছু বললে “ব্লাসফেমি” আইনে শিরশ্ছেদ করাও হতে পারে, যেটা একদিকে ধৃষ্টতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতায় আঘাত অন্যদিকে মধ্যযুগীয় নৃশংসতার পরিচায়ক।

উল্লেখ্য, ফ্রান্সের পার্লামেন্ট জনসমক্ষে হিজাব নিষিদ্ধ করার আগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দৃষ্টিগোচর ধর্মীয় প্রতীক পরিধানও নিষিদ্ধ করেছিল। সে আইনের আওতায় মুসলিমদের হিজাবের পাশাপাশি, শিখদের পাগড়ী, ইহুদীদের ধর্মীয় টুপি (Kippa) ও খ্রিষ্টানদের বড় আকারের ক্রস পরিধানও নিষিদ্ধ ছিল। অন্য ধর্মাবলম্বী ও সাধারণ মুসলিমরা এই আইন মেনে নিলেও কেবল মৌলবাদী মুসলিমরা এর বিরোধিতা করে আসছে।

সূত্রঃ French law on secularity and conspicuous religious symbols in schools- Wikipedia


১২. বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের তুলনায় আমেরিকায় কত বেশি রেইপ হয় জানেন?

উত্তরঃ আমেরিকায় বাংলাদেশ কিংবা পাকিস্তানের চেয়ে রেইপ বেশি হলেও তা নিয়ে সেখানকার নারীদের খুব বেশি বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়না। বরং সেখানে একজন নির্যাতিতা নারীর সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা আছে বলেই তিনি লোকলজ্জার ভয় দূর করে আদালতের শরণাপন্ন হতে কুণ্ঠিত হন না। ওখানকার মেইনস্ট্রিম সিনেমা গুলোতে নগ্নতা থাকলেও প্রাসঙ্গিকভাবে না এলে রেইপের ন্যূনতম দৃশ্যটাও থাকেনা। অন্যদিকে এদেশের কিছু সংখ্যক মানুষ ব্যাপারটিকে মনে হয় কৌতূহলের বশে একটু বেশীই উপভোগ করে যে কারণে এদেশের অনেক ছবিতে সেই দৃশ্য জোরপূর্বক ঢুকানো হয়। উপরন্তু সমাজে নারীদের অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল বলে অনেক ধর্ষণ কেসই সঠিকভাবে রিপোর্টেড হয়না, বেশিরভাগ নারী নিজেই চায়না যে বিষয়টি নিয়ে মাতামাতি বা জল গড়াগড়ি হোক। মুখ বুজে সেই ধর্ষণকে মেনে নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে অগ্রসর হয়।

যুদ্ধাপরাধ


১. এখন সবাই মিলে সামনে এগিয়ে যাবার সময়, তবুও অতীত নিয়ে কেন পড়ে আছি আমরা?

উত্তরঃ কারণ, এই সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময়ে যাতে অতীতের পুনরাবৃত্তি না হয়।


২. যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করলে ঐ আধপেটা খেয়ে থাকা বরগা চাষি কি পেট ভরে খেতে পারবে?

এবং
৩. ওরা তো যা করেছে দেশপ্রেম থেকেই করেছে, ওরা চায়নি ৪৭ তে অনেক সংগ্রাম করে পাওয়া তাদের প্রিয় স্বদেশভূমিটা ভেঙে যাক। এমন চাওয়া কি ভুল? পাহাড়িদের ব্যাপারে আমরাও কি তাই করছি না?

উত্তরঃ তারা যা করেছে তা দেশপ্রেম থেকে না, বরং ধর্মান্ধতা থেকে করেছে। তারা এই কাজ করেছিল কারণ তাদের কাছে ধর্ম, বাঙ্গালী জাতির ন্যায্য অধিকারের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছিল। আজ তারাই যুদ্ধাপরাধের দায় থেকে বাঁচতে বরগা চাষির পেট ভরে খাওয়ার অধিকারের হিসেব চাচ্ছে!

