ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশের নামে ষড়যন্ত্র, সেনা অভ্যূথান প্রচেষ্টা এবং সর্বশেষ মহাসমাবেশের নামে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আরব বসন্তের ঘটিয়ে ৭১-এ পরাজিত একই অপশক্তি ৭৫-এর ন্যায় আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচূত করার রঙীন স্বপ্নে বিভোর। কিন্তু কেন? একমাত্র সহজ উদ্দেশ্য ৭৫-এর ন্যায় আওয়ামী লীগের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য ক্ষমতায় এসে ৭৫-এর ন্যায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার থেকে রেহাই দিয়ে তাদের স্বাভাবিক মৃত্যু নিশ্চিত করা।কৃষি, শিক্ষা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সফলতা বাদ দিলেও বিদ্যুত সমস্যার সমাধান এবং জ্বালানী তেলে ও বিদ্যুতের দাম সমন্বয় তথা ধাপে ধাপে ভর্তুকি তুলে নিয়ে সরকার এমন সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছে যার সুফল অন্ততঃ আগামী ২৫ বছর পর্যন্ত জনগণ ও পরবর্তী সরকার ভোগ করবে। আগামী ২ বছরের মধ্যে বিদ্যুত সমস্যার সমাধানের মাধ্যমে জনগণ দীর্ঘ বছরের ভোগান্তি (অতীত এবং ভবিষ্যত) থেকে মুক্তি পাবে। আবার ভর্তুকি তুলে নেয়ার ফলে দেশী-বিদেশী ব্যাংক থেকে জ্বালানী তেল কেনার জন্য সরকারকে বিপুল পরিমান অর্থ ধার নিয়ে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় হিমশিম খাওয়া বা কঠিন চ্যালেন্জের সন্মুখিন হওয়া লাগবে না। সবচেয়ে বড় সমস্যার সমাধান হওয়ায় পরবর্তী সরকারের জন্য রাস্তা পরিষ্কার। বিদ্যুত ও জ্বালানীর দাম বাড়ানোসহ অন্যান্য অজুহাতে জনগণকে ক্ষেপিয়ে যে কোন মূল্যে আওয়ামী লীগের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে এবং আওয়ামী লীগকে ঠেকিয়ে ক্ষমতায় যেতে পারলে বড় সমস্যা না থাকার জন্য হেস-খেলে দেশ চালানো যাবে।দাম বাড়ানোর অজুহাতে আওয়ামী লীগকে জনগণের নিকট দোষী বানানোর চেষ্টা করলেও ক্ষমতায় যেয়ে বিদ্যুত ও জ্বালানীর দাম কমানো হবে না। আবার দেশের স্বার্থে আওয়ামী লীগের ন্যায় দাম বাড়িয়ে জনগণের নিকট অপ্রিয় হওয়ারও আপাততঃ প্রয়োজন নেই। কী শান্তি। এভাবে অনেক বছর শান্তিতে ক্ষমতায় থাকতে পারলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার থেকে রেহাই দিয়ে তাদের স্বাভাবিক মৃত্যু নিশ্চিত করা যাবে যা ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের মাধ্যমেও করা হয়েছিল।বর্তমানের ন্যায ১৯৭৫ সালেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া চলমান ছিল্। কিন্তু ১৯৭৫ সালে দেশে তেমন কোন মহাসংকট ছিল না। অপশক্তির ষড়যন্ত্র সত্বেও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সফলতার সঙ্গে ১৯৭৪-এর দূর্ভিক্ষ মোকাবেলা করেছিলেন এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পূণর্বাসনের দ্বারপ্রান্তে এনেছিলেন। ঠিক তখনই জাতিকে ষড়যন্ত্রের জালে বন্দি এবং বিভ্রান্ত করে বঙ্গবন্ধু এবং ৪ নেতা হত্যাকান্ডের মাধ্যমে অপশক্তির এজেন্ট প্রয়াত জিয়াকে ক্ষমতায় বসানো হয়। মশিউর রহমান যাদু মিয়ার ডায়েরী অনুসারে জিয়া উর্দু এবং ইংরেজীর ন্যায় বাংলা ভাল বলতে পারতো না কিন্তু মাইলের পর মাইল হাটতে পারতো। বাংলা ভাল না পারার জন্য ভাষণ কম দেয়া এবং মাইলের পর মাইল হাটতে পারার জন্য জিয়াকে দিয়ে খাল কাটিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হয়েছিল। পৃর্থিবীর সবচেয়ে দামী সানগ্লাস চোখে অথচ গেন্জী ছেড়া; জনগণের সঙ্গে মশকরা কাকে বলে।

বতর্মান সরকার যদি সুন্দরভাবে দেশ চালিয়ে স্বাথর্ক হয় তবে আগামী নির্বাচনেও জনগণের ভোটে আওয়ামী লীগ জয়ী হবে। জামাত-বিএনপি কোনভাবেই জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসতে পারবে না। কারণ ২০০১-০৬ টার্মে তারা দেশের মঙ্গলের জন্য দৃষ্টান্তমূলক এমন কিছুই করে নাই যা জনগণ স্মরণ করে আবারও তাদের ভোট দিবে। একারণেই ক্ষমতায় আসতে হলে আওয়ামী লীগকেও ২০০১-০৬-এর ন্যায বা তারচেয়েও বেশী ব্যর্থ করতে হবে। তখন তারা জনমত সৃষ্টি করবে, আওয়ামী লীগ আমাদের চেয়েও ব্যর্থ, অতএব আমাদের ভোট দাও। অলরেডি তারা বিভিন্ন খবরের কাগজের অনলাইন এডিশন এবং ফেসবুকে “আওয়ামী লীগের ব্যর্থতাই তাদের সফলতা” এমন মন্তব্যের মাধ্যমে ২০০১-০৬ -এ নিজেদের ব্যর্থতাকে আড়াল করে আওয়ামী লীগের নামে ব্যর্থতার অপপ্রচার চালাচ্ছে।

