ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

 

“ও মা, আমার যে ভাই তারা সবাই, ও মা, তোমার রাখাল তোমার চাষি ॥
ও মা, তোর চরণেতে দিলেম এই মাথা পেতে–
দে গো তোর পায়ের ধূলা, সে যে আমার মাথার মানিক হবে।
ও মা, গরিবের ধন যা আছে তাই দিব চরণতলে,
মরি হায়, হায় রে–
আমি পরের ঘরে কিনব না আর, মা, তোর ভূষণ ব’লে গলার ফাঁসি ॥
আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।
চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস, আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি ॥“
[-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “আমার সোনর বাংলা” কবিতার শেষের ৬ চরণ বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গ্রহন করা প্রয়োজন। ১৯০৫ সালে যে চেতনা নিয়ে রবীন্দ্রনাথ এই কবিতাটি রচনা করেছিলেন তার সবটুকু ফুটে উঠেছে কবিতাটির শেষের ৬ চরণে। রবীন্দ্র কবিতা বা গানের একটি বৈশিষ্ট্য হলো কবি-হৃদয়ের আসল ভাব প্রকাশ ঘটে শেষের চরণগুলোতে। আমার সোনার বাংলা কবিতাটিতেও তার ব্যাত্যয় ঘটেনি। ১৯০৫ সালে যে চেতনায় পৃথিবীর সকল বাঙ্গালী গর্জে উঠেছিলেন তার প্রকাশ ঘটেছে কবিতাটির শেষের ৬ চরণে (২০ -২৫তম লাইনে)। দেশমাতৃকার প্রতি ভালবাসা ও দেশাত্বকবোধ জাগ্রত করার জন্য উক্ত ৬ চরণ বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গিত হিসেবে চয়ন করা প্রয়োজন।

খুবই বিপদজনক ও ভাবিয়ে তোলারমত বিষয় হলো দেশের প্রতি ভলবাসাহীন জনগনের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। জনগনের মধ্যে দেশপ্রেম দিন দিন কমে যাচ্ছে। ইতিহাসে এরকম ঘটনা বেশ অনেকবার আবৃত হয়েছে। রাজা দাহিরের সময় সাধারন জনগনের দেশপ্রেম না থাকার সুযোগে এদেশে প্রবেশ করেছিল মুহাম্মদ বিন কাসিম। সিরাজদৌলার আমলেও রাজপরিবারের মধ্যে ক্ষমতা নিয়ে হানা হানি দেখা গিয়েছেল। ফলে সাধারন জনগন রাজনীতি ও স্বার্বভৌমত্বর প্রতি বিমুখ হয়েছিল। দেশের সার্বভৌমত্ব বজায় রাখার জন্য যে পরিমান ভালবাসা প্রয়োজন তা তখন জনগনের মধ্যে ছিল না। বর্তমানে ঠিক এমনটাই ঘটতে চলেছে। আজ আমরা অসুস্থ দলাদলি করে দেশের প্রতি ভালবাসা প্রতিনিয়তই কমিয়ে ফেলছি। তাই এখন দরকার সম্প্রদায়মুক্ত হয়ে দেশমাতৃকার প্রতি ভালবাসা, দেশের প্রতিটি মানুষের প্রতি ভালবাসা। এই অসাম্প্রদায়িক চেতনায চেতান্বিত হয়ে কবি লিখেছেন “ও মা, আমার যে ভাই তারা সবাই, ও মা, তোমার রাখাল তোমার চাষি ”। কবি সবাইকে ভাই হিসেবে টেনে নিয়েছে-যা অসামপ্রদায়িক চেতনার সূচক। ১৯০৫ সালে এই কবিতাটির যখন প্রকাশ ঘটে তখন অসাম্প্রদায়িক-যোদ্ধা কবি নজরুলের বয়স তখন ৫ বছর। তিনি পরবর্তিতে একই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দরাজ গলায় গেয়ে উঠেছিলেন……….. “মোরা একই বৃন্তে দুটী কুসুম হিন্দু-মুসলমান, মুস্ লিম তার নয়ন-মণি, হিন্দু তাহার প্রাণ/এক সে আকাশ মায়ের কোলে/যেন রবি-শশী দোলে,এক রক্ত বুকের তলে, এক সে নাড়ীর টান/মোরা এক সে দেশের খাই গো হাওয়া, এক সে দেশের জল, এক সে মায়ের বক্ষে ফলে একই ফুল ও ফল/এক সে দেশের মাটীতে পাই / কেউ গোরে কেউ শ্মশানে ঠাঁই” … … জাত বা সম্প্রদায়ের ছুতো দিয়ে শোষকের হাতকে প্রতিনিয়ত শক্তিশালী করা হয়। শোষন মুক্ত করার জন্য লালন যেমন জাত প্রথার বিরুদ্ধে কাজ করেছেন তেমনি বর্তমানের সাইক সিরাজ চাষী জাতকে নিয়ে প্রায় দীর্ঘ তিন যুগ ধরে টেলিভিশন অনুষ্ঠান করছে। এসব অনুষ্ঠানের ফলে এখন মানুষ চাষা হিসেবে কৃষকদের গালি দেয় না, ভিন্ন সম্প্রদায় হিসেবে তাদেরকে চিন্হিত করে না। আর মতিয়া চৌধুরী কৃষক সম্প্রদায়কে বুকে নিয়ে বাংলাদেশকে করেছে খাদ্যে সয়ংসম্পুর্ণ। বাংলাদেশের সকলের ভেতর অসাম্প্রদায়িক চেতনা বোধ তথা ভাতৃত্ব চেতনা গড়ে তোলা প্রয়োজন। যে চেতনা ১৯০৫ সালে রবীন্দ্রনাথ বাঙ্গালীর হৃদয়ে তৈরীর তাগিত অনুভব করেন। এই চেতনার মৃত্যু নাই। অবিনশ্বর।