৪৭ এর পূর্বে স্বদেশভূমির জন্য দীর্ঘ সংগ্রাম করা হয়েছিল তার উদ্দেশ্য ছিল অধিকার রক্ষা। কিন্তু, ৪৭ এর পরের দীর্ঘ বৈষম্য ও বঞ্চনায় এদেশের মানুষের কাছে তাদের স্বপ্ন ভঙ্গের আশঙ্কা ক্রমেই স্পষ্ট হতে থাকে। অতঃপর ৭০ এর প্রলয়ঙ্করী জলোচ্ছ্বাসে লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণহানির পরেও পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের নির্লিপ্ততায় এদেশের মানুষ ক্রমেই স্বাধীনতাকামী হয়ে ওঠে। ডিসেম্বরের নির্বাচনে সামরিক কর্তাব্যক্তিদের নানা হিসাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট উল্টে দিয়ে বাঙ্গালীরা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তর না করলে এটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে তারা কোনো দিনই বাঙ্গালীদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যেতে দেবে না, আজীবন নিপীড়িত করে রাখবে। তাই, রাজাকার বাহিনী কর্তৃক স্বাধীনতাকামী নির্যাতিত গণমানুষের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে শোষকগোষ্ঠীকে সহায়তা করা শুধু ভুলই নয়, বরং অমার্জনীয় অপরাধ।
(৩ নং প্রশ্নের শেষাংশে পাহাড়িদের প্রসঙ্গটি প্রশ্নের প্রথমাংশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়)


৪. ছাগু ছাগু করে যারা হাউকাউ করে তারা উগ্র জাতীয়তাবাদী। নিশ্চয়ই জানেন উগ্র জাতীয়তাবাদ ঘৃণ্য ব্যাপার?

উত্তরঃ ৭১ এর স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকার, আলবদর ও তাদের আদর্শে উজ্জীবিত মৌলবাদী তরুণ সমাজকেই “ছাগু” বলে ডাকতে দেখা যায়। এটা উগ্র জাতীয়তাবাদ নয়, বরং রাজাকার ও মৌলবাদী গোষ্ঠীর অমানবিকতা ও নোংরামির বিরুদ্ধে ঘৃণা প্রদর্শন, যদিও তা খুব একটা শ্রুতিমধুর নয়।

বাংলাদেশ-পাকিস্তান খেলার সময় মাঠেও এই স্বাধীনতা বিরোধীদের দৌরাত্ম্য লক্ষ্য করা যায়। এরা নিজ দেশের পতাকার পরিবর্তে পাকিস্তানের পতাকা উড়ায়, শহীদ আফ্রিদিরা ছক্কা মারলে উল্লাস প্রকাশ করে। ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি হিসেবে পাকিস্তানকে সমর্থন করলে সমস্যার কিছু ছিল না। কিন্তু, নিজ দেশের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানকে সমর্থন করা কেবল নবরাজাকারদের দ্বারাই সম্ভব।


৫. তুমি একজনকে ঘৃণা করো, তাই বলে আমাকেও কি তাকে ঘৃণা করতে হবে?

উত্তরঃ এ প্রশ্নটি বরং মৌলবাদী গোষ্ঠীকে করা উচিত কারণ তারাই নিজের মতবাদ অন্যের উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। নিজেরা যা ঘৃণা করে অন্যদেরও তা ঘৃণা করতে বাধ্য করতে চায় এবং তাতে ব্যর্থ হলে “দ্বীন রক্ষার পরিবর্তে” জোরপূর্বক তাদের আইন প্রতিষ্ঠার জিহাদী কর্মকাণ্ডে অবতীর্ণ হয়। অন্যদিকে মৌলবাদ বিরোধী গোষ্ঠী নিজেদের ধারণায় উদ্বুদ্ধ হতে অন্যদেরকে উৎসাহিত করে ঠিকই। কিন্তু, তাতে ব্যর্থ হলে কোনো সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডে অবতীর্ণ হয় না।


৬. আমরা যুদ্ধে জিতেছি বলে ইতিহাস আমাদের মতো করেই রচিত হয়েছে। পাকিস্তানি সেনাদের কাঁধে তাই চাপিয়ে দিচ্ছি যুদ্ধাপরাধের দায়।

উত্তরঃ ১৯৭১ এ বাঙ্গালী নিধনের অসংখ্য ছবি ও ভিডিও ফুটেজ দ্বারা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয় যে এখানে একটা বড় ধরনের গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ সংঘটিত হয়েছিল। আর সেটা ঘটিয়েছিল পাক হানাদার ও তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর ও আলশামসরা। কিন্তু, এখন “আমরা” না বরং সেই রাজাকার, আলবদররাই নিজেদের অপরাধ ঢাকার জন্য কেবল পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের কালিমা লেপন করছে।


গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের আরও কিছু ছবি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন অনলাইন ফটো অ্যালবামের লিংক


৭. ঘৃণার বীজ আর কত বুকে নিয়ে ঘুরবো? একসময় তো মানবতার জয় হতেই হবে। মিলে মিশেই এগিয়ে যেতে হবে তাই।

উত্তরঃ কিন্তু, এগিয়ে যাওয়া বলতে যদি এক দল লোক প্রগতিশীলতার দিকে এগিয়ে যাওয়া আর আরেক দল মৌলবাদের দিকে এগিয়ে যাওয়া বুঝে তাহলে সেখানে একত্রে মিলে মিশে এগিয়ে যাওয়া যায় না। কেননা একগ্লাস দুধের মধ্যে সামান্য এক ফোটা বিষের মিশ্রণে পুরো দুধটাই অপেয় হয়ে পড়ে।


৮. নিরস্ত্র বিহারিদের কি মারা হয় নি?