সরকার ব্যর্থ হ’লে বাংলাদেশ ব্যর্থ তাতে জামাত-বিএনপি’র কিছুই যায়-আসে না; কারণ সরকার ব্যর্থ না হ’লে ক্ষমতায় আসার জন্য ভোটের সময় জনগণের নিকট তদের বলার কিছু থাকে না।পাকিস্তানপন্থী তাদের গোপন নীতি হচ্ছে দেশ পরে, দল আগে। একারণে দেশকে রসাতলে নামিয়ে এবং রসাতলে নামানোর দোষ আওয়ামী লীগের ঘাড়ে চাপিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করে য়েকোন মূল্যে ক্ষমতায় আসতে হবে। এই হচ্ছে জামাত-বিএনপি জোটের দেশপ্রেম!

১৯৭২-৭৫ সালেও বঙ্গবন্ধু সরকারকে বেকায়দায় ফেলা এবং ৭৫-এর ট্রাজেডি ঘটানোর পিছনে একই অপশক্তি জড়িত ছিল।কিন্তু তখন অপশক্তির প্রধান রাজনৈতিক গ্রুপ ছিল জামাত এবং বর্তমানে বিএনপি।আমরা অনেকেই একটি বিষয় বুঝিনা যে বিএনপি জামাতেরই সৃষ্টি।প্রয়াত জিয়ার সুবিধাবাদী মুক্তিযুদ্ধে সংশ্লিষ্টতা এবং ২৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণার সাইনবোর্ড কাজে লাগিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করে মুক্তিযুদ্ধারাই ক্ষমতায় আছে (বাস্তবে পাকিস্তানপন্থী) ১৯৭৫ সালে জামাত জিয়াকে ক্ষমতায় বসিয়েছিল। জামাতই পরবর্তীতে আইএসআই-এর সঙ্গে পরামর্শক্রমে জিয়াকে দিয়ে বিএনপি (বাংলাদেশ নয় পাকিস্তান = বিএনপি ; Bangladesh Not Pakistan) প্রতিষ্ঠা করে। ক্ষমতা গ্রহণের পর জিয়ার পাকিস্তান এবং জামাত প্রীতি থেকেই বিষয়টি পরিষ্কার। বর্তমানেও আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতাচূত করার ক্ষেত্র তৈরী তথা সরকারকে বেকায়দায় ফেলা, ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা বা ব্যর্থ করার গোপন মিশনের মূল পরিকল্পনাকারী জামাত, সঙ্গে আছে বিএনপি’র পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতা।

এমনকি এই অপশক্তি ৭৫-এ বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের ন্যায় বর্তমানে জননেত্রী শেখ হাসিনাকেও হত্যাকাণ্ডের স্বপ্ন দেখতেছে। বিডিআর ট্রাজেডি, ব্যর্থ সেনা অভ্যূথান এবং ফেসবুক-টুইটার বা অনলাইন খবরের কাগজে তাদের মিডিয়া গ্রুপের মন্তব্য সেই আলামতই বহন করে।

সরকার ব্যর্থ অর্থ আওয়ামী লীগ ব্যর্থ। আওয়ামী লীগকে ব্যর্থ করার গোপন মিশন বাস্তবায়নের জন্য এই অপশক্তি মনে হয় ৪টি গ্রুপে ভাগ হয়ে কাজ করছে;

১,প্লানিং গ্রুপ
২,পলিটিক্যাল গ্রুপ
৩,অপারেশন্স গ্রুপ , এবং
৪, মিডিয়া গ্রুপ।

আওয়ামী লীগ সরকার উৎখাত প্রচেষ্টা : অপশক্তির কেন এই অপকৌশল?

প্লানিং গ্রুপ:
অন্য ৩ গ্রুপের প্রতিনিধিসহ, অপশক্তিপন্থী বুদ্ধিজীবি এমনকি আওয়ামী লীগ বিরোধী বিদেশী গোপন এজেন্টও এই গ্রুপ সংশ্লিষ্ঠ। সরকার এবং আওয়ামী লীগকে ব্যার্থ করার জন্য অন্য ৩ গ্রুপের কাজ কি হবে তা এখান থেকে নির্ধারিত এবং পরিচালিত হয়। সরকারকে ব্যর্থ করার বিভিন্ন ক্ষেত্র তৈরীর পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং অন্য ৩ গ্রুপ দ্বারা সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নই হচ্ছে প্লানিং গ্রুপের প্রধান কাজ। তাদের গঠিত প্রকাশ্যে গ্রুপ নাইন বা জি-নাইন কিন্তু সরকার এবং আওয়ামী লীগকে ব্যর্থ করার জন্য এটাই গোপনীয় প্লানিং গ্রুপ হওয়া অসম্ভব নয়।

