ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

আমাদের স্বাধীন দেশে আশা পূরণ হয়নি আজও। আমাদের এই ভূখণ্ডে দেড়শ বছরেরও আগে আধুনিক শিক্ষা প্রচলন হয় । এই সুদীর্ঘ সময়ে অসংখ্য রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, পণ্ডিত, বিজ্ঞানী, শিল্পী, লেখক সৃষ্টি হয়েছে প্রচালিত শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে।  কিন্তু দেশে অথবা দেশের মানুষের কোন উন্নতি হয়নি বরং দিনে দিনে আরো অবনতি ঘটেছে । পাকিস্তান সৃষ্টির পর একটার পর একটা সরকারের পরিবর্তন হয়েছে । সকলেই ভেবেছেন এবার নিশ্চয়ই দেশের উন্নতি হবে । কিন্তু তা আর হয়নি। অবশেষে দীর্ঘদিনের দীর্ষদিনের আন্দোলন সংগ্রামের চূড়ান্ত রূপ লাভ ঘটে ১৯৭১ সালে । এ দেশে দামাল তরুণ-যুবক সকলে এক মরণপণ সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। শ্রমিক, কৃষক, ক্ষেতমজুর, ছাত্র-সৈনিক, পুলিশ, বিডিআর, আনসারসহ দেশের আপামর জনতা লড়াই এবং অভূতপূর্ব আত্মত্যাগ, ৩০ লাখ শহীদের রক্ত ও ২ লক্ষ নারীর সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমারা ছিনিয়ে আনি আমাদের প্রিয় স্বাধীনতা। পাকিস্তানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তানি বাহিনী পরাজিত হয়। তারা আত্মসমর্পণ করে মুক্তিবাহিনীর কাছে। সমাজতান্ত্রিক বিশ্ব এবং বিশ্বের গনতান্ত্রিক প্রগতিশীল রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে আমরা জয়ী হই

স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্নছিলো মোট ভাত মোটা কাপর মাথা গোঁজার ঠাঁই, সুশিক্ষা রোগব্যাধিতে চিকিৎসা। এই দেশ এগিয়ে যাবে সমাজতন্ত্রের দিকে এটাই ছিল মুক্তযুদ্ধে লাখ লাখ মানুষের আত্মপ্রেরণা। আমাদের আশা ছিল আমরা গড়ে তুলবো শিল্প কারখানা, ও আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা এবং এই লক্ষে বাস্তবায়ন ঘটবে গণমুখী বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষানীতির এই ছিল আমাদের যুগ যুগের আশা। বাংলাদেশে একক স্বাধীন ও সাবভৌম রাষ্ট্র কিন্তু প্রকৃত অর্থে প্রজাতন্ত্রিক আজও হতে পারেনি স্বাধীনতার ৪৪ বছরেও। ১৯৭১ সালের রাশিয়ার সমাজতান্ত্রিক অধ্যায় যাকে অনেক সমাজতান্ত্রিক গনতন্ত্র বলে আখ্যায়িত করে থাকেন সেখানে সমাজতান্ত্রিক গনতন্ত্র বলতে শ্রমিকশ্রেনি সহ সমগ্র শ্রমজীবী মানুষের দ্বরা সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হয়েছে । সমাজতান্ত্রিক গনতন্ত্রের সাফল্যেয় জন্য যতগুলো উপাদান বা বৈশিষ্ট কোন রাষ্ট্রের সংবিধানে থাকা দরকার তার সবগুলোই বাংলাদের সংবিধিবদ্ধ আছে ।
আমাদের দেশ পরিচালনায় ৪টি মুলনীতির উল্লেখ রয়েছে গনতন্ত্র , সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ,আবার বাঙালি জাতির ঐক্য ও সংহতি হবে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি এটাও আমাদের সংবিধানে সংবিধিবদ্ধহয়েছে ।শোষনমুক্ত সমাজতন্ত্রিক অর্তনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার আমাদের সংবিধানে সুরক্ষিত আছে সুতরাং সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হল মেহনতী মানুষ কৃষক শ্রমিক এবং জনগনের অনগ্রসর অংশ সমূহকে সকল প্রকার শোষন থেকে মুক্তি দান করা । তা কি হচ্ছে বাংলাদেশে?  দেখা যাচ্ছে ক্ষমতাশীল মানুষ বা যে যখন ক্ষমতা পাই সে তখন ক্ষমতার অপব্যবহার করে । মেহনতি মানুষ কূষক শ্রমিক এবং জনগনের ওপর শোষন করে । মুনাফা লুটে ফুটে ধনী হচ্ছে । তারা আমাদের সকল লাভের টাকায় সুখের বিলাসের ভোগের ও আনন্দর অধিকারী হয়েছে । তাই আমার এবং দেশের সকল মানুষের একটি প্রশ্ন, এর সমাধান কোথায়?
প্রসেনজীৎ কুমার রায়