উত্তরঃ ১৯৭১ এ বিহারীরা পাক বাহিনীর সঙ্গে মিলে প্রত্যক্ষভাবে বাঙ্গালী নিধনে অংশ গ্রহণ করে। এরই ফলশ্রুতিতে তাদেরকেও পাল্টা আঘাতের সম্মুখীন হতে হয়। তবে নিরীহ ও নিরস্ত্র যেকোনো মানুষকে হত্যা করা সম্পূর্ণ মানবতা বিরোধী।

প্রথমত, স্বাধীনতাপূর্ব বিহারীরা যেহেতু বাংলাদেশের নাগরিক নন সেহেতু এর বিচার করার দায়ভার এদেশের সরকারের না। দ্বিতীয়ত, নিরস্ত্র বিহারীদের উপর চালানো আক্রমণগুলো হয়েছিল অতর্কিতভাবে। কারা এর সঙ্গে জড়িত ছিল তা বের করা কার্যত অসম্ভব।

বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক বিহারীদের পাকিস্তানে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য সেদেশের সরকারকে বার বার চাপ প্রয়োগ করা সত্ত্বেও তারা তাদের গ্রহণ করতে রাজী হয়নি। অথচ বিহারীদের একটা অংশ এখনো পাকিস্তানে পুনর্বাসিত হওয়ার স্বপ্ন দেখছে, বাংলাদেশের মাটিতে পাকিস্তানের পতাকা উত্তোলন করছে। অথচ একজন সাধারণ বাঙ্গালীর মতই তারা বিনা বাধায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। তারাও জীবন ধারণের সকল মৌলিক চাহিদা ভোগ করছে।

কিছুদিনপূর্বে একটি টেলিভিশন চ্যানেল মুক্তিযোদ্ধা সাদেকুর রহমানের একটি সাক্ষাতকার প্রচারিত হয়। তিনি বলেন সেসময় তিনি পাকিস্তানের হাবিব ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন এবং কেবল নিজের স্বাক্ষরটা বাংলায় দেওয়ায় সেখানে তাকে চরমভাবে তিরষ্কৃত হতে হয়েছিল যদিও পরে তিনি সংকট কাটিয়ে উঠেন। এতে সাহস পেয়ে ইউনাইটেড ব্যাংকে কর্মরত তার এক বন্ধুও একই কাজ করেন কিন্তু শেষে চাকরী হারিয়ে দেশে ফিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন। তাহলে বুঝাই যাচ্ছে সেসময় বাঙ্গালীদের নিজ সত্ত্বা প্রকাশ করা কতটা ভয়ানক ছিল। অথচ বাংলাদেশে বিহারীদের অবস্থা কতটা ভাল যে পথে ঘাটে প্রকাশ্যে তারা উর্দুতে কথা বলে তাদের পরিচয়ের জানান দিতে কুণ্ঠিত হন না।


৯. তাহলে বঙ্গবন্ধু এদের বিচার না করে মাফ করে দিলেন কেন?

১৯৭২ সালের দালাল আদেশ অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধকালীন পাকবাহিনীকে সহায়তার অভিযোগে ৩৭ হাজার লোককে আটক করা হয়। ১৯৭৩ এর ৩০ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু কেবল যেসকল বন্দীর বিরুদ্ধে খুন, খুনে সহায়তা, ধর্ষন, অগ্নিসংযোগের মত গুরুতর অভিযোগ নেই তাদের জন্য দেশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের শর্তে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। এই সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার পরও কারাগারে প্রায় ১১ হাজার যুদ্ধাপরাধী আটক ছিল। তথ্যপ্রমাণসহ এ সংক্রান্ত বিস্তারিত জানতে নীচের দুইটি লেখা অবশ্যপাঠ্য।

বঙ্গবন্ধুর সাধারণ ক্ষমাঃ ডকুমেন্টস সহ সকল মিথ্যাচারের প্রমাণ


১০. আওয়ামীলীগ নিজেই তো জামাতের সাথে জোট করেছিলো। এখন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য যুদ্ধাপরাধের বিচারের নাটক করছে। আপনি কি মনে করেন আওয়ামীলীগ সত্যিই এ ব্যাপারে আন্তরিক?