পলিটিক্যাল গ্রুপ:
প্লানিং গ্রুপের পরামর্শক্রমে কখন এবং কোন বিষয়ে কি রাজনৈতিক বক্তৃতা/বিবৃতি দিতে হবে তা বাস্তবায়ন করাই পলিটিক্যাল গ্রুপের কাজ। অপারেশন্ন গ্রুপের কাজ শেষ হওয়া (বক্তৃতা/বিবৃতি’র ক্ষেত্র তৈরী )-র পরপরই এই গ্রুপের কাজ শুরু হয়। সঙ্গে সঙ্গেই মিডিযা গ্রুপও রাজনৈতিক গ্রুপের বক্তৃতা/বিবৃতি’র সুত্র ধরে আওয়ামী লীগ বিরোধি জনমত সৃষ্টির জন্য অব্যহত অপপ্রচার শুরু করে।

অপারেশন্স গ্রুপ:
প্লানিং গ্রুপের পরামর্শক্রমে সরকার তথা আওয়ামী লীগকে প্রশাসনিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক এবং সাংগঠনিকভাবে বেকায়দায় ফেলা, ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা বা ব্যর্থ করার মূল কাজ অপারেশন্স গ্রুপ দ্বারা পরিচালিত হয়। সরকারের ভেতরে সরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আওয়ামী লীগ বিরোধি ঊধর্তন/নিম্নতম কমর্চারী, আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য এবং সরকারের বাইরে আওয়ামী লীগ বিরোধি এনজিও, বেসরকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঊধ্বর্তন ব্যক্তিবর্গ, ছাত্র-যুব নেতা, সন্ত্রাসী, খূনী, ডাকাত, ছিনতাইকারী প্রভৃতি বিভিন্ন বিষয় ও সেক্টর সংশ্লিষ্ঠ উপগ্রুপের সমন্বয়ে এই গ্রুপ গঠিত। অপারেশন্স গ্রুপ সংশ্লিষ্ঠ অপশক্তিপন্থী সন্ত্রাসী, খূনী, ডাকাত, ছিনতাইকারীদের কাজ হচ্ছে সন্ত্রাস, খূন, ডাকাতি, ছিনতাই ইত্যাদি কিভাবে ২০০১-০৬-এর চেয়ে বেশী ঘটিয়ে “সরকার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ”এই দোষে দোষী করা যায়। তদ্রুপ, অপারেশন্স গ্রুপ সংশ্লিষ্ঠ যে যেখানেই আছে সেই অবস্থান থেকে কলম বা হাত দিয়ে চেষ্টা করে কি ভাবে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা যায়।

বিডিআর বিদ্রোহে ইন্ধন দেয়াকে ভিত্তি ধরে অপারেশন্স গ্রুপ গঠিত হয়। বিডিআর বিদ্রোহের সময় এই অপারেশন্স গ্রুপ গঠিত না হলেও বিডিআরে লুক্কায়িত জামাত-হিযবুত জঙ্গীদের ইন্ধনে বিদ্রোহ সংগঠিত হয় যা বিএনপি হাই কমান্ড অবগত ছিল। বিএনপি হাই কমান্ড অবগত থাকার স্বপক্ষে যুক্তি হ’ল, বিদ্রোহ সংগঠনের অনেক আগেই বেগম জিয়া ক্যান্টনমেন্ট বাসার বাইরে লুকিয়ে থেকে সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন, কখন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচূত হবে। বিদ্রোহে অপশক্তির উদ্দেশ্য ব্যর্থ হলেও অন্য জায়গায় তারা সফল হয়েছে। তাদের মিডিয়া গ্রুপের সহযোগিতায় বিদ্রোহের সঙ্গে আওয়ামী লীগকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালিয়ে দেশবাসীকে বিভক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। এই সফলতাকেই পূঁজি করেই পরবর্তীতে অপারেশন্স গ্রুপ গঠিত হয়।

অপারেশন্স গ্রুপ দ্বারা পরবর্তীতে তারা অনেকগুলো সফলতা ঘরে তুলে নেয়। অপারেশন্স গ্রুপের ১ম সফলতা আসে আর্মি হাউজিং এষ্টেট প্রকল্প ব্যর্থ করার মাধ্যমে। পরবর্তীতে তারা আড়িয়াল বিলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর প্রকল্প ব্যর্থ করে আর এক সফলতা পায়।

ডঃ ইউনুস বিষয়ে বিতর্ক সর্ষ্টি করে কূটনৈতিক সফলতা ঘরে তোলার জন্যও এই গ্রুপ কাজ করেছিল্। একটু লক্ষ্য করলে বিষয়টি পরিষ্কার হয়। বিদেশী ওয়েবসাইটে বিষয়টি প্রকাশ করা এবং বাংলাদেশী মিডিয়াকে ফোকাস করানোর পিছনে অপারেশন্স গ্রুপের ইন্ধন ছিল। প্লানিং গ্রুপের উদ্দেশ্য ছিল অপারেশন্স গ্রুপের কাজ শেষ হলেই আওয়ামী লীগ তথা সরকার ডঃ ইউনুসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। সরকারের ব্যবস্থা নেয়ার পরপরই রাজনৈতিক গ্রুপ খুশি হয়ে সরকারের ব্যবস্থা নেয়ার বিরুদ্ধে বক্তৃতা/বিবৃতি শুরু করবে এবং মিডিয়া গ্রুপ ডঃ ইউনুসের পক্ষে ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করবে। সরকারের ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণার পূর্ব পর্যন্ত বেগম জিয়ার মুখ থেকে ডঃ ইউনুসের পক্ষে দেশবাসী কোন বিবৃতি দেখে নাই। কারণ তিনি খুশি মনে অপেক্ষা করছিলেন কথন সরকার ব্যবস্থা নেবে এবং এই ইস্যুতে ডঃ ইউনুস ও হিলারী ক্লিন্টনের বন্ধুত্বের সুযোগে আমেরিকাকে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে আমেরিকার সম্পূর্ণ সমর্থন বিএনপি-জামাত-হিযবুতের পক্ষে নেবে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও স্টক মার্কেট সংশ্লিষ্ট সরকারের ভেতরে এবং বাইরে লুক্কায়িত এই অপারেশন্স গ্রুপ শেযার বাজারকে টার্গেট করে এবং ৯৬ সালের তুলনায় শেয়ার বাজারকে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ করে তাদের মিডিয়া গ্রুপের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে আর এক সফলতা দেখায়। সকলেই জানে, শেয়ার বাজার থেকে সম্মিলিত ব্যাংক-ব্রোকারেজের বিনিয়োগকৃত হিউজ টাকা উত্তোলনের জন্যই বাজারে ধস নামে। ব্যক্তি সালমান এফ রহমান বা মোসাদ্দক আলী ফালু ‘র বিনিয়োগকৃত টাকা সম্মিলিত ব্যাংক-ব্রোকারেজের টাকার নিকট নস্যি মাত্র।সম্মিলিত ব্যাংক-ব্রোকারেজের মালিকগণ অধিকাংশই বিএনপি-জামাতপন্থী।আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার উদ্দেশ্য অপশক্তি দ্বারা শেযার বাজারকে টার্গেট করে নিজেদের প্রয়োজনে উঠানো এবং নামানোর জন্য পিছন থেকে ইন্ধন দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করানো হতে পারে।

পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থ ফেরত নেয়ার ঘোষণায় যে এই অপশক্তির কারসাজি আছে তা বিএনপি নেতা জনাব মির্জা ফকরুলের পদ্মা সেতু বিষয়ক সবর্শেষ বক্তব্য থেকে পরিষ্কার হয়েছে।মির্জা ফকরুল সাহেব মালয়েশিয়ান সরকারকে জড়িয়ে প্রস্তাবিত পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিনিয়োগকৃত অর্থের উৎস জানতে চেয়েছেন যে এই অর্থ এ দেশের শেয়ার বাজারের কি-না। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি চতুরতার সঙ্গে মালয়েশিয়ান বিনিয়োগকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চেয়েছেন যাতে মালয়েশিয়াও বিশ্ব ব্যাংকের ন্যায় বিতর্ক এড়ানোর জন্য পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে পিছু হটে যায়। অপশক্তি জানে,পদ্মা সেতু প্রকল্প সাকসেস হলে দক্ষিণবঙ্গের জনগণের নিকট আওয়ামী লীগের গ্রহলযোগ্যতা আকাশচুম্বি হবে ; যা কোন ভাবেই তারা মেনে নিতে পারে না। বড় বড় ঠিকাদারি প্রকল্পে দূর্নীতি এদেশে নতূন নয় এবং বিশ্ব ব্যাংক কোনদিনই ধোয়া তুলসি পাতা ছিল না। এটা দক্ষিণবঙ্গের জনগণ তথা সমগ্র দেশবাসীর সঙ্গে প্রতারণা। হায় রে জামাত-বিএনপি’র দেশপ্রেম!

সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য ধারাবাহিকভাবে কিছু ঘটনা ঘটানো হয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই চট্টগ্রামে ‘ছেলে ধরা’ আতংক দেখা দেয়। ‘ইভটিজিং’, অতি মাত্রায় বেড়ে যায়, কোহেকাপ শহর থেকে ভূয়া জ্বিনের বাদশাহর মোবাইল ফোন, ১ টাকার গোল্ডেন কয়েন নিয়ে জালিয়াতি ইত্যাদি অনেক অনাকাংক্ষিত ঘটনা সমাজে পরিলক্ষিত হয়। লিমনকে পঙ্গু করে মিডিয়া ফোকাস করানো, জনতার বুকের উপর পুলিশের বুটসহ পা,পুলিশ কতৃর্ক জনতার কাপড় খুলে নেয়া,পুলিশ কতৃর্ক কাদেরকে অমানবিক নির্যাতন, গূম করা এবং গূম আতংক সৃষ্টি ইত্যাদি সরকার তথা আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য অপারেশন্স গ্রুপ সংশ্লিষ্ঠ উপগ্রুপের কারসাজি হওয়া অসম্ভব নয়। এমন কৌশলে খূন করা হচ্ছে যেন খূনিরা ধরা না পড়ে। সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রূনি হত্যাকান্ড এমন সূক্ষভাবে হয়েছে যে খূনীদে ধরতে আইন-শৃংখলা বাহিনী হিমশিম খাচ্ছে এবং এখন পর্যন্ত হত্যাকান্ডের কোন কুল-কিনারা হয়নি। অপশক্তির মিডিয়া গ্রুপ আওয়ামী লীগকে জড়িয়ে এ বিষযে অপপ্রচার চালিয়ে যথেষ্ট সফলতা দেখিয়েছে এবং সরকারের ভাবমূর্তি পূনরূদ্ধ্বারে খূনীদের সনাক্তকরণ ও বিচার হওয়া জরূরী। এই হত্যাকান্ড সংশ্লিষ্ঠ বেডরুম বিষয়ক মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে কাউন্টার দিয়ে বেগম জিয়ার বক্তব্যের ক্ষেত্র তৈরীর জন্য অপারেশন্স গ্রুপ সংশ্লিষ্ঠ খূনিরা সৌদী কূটনীতিককে হত্যা করে দেখালো যে শুধু বেডরুম নয়,রাস্তাঘাটেও সরকার নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ।মহাসমাবেশ বেগম জিয়া সেরকম বক্তব্যই রেখেছেন। সেইসঙ্গে ৭২-৭৫-এর ন্যায় সৌদী সরকারকে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ক্ষ্যাপানো এবং সৈদি প্রবাসীদেরকে সৌদী নাগরিকদের টার্গেটে পরিনত করা।প্রবাসীদের নিকট আওয়ামী লীগ সম্পর্কে বিরূপ ধারণা সৃষ্টি করানো ও মধ্যপ্রাচ্যে কর্মসংস্থানকে ঝূঁকিতে ফেলানোর জন্যও এই হত্যাকান্ড ঘটানো হয়। সরকারের সঠিক সময়ে সঠিক তৎপরতার কারণে বিডিআর বিদ্রোহের পর নবগঠিত অপারেশন্স গ্রুপ এ পর্যন্ত মাত্র ৩ বার ব্যর্থ হয়েছে : মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশের নামে নাশকতা, সেনা অভ্যূথান এবং মহাসমাবেশের নামে ৫ দিন অবস্থান করে আরব বসন্ত ঘটানো।