উত্তরঃ মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের কোনো দলেরই উচিত না এর বিরোধিতাকারী কোনো দলের সাথে কোনো প্রকার জোট গঠন করা, যদিও ১৯৯১ এর এরশাদের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ঠিক জোট গঠিত হয়নি, বরং সেটা ছিল আন্দোলনকে বেগবান করতে অনেকগুলো রাজনৈতিক দলের একই ছাতার নিচে আগমন। ধরা যাক আওয়ামী লীগ হয়তো প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতেই যুদ্ধাপরাধের বিচার করছে। তবে আমাদের দেখার বিষয় যুদ্ধাপরাধের বিচার করা উচিত কিনা, আর উচিত হলে সে বিচারে কোনো নির্দোষ ব্যক্তি প্রহসনের শিকার হচ্ছেন কিনা। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীরাই আজ সমাজে মৌলবাদের বিষবাষ্প ছড়িয়ে বাংলাদেশকে তালেবানী রাষ্ট্র বানানোর দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তাদের অনুসারীরাই আজকে “আমরা হব তালেবান, বাংলা হবে আফগান” স্লোগানে রাজপথ প্রকম্পিত করছে। তাই সঠিকভাবে এই বিচার সম্পন্ন হলে দেশে মৌলবাদের উত্থানকে অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।


১১. যারা জামাত-শিবির করে তারা সবাই কি খারাপ? অনেকের তো জন্মই হয়েছে “গণ্ডগোলের” অনেক পরে। তাদের কী অপরাধ?

উত্তরঃ নিশ্চিতভাবেই তারা ঐ মুক্তিযুদ্ধবিরোধী গোষ্ঠীরই পরিবারের লোক এবং মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জন্মের সূচনা থেকেই জানতে না পারার কারণে চরমভাবে বিভ্রান্ত। তাদের প্রায় সবার মধ্যেই মৌলবাদী উগ্রপন্থা লক্ষ্য করা যায় যদিও গ্রহণযোগ্যতার অভাবে তারা সেগুলোকে সবসময় প্রকাশিত হতে দেন না। কিন্তু, একবার জেঁকে বসলে তারা একাত্তরে গণহত্যা চালানো তাদের পিতৃসংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘের রুদ্রমূর্তি ধারণ করবে না তা কে বলতে পারে? বাংলাদেশ আর পাকিস্তান আবার এক হওয়ার সম্ভাবনা নেই এবং মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাঁথাকে তরুণ সমাজ অস্বীকার করতে পারবে না জেনেই এতদিনে তারা ১৬ই ডিসেম্বর উপলক্ষে লোক দেখানো বিজয় র‍্যালী বের করছে, রক্তদান কর্মসূচি পালন করছে। শিবির যদি মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তিই হবে তবে কেনো তারা ৭১ এ স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী জামায়াতে ইসলামীর অনুসারী? কেনো তাদের কর্মসূচিতে মুক্তিযোদ্ধাদের দেখা যায় না? আর কেনই বা শিবিরকর্মীদের মধ্যে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সন্তান খুঁজে পাওয়া যায় না?

শিবির যে কত বড় ভণ্ড তার প্রমাণ মেলে তাদের ওয়েবসাইট থেকে। যারা বিজয় দিবস উপলক্ষে এতো বড় বিজয় র‍্যালী বের করে তাদের ওয়েবসাইটে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় অধ্যায় সম্পর্কে কোনো কোন কথাবার্তা নেই, নেই বাঙ্গালীদের উপর নির্মম হত্যাযজ্ঞের কোনো কথা, নেই বিজয়ের পতাকা উড়িয়ে ফিরে আসা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো ছবি, আছে শুধু নিজেদের বিজয় র‍্যালীর ছবি আর ফটোশপে তৈরি গুটিকয়েক ব্যানার যেগুলো বিজয় দিবসের আগে দিয়ে সুকৌশলে এঁটে দেওয়া হয়েছে! তাদের ওয়েবসাইটে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে উপস্থাপিত তথ্যগুলো পড়লে এর প্রতি কোনো ভক্তি তো জন্মায়ই না বরং মুক্তিযুদ্ধকে একটা অর্জনহীন অহেতুক আত্মঘাতী যুদ্ধ বলে মনে হয়।

শিবিরের ওয়েবসাইটঃ http://www.shibir.org.bd/
[পুরো ওয়েবসাইটটি গ্র্যাব করে রাখা হয়েছে। দেখা যাক শিবির তাদের ওয়েবসাইটটির তথ্য পরিবর্তনের অপচেষ্টা চালিয়ে নতুন ভণ্ডামির পরিচয় দেয় কিনা]