মিডিয়া গ্রুপ:
প্লানিং গ্রুপের প্লান মোতাবেক সরকারকে বেকায়দায় ফেলা, ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা বা ব্যর্থ করা সংশ্লিষ্ঠ টার্গেটে অপারেশন্স গ্রুপের অপারেশন্স শেষ হওয়ার পরপরই মিডিয়া গ্রুপ বিষয়টির সঙ্গে আওয়ামী লীগকে জড়িয়ে অব্যহত অপপ্রচারণা শুরু করে।অপশক্তির উদ্দেশ্য হচ্ছে মিডিয়া গ্রুপ দ্বারা অপপ্রচার চালিয়ে অধিকাংশ জনগণকে বিভ্রান্ত করে আওয়ামী লীগ বিরোধি জনমত সৃষ্টির মাধ্যমে ভোটের রাজনীতিতে লাভবান হওয়া। অপশক্তিপন্থী বিভিন্ন খবরের কাগজ ( প্রিন্টিং ও অনলাইনে লেখা ও নেতিবাচক মন্তব্য),স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল ( রিপোর্টিং ও টকশো), গুজব (পরিকল্পিত) এবং ইন্টারনেটে ফেসবুক-টুইটার ইত্যাদি হচ্ছে মিডিয়া গ্রুপের অপপ্রচারের প্রধান হাতিয়ার।

মিডিয়া গ্রুপের অপপ্রচার এবং রাজনৈতিক গ্রুপের মিথ্যা বক্তৃতা/বিবৃতির কৌশল প্লানিং গ্রুপ থেকে পরিচালিত হয়। অর্থাৎ প্লানিং গ্রুপ নির্ধারণ করে কোন একটি বিষয়ে রাজনৈতিক গ্রুপ কতটুকু বক্তৃতা/বিবৃতি দেবে এবং মিডিয়া গ্রুপ কতটুকু অপপ্রচার চালাবে। উদাহরণ দেখিয়ে বিষয়টি পরিষ্কার করা যায়, মহাসমাবেশ স্থলে চিড়া,মুড়ি,গুড় সঙ্গে এনে ৫ দিন থেকে আরব বসন্ত ঘটানোর আহ্বান কোন নেতা-নেত্রীর বক্তৃতা/বিবৃতির মধ্যে নেই কিন্তু প্লানিং গ্রুপের পরিকল্পনা মোতাবেক মিডিয়া গ্রুপ দ্বারা ফেসবুক, টুইটার,খবরের কাগজের অনলাইন এডিশনে মন্তব্যের মাধ্যমে এই ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা হয়েছে। মহাসমাবেশের মাধ্যমে সরকার উৎখাতের পরিকল্পনা ব্যর্থ হলেও জনগণের জান-মালের অধিকতর নিরাপত্তার স্বার্থে আইন-শৃংখলা বাহিনী কর্তৃক কড়াকড়ি আরোপের বিষয়টিকে মিডিয়া গ্রুপ টার্গেট করে নেতীবাচক ব্যাখ্যা দিয়ে আওয়ামী লীগ বিরোধি অপপ্রচার চালিয়েছে। তদ্রুপ, “আওয়ামী লীগের ব্যর্থাতাই বিএনপি’র সফলতা”- এই অপপ্রচারটি অপশক্তিপন্থী কোন নেতা-নেত্রীর বক্তৃতা/বিবৃতিতে নেই কিন্তু তাদের মিডিয়া গ্রুপ অব্যহতভাবে অপপ্রচারটি চালিয়ে যাচ্ছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা থাকলেও আওয়ামী লীগ সরকার কিছু কিছু ক্ষেত্রে এমন সফলতা দেখিয়েছে যা আগামী অনেক বছর দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে কিন্তু ২০০১-০৬ টার্মে বিএনপি-জামাত সফলতার একটা দৃষ্টান্তও দেখাতে সক্ষম হয়নি।সমুদ্র বিজয়ে ঐতিহাসিক সফলতা নিয়েও তারা ঘৃণ্য রাজনীতির মাধ্যমে কার অবদান বেশী কার কম বিষয়ে জাতিকে বিভক্ত করার চেষ্টা করছে। সমুদ্র মামলায় পরাজয় হলেই তারা খুশি হয়ে কাছা মেরে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করতো।

অপকৌশলের বিপরীতে করণীয়:
আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অপশক্তি দ্বারা নেতীবাচক ঘটনা ঘটিয়ে তার সঙ্গে আওয়ামী লীগকে জড়িয়ে অপপ্রচারেও অগ্রগামী হওয়া তথা অপশক্তির মেরেও জেতা কেঁদেও জেতা মনোভাবের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। অপশক্তির নেতীবাচক তৎপরতার কারণে বিগত ৩ বছরে দেশের যে পরিমান ক্ষতি হয়েছে তা পূরণের চেষ্টাসহ ভবিষ্যতে এ ধরণের অপতৎপরতা রূখে দেয়ার জন্য মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তি ও প্রগতিশীলদের সঙ্গে নিয়ে সদা সতর্ক থাকতে হবে। অপতৎপরতা রূখে দেয়ার জন্য প্রয়োজনে তাদের ন্যায বিভিন্ন কাউন্টার গ্রুপ সৃষ্টি করতে হবে। অন্ততঃ প্লানিং গ্রুপ এবং মিডিয়া গ্রুপ গঠন অতি জরূরী। যদিও তাদের মিডিয়া গ্রুপের অপতৎপরতার বিপরীতে স্বতঃস্ফুর্তভাবে আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তির মিডিয়া গ্রুপ দিন দিন শক্তিশালী হচ্ছে। ফেসবুক-টুইটারে বঙ্গবন্ধুর সৈনিকের সংখ্যা প্রতিদিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্ত প্লানিং গ্রুপের অভাব বড়ই প্রকট। পরিকল্পনা এবং কৌশলের অভাবে প্রায়ই মন্ত্রী বা নেতা-নেত্রীদের বক্তব্যে সমন্বয়হীনতা দেখা যায়। অনেক সময় পাল্টা বক্তব্য কী হতে পারে ভেবে না দেখে অদূরদর্শী বক্তব্যের কারণে অর্জিত সাফল্য ম্লান হওয়ার উপক্রম হয়।বর্তমানে আওয়ামী লীগ থেকে ঢালাওভাবে সংবাদ মাধ্যম তথা মিডিয়াকে দোষ দেয়া হয়।যদিও অপশক্তিপন্থী মিডিয়ার একটা অংশ সবসময় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে লেগে আছে। কিন্তু মিডিয়ার প্রগতিশীল অংশ সবসময় আওয়ামী লীগের বন্ধু। একারণে ঢালাওভাবে মিডিয়াকে দোষারোপ না করে বক্তৃতা-বিবৃতিতে “মিডিয়ার একটা অংশ”- কথাটির মাধ্যমে ঐ অংশকে দোষারোপ করাই যুক্তিসঙ্গত। অপশক্তি তাদের ন্যায় ( ফেব্রুয়ারী,১৯৯৬ এবং জানুয়ারি,২০০৭-এ প্রস্তাবিত) বিতর্কিত নির্বাচন করানোর জন্য আওয়ামী লীগকে ফাঁদে ফেলতে পারে যেন আওয়ামী লীগও ভোটারবিহীন নির্বাচন করে। আগামীতে ঐ রকম পরিস্থিতি সৃস্টি হলে সেটাই হবে আওয়ামী লীগের জন্য কঠিন পরীক্ষা। ঐ পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য আওয়ামী লীগের মিডিয়া গ্রুপসহ সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে যাতে পরাজয়ের ভয়ে নির্বাচন বর্জন করে উল্টা আওয়ামী লীগের ঘাড়ে দোষ চাপাতে না পারে। অপশক্তির অপকৌশল স্বার্থকভাবে মোকাবেলা করতে পারলে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। অপশক্তি বিভিন্ন কৌশলে আওয়ামী লীগ পন্থীদের মনে ভয় ধরানোর চেষ্টা করছে ; যেমন আওয়ামী লীগের পায়ের তলায় মাটি নেই, বুঝতে পারছে যে আর ক্ষমতায় যেতে পারবে না ইত্যাদি অপপ্রচার। এটা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক মনোবল ভেঙে দেয়ার অপকৌশল ছাড়া আর কিছু নয়। বাস্তবে দু’টি রাজনৈতিক উপনির্বাচনে হবিগন্জ এবং ব্রাধ্মনবাড়িয়ায় ভোটের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বিএনপি-জামাত ২০০৮ -এ যে ভোট পেয়েছিল তাইই পেয়েছে। অর্থাৎ বিএনপি-জামাতের ভোট একটিও বাড়েনি, কারণ ২০০১-০৬ এ তাদের দুঃশাসন মানুষ ভুলেনি। হবিগন্জে প্রার্থী নির্বাচনে ভুলের কারণে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা রাগ করে ভোট দেয়নি এবং মহাজোটের শরীক জাতীয় পার্টিও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট পেয়েছে। কিন্তু ব্রাধ্মনবাড়িয়ায় আওয়ামী লীগের যোগ্য প্রার্থী পাশ করেছে। তবে আবারও একই কথা,রাজনৈতিক উপনির্বাচনে ২০০৮-এর তুলনায় বিএনপি-জামাতের ভোট একটিও বাড়েনি। তাহলে জামাত-বিএনপি’র এত লাফালাফি শুধু নিজেরা নিজেরাই। ২০০১-০৬ -এর দুঃশাসনের জন্য তাদের সঙ্গে সাধারণ জনগণ নেই। অতএব, আওয়ামী লীগের হতাশ হওয়ার কোন কারণ নেই। ২০০১-০৬-এর সঙ্গে ২০০৯-১৩-এর ভাল-মন্দ তুলনা করে যদি ভোট চাওযা হয় তবে অবশ্যই সাধারণ জনগণ আবারও আওয়ামী লীগের ডাকে সাড়া দেবে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা খুব সহজেই সাধারণ জনগণকে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হবে। এক্ষেত্রে বিএনপি-জামাতের ২০০১-০৬ টার্মে দেশের মঙ্গলের জন্য দু’একটা দৃষ্টান্তমূলক ভাল কাজ খুঁজে বের করার জন্য জনগণকে আহ্বান জানাতে হবে। নিশ্চয়ই তারা ব্যর্থ হবে। তখন বর্তমান সরকারের আমলে দেশের মঙ্গলের জন্য দৃষ্টান্তমূলক ভাল কাজগুলো জনগণকে অবহিত করতে হবে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা বা ব্যর্থতাও জনগণের নিকট স্বীকার করতে হবে। প্রথম সারির নেতা-নেত্রীদের দ্বারা না হলেও মধ্যম বা স্থানীয় নেতা- নেত্রীদের দ্বারা প্রতিবন্ধকতা বা ব্যর্থতার কারণ ( অপশক্তির গোপন বাধা বা অন্যান্য) জনগণের নিকট ব্যাখ্যা দিতে হবে।সফলতা বা ব্যর্থতা যাই হোক না কেন, যে কোন সমস্যা সমাধানের জন্য আওয়ামী লীগ আন্তরিকতা সহকারে ঝাপিয়ে পড়ে কিন্তু সমস্যা দেখলে বিএনপি-জামাত কানে তুলা দিয়ে না শুনার ভান করতো। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে সাধারণ জনগণ কিছু পায় কিন্তু বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় আসলে তাদের নেতা-কর্মীরাই শুধু পায়;সাধারণ জনগণ কিছুই নয়; যার প্রমাণ বিগত বিএনপি’র আমল এবং বতর্মান আওয়ামী লীগ আমল।