১২. নিজামী, মুজাহিদ, গোলাম আযম, এদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের কোনোই প্রমাণ নেই! নাহলে এতদিনে তাদের সাজা হয়েই যেত। সব আওয়ামী ষড়যন্ত্র।

উত্তরঃ নিজামী, মুজাহিদ, গোলাম আযম যে স্বাধীনতার বিরোধী ছিলেন সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে তারা আসলেই যুদ্ধাপরাধ করেছেন কিনা তা প্রমাণ সাপেক্ষ বিষয়। পূর্বে যেমন বলা হয়েছে বিচারের নামে কোনো নির্দোষ ব্যক্তি প্রহসনের শিকার হচ্ছেন কিনা তা খতিয়ে দেখা উচিত এটা তাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তবে স্বাধীনতার এতো বছর পর বিচার শুরু করে প্রমাণ খুঁজে বের করা কষ্টসাধ্য ও সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।


১৩. পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ, সড়ক, এসব নিয়েই লাখো সমস্যায় হিমসিম খাচ্ছে সরকার। এর মধ্যে সেই কোন অতীতের ঘটনার বিচারের মতো বাড়তি ঝামেলা করার কোনো মানে আছে? ওতে কি বর্তমানের সমস্যাগুলো কাটবে?

উত্তরঃ ৭১ এ শহীদ বুদ্ধিজীবীদের কারা হত্যা করেছিল? কারা পাক হানাদার বাহিনীকে পথ চিনিয়ে দিয়েছিল? কারা বাঙ্গালী নারীদের পাক বাহিনীর ভোগের পাত্র করেছিল? কারা বাড়ি বাড়ি অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজ করেছিল? যুদ্ধাপরাধের শিকার প্রতিটা পরিবারেরই এর বিচার পাওয়ার অধিকার আছে। এই বিচারের মাধ্যমে দেশের বর্তমান সমস্যা গুলোর সমাধান হবে কিনা সেই প্রশ্ন তোলা অবান্তর।


১৪. শর্মিলা বসু অক্সফোর্ডের মাস্টার, তিনি কি শুধু শুধু মিথ্যা কথা বলবেন? তাছাড়া তিনি পাকিস্তানের না, তিনি একজন বাঙালি।

উত্তরঃ পাকিস্তানের এয়ার মার্শাল আসগর খান তো একজন পাকিস্তানি, তাও আবার সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ পর্যায়ের লোক। তাহলে তিনি কেন বাঙ্গালীদের উপর বঞ্চনা, বৈষম্যের অভিযোগ স্বীকার করে এদেশের নাগরিকত্ব লাভের ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন?
বিস্তারিত- বাংলাদেশের নাগরিকত্ব চান পাকিস্তানের এয়ার মার্শাল আসগর খান– কালের কণ্ঠ

আবার পাকিস্তানের প্রভাবশালী গণমাধ্যম জিয়ো টেলিভিশনের সাংবাদিক হামিদ মীর কেন বাংলাদেশের আছে পাকিস্তানের আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়ার দাবিকে সমর্থন জানিয়েছেন?
বিস্তারিত- বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়া উচিত– প্রথম আলো


১৫. আমাকে ছাগু ছাগু করছেন, জানেন আমার বাবা কত বড় মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন?

উত্তরঃ আপনার বাবা যে কত বড় মুক্তিযোদ্ধা ছিল তা তো বুঝাই যাচ্ছে। আপনার মত তথাকথিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানরাই তো মুক্তিযুদ্ধকে “গণ্ডগোল” বলে থাকে, মুক্তিযুদ্ধ বলে না! তবে মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝেও যে গুটিকয়েক মৌলবাদী ও সুবিধাবাদী লোক ছিল না তা বলা ঠিক হবে না। সময়ের স্রোতে সোনার ভেতরে খাদের ন্যায় এরা মুক্তিযুদ্ধে জড়িয়ে গিয়েছিল।

বিঃদ্রঃ “মৌলবাদ” ও “উগ্রপন্থা” দ্বারা তাদের আভিধানিক অর্থের পরিবর্তে প্রচলিত অর্থ বোঝানো হয়েছে। এ দুটো শব্দ দ্বারা নিজের মতবাদ অন্যের উপর জোর পূর্বক চাপিয়ে দেওয়া/ সে মতবাদ অনুসারে না চললে নৃশংস শাস্তির ব্যবস্থা করা/ অন্যের ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ/ অন্যের মতবাদকে প্রচার করতে না দেওয়া বোঝানো হয়।

NBSR 024-118-315