এ পযর্ন্ত অর্জিত সাফল্যকে ধরে রাখা বা আরও বৃদ্ধির চেষ্টা অব্যহত রাখতে হবে। কারণ অপশক্তি সাফল্যকে ব্যর্থ করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করবে। এরকম একটা নিউজ দৈনিক সংবাদ (২০-০৩-১২ ইং)-এ প্রকাশিত হয়েছে যে, কূচক্রীরা বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ বিষয়ক টেন্ডারে বাধা দিচ্ছে যেন সরকার সময়মত পাঠ্যবই বিতরণে ব্যর্থ হয়। শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারের সফলতা অতূলনীয় এবং অপশক্তির নিকট ঈর্ষণীয়। একারণে এটা মনে হয় অপশক্তির অপারেশন্স গ্রুপ দ্বারা পিছন থেকে ইন্ধন দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির মাধ্যমে সরকারকে সময়মত পাঠ্যবই বিতরণে ব্যর্থ করার অপচেষ্টা।

বিএনপি-জামাতের ধ্বংসাত্মক মন-মানসিকতা বিষয়ক আরও দু’টি উদাহরণ সাধারণ জনগণের নিকট উপস্থাপন করতে হবে। বিএনপি-জামাত পন্থীরা সবসময় স্বপ্ন দেখছে যে কখন জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করা হবে।অথচ আওয়ামী লীগ পন্থীরা ভুলেও কল্পনা করে না যে বেগম জিয়াকে হত্যা করতে হবে। রাজনীতির প্রতিযোগিতা রাজনীতির মাধ্যমে। না পেরে হত্যাকান্ডের মাধ্যমে প্রতিশোধ নেয়া কোন সুস্থ মানুষের চিন্তা-চেতনা হতে পারে না।

ফেসবুক, টুইটার এবং খবরের কাগজের অনলাইনে বিএনপি-জামাত পন্থীরা প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে যে, ২ বছর পর দেখবো, আসিতেছে শুভদিন.., শুধিতে হবে ঋণ, ২ বছর পর পালানোর রাস্তা পাবে না ইত্যাদি। অর্থাৎ বিএনপি-জামাত আবারও ক্ষমতায় আসলে আবারও ২০০১-০৬ এর ন্যায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করবে। আবারও আওয়ামী লীগ সমথর্ক এবং সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করবে। আবারও আওয়ামী লীগ সমথর্কদের ধরে ধরে হত্যা করবে।এবিষয়ে জনগণের নিকট প্রশ্ন রাখতে হবে; বিএনপি-জামাতের মনোবাসনা মোতাবেক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে সাধারণ জনগণ আবারও কি তাদের ভোট দেবে?

সৌদি কূটনীতিক হত্যাকান্ডের পর অপশক্তির পরবর্তী টার্গেট হতে পারে রাজনৈতিক নেতা-নেত্রী। উদ্দেশ্য হবে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে বেকাযদায় ফেলা। এক্ষেত্রে অপশক্তির পরবর্তী টার্গেট হতে পারে জনাব এইচ এম এরশাদ। জনাব এরশাদকে হত্যা করতে পারলে ( আল্লাহ যেন তাদের সে আশা পূরণ না করে) সহজেই আওয়ামী লীগের ঘাড়ে দোষ চাপানো যাবে। কারণ এরশাদ সাহেব বর্তমানে আওয়ামী লীগ এবং সরকারের বিরুদ্ধে অনেক বক্তৃতা-বিবৃতি দিচ্ছেন। এই হত্যাকান্ডের মাধ্যমে এরশাদের অনুপস্থিতিতে জাতীয় পার্টিকে চিরতরে ধ্বংস করে এবং আওয়ামী লীগের ঘাড়ে হত্যাকান্ডের দোষ চাপিয়ে জাতীয় পার্টির সকল ভোট অপশক্তির পক্ষে নিয়ে মহাজোটকে দূর্বল করা সহজ হবে। অতএব, আওয়ামী লীগ এবং মহাজোটের পক্ষ থেকে জনাব এরশাদকে সতর্ক করা জরুরী।

আওয়ামী লীগের সামনে দিনগুলোকে অপশক্তি আরও কঠিনতম করার চেষ্টা করবে। তবে, নেতা-কর্মী, মন্ত্রী-এমপি সকলে মিলে এবং সব ভেদাভেদ ভুলে সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সংগঠিতভাবে অগ্রসর হলে অপশক্তি কিছুই করতে পারবে না, ইনশাআল্লাহ। নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মন্ত্রী-এমপিদের দূরত্ব ঘোচানোর এখনই উপযুক্ত সময়। মন্ত্রী-এমপিদের ( কারও কারও স্ত্রী’র) নামে অনৈতিক লেন-দেন ও স্বজনপ্রীতির কথা বাতাসে ভাসে। এগুলো অপশক্তির মিডিয়া গ্রুপের অপপ্রচার হওয়া অসম্ভভ নয়। কিন্তু যাদের নামে বাতাস বয় তাদেরই উচিৎ বাতাস থেকে তথ্য সঙগ্রহ করে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করা। তা না হলে কানকথাই মানুষ বেশী বিশ্বাস করে। এ দিক দিয়ে, ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার জনাব সজীব ওয়াজেদ জয় সঠিক অবস্থানে আছেন। তিনি বলেছেন, তাঁর নাম ভাঙিয়ে কেউ কোন অনৈতিক কাজ করলে যেন পুলিশে খবর দেয়া হয়। বাবু সুরন্জিত সেনগুপ্তের এপিএসের গাড়ীতে ৭০ লাখ টাকার ঘটনাটি তাঁকে ফাঁসানোর জন্য পিছন থেকে অপশক্তির অপারেশন্স গ্রুপের খেলা হওয়া অসম্ভব নয়। অপারেশন্স গ্রুপ নিশ্চয়ই এই টাকার মুভমেন্ট অর্থাৎ কখন কোথায় যাবে তা অবগত ছিল এবং সেভাবেই মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়কে ফাঁসানোর জন্য ছক করা ছিল। গাড়ীর ড্রাইভার পুলিশের সাহায্য না নিয়ে বিজিবিদের নিকট যাওয়ার অর্থ দাড়ায় পুলিশ এপিএসকে রক্ষা করতে পারে কিন্তু বিজিবি নয়। একারণে অপারেশন্স গ্রুপের পরিকল্পনা অনুসারে বিজিবিদের সাহায্য নেয়া হতে পারে এবং ড্রাইভার অপারেশন্স গ্রুপের সদস্য হওয়া খুবই স্বাভাবিক। তাছাড়া বিএনপি নেতা জনাব এম কে আনোয়ার (সাবেক আমলা) এই ঘটনার আগের দিনই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরিবারে সম্পদের হিসাব চেয়েছেন। বেশ কয়েকদিন ধরে জনাব মির্জা ফকরুলসহ বিভিন্ন বিএনপি নেতা মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতাদের নামে এ ধরণের বক্তব্য রাখছেন। বিষয়টি এরকম হওয়া অস্বাভাবিক নয় যে এই ঘটনা দ্বারা অপারেশন্স গ্রুপের মাধ্যমে তাদের বক্তব্যের স্বপক্ষে ক্ষেত্র তৈরি করা হ’ল। জনাব এম কে আনোয়ার সাবেক আমলা এবং বিষয়টি রেল আমলাদের সংশ্লিষ্ঠ। তিনি প্লানিং গ্রুপের আমলা সদস্য এবং নিশ্চয়ই অবগত ছিলেন অপারেশন্স গ্রুপ সংশ্লিষ্ঠ আমলা উপগ্রুপ দ্বারা এই ঘটনা ঘটানো হবে। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে টিভি ক্যামেরা এসে হাজির হওয়ার অর্থ দাড়ায় মিডিয়া গ্রুপও অবগত এবং প্রস্তুত ছিল। বিষয়টিকে আওয়ামী লীগের জন্য একটা শিক্ষা হিসেব গ্রহণ করে সবাইকে এখনই সতর্ক হওয়া দরকার যেন সরকারের মধ্যে লুক্কায়িত অপশক্তির এজেন্টদের পাতা ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা দিয়ে কেউ এভাবে আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি এবং নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস না করে। সবশেষে বলা যায়, ১৯৭১-এ পরাজিত ৭৫-এর অপশক্তি সেই সাপকে ছোবল মারার পূর্বে তখন সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। সেই সাপকে বর্তমানে সনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে এবং আবারও ছোবল মারার জন্য গর্তের ভেতর শক্তি সন্চয় করছে। সাপকে বাড়তে দিতে নেই। দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে ঐ সাপকে গর্তের মধ্যেই ধ্বংস করতে হবে এবং এখনই উপযুক্ত সময়।