আমরা সকলেই একসময় মরে যাব। বাংলাদেশটাকে রেখে যাব আমাদের পরবর্তি প্রজন্মের হাতে। তাদের জন্য আমরা কী রেখে যাব? তাইতো স্বামী বিবেকানান্দ বলেছিলেন… আমরা তো মরেই যাব তাহলে মানুষের জন্য কিছু করে যাওয়া প্রয়োজন …। দেশের প্রতি আমাদের কতটুকু অানুগত্য? কী আমাদের কমিটমেন্ট? কী আমাদের সপথ? আজকে কেউ দেশের জন্য মাথা পেতে দিতে রাজি নই। নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য ব্যস্ত। দেশের জন্য কোন ধরনের স্বার্থ সেকরিফাইন করতে রাজি নই। রাজি নই দেশের জন্য একটু কিছু করতে। কিছু একটা করার জন্য সুদৃঢ় সংকল্পমূলক চেতনার প্রয়োজন হয। ১৯০৫ সালে সেই চেতনায় কবি লিখেছেন “ও মা, তোর চরণেতে দিলেম এই মাথা পেতে–/ দে গো তোর পায়ের ধূলা, সে যে আমার মাথার মানিক হবে।”.. .. এই চরণ বাঙ্গালীর হৃদয়ে দৃঢ় সংকল্প তৈরী হবার যথোপযুক্ত। একজন বাঙ্গালীর প্রতিদিন এই শপথ বাক্য পাঠ করা উচিৎ নয় কি? ১৯০৫ সালের এই চেতনায় চেতনায়িত হয়ে যুগে যুগে গর্জে উঠেছে রজনিকান্ত, দিজেন্দ্রলাল, ক্ষুদিরাম, সুভাস বোস, বাঘা জতিন, বেগম রোকেয়া, রাজা রামমোহন রায়, নজরুল, প্রীতিলতা, সূর্যসেন, ভূপেন, ভাষানী, সরোয়ার্দি, মুজিব, ফজলুল হক, সত্যজিত, ইলামিত্র, ওসমানি, জিয়া, সাইক সিরাজ, আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ প্রভৃতি জনের মত আরো অনেকে। এদেরেও আগে একই সপথ নিয়ে বাংলার মানুষের জন্য হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল, তিতুমীর, ফয়েজী, ঈশ্বর চন্দ্র, বঙ্কিম, দ্বীনবন্ধু মিত্র সহ অনেকে। এই চরণটা বুকে গেঁথে সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালী ৭১-এ গর্জে উঠেছিলেন(১১ হাজার রাজাকার বাদে)। ৩০ লক্ষ বীর বাঙ্গালী হাসিমুখে প্রান দিয়েছে। কোটি বাঙ্গালী নিরর্যাতন বরণ করে নিয়েছে। দু’লক্ষ মা-বোনের কান্না এই সপথে লুকিয়ে আছে। বীর বাঙ্গালীর উক্ত উৎসর্গের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি হাজার বছরের উপহার, সার্বভৌম একটি স্বাধীন দেশ। বাংলাদেশ। আমরা কি পারব বাংলাদেশের সেই সার্বভৌম্ত ধরে রাখতে? পৃথিবীর মধ্যে মাত্র একটি দেশ বাংলাদেশ যা বার বার স্বাধীনতার দোড় গোড়ায় পৌছেও স্বাধীন হতে পারে নাই। বার বার পিছিয়ে গিয়েছিল শুধু মাত্র দেশমাতৃকার প্রতি ভালবাসাময় চেতনার অভাবে।

ভালবাসার চেতনা বাঙ্গালী বুকে লালিত হয়ে আসছে হাজার বছর ধরে। ১৯০৫ সালে সেই ভালবাসার প্রকাশ ঘটে বাঙ্গালীর কণ্ঠে। সেই থেকে কন্ঠে কন্ঠে কন্ঠ মিলিয়ে বাঙ্গালী সপথ করে আসচ্ছে। দেশমাতৃকার জন্য বাঙ্গালী নিজের সকল ধন উতসর্গ করার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে। এমনকি বাঙ্গালী নিজের প্রিয় প্রাণ প্রাণ বিসর্জন দিতে দ্বীধাবোধ করেনি। সেই প্রস্তুতির সুর বেজেঁ উঠেছিল কবির কন্ঠে “ ও মা, গরিবের ধন যা আছে তাই দিব চরণতলে,” । দেশকে ভালবাসতে হলে বা দেশের জন্য কিছু সেকরিফাইস করতে হলে অনেক ধন দৌলত-এর প্রয়োজন হয় না। যার যা আছে তাই নিয়েই দেশকে ভালবাসা যায়। তাইতো ৭ই মার্চে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন “ তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে প্রস্তত থাকো…”। বাঙ্গালীর হাজার বছরের স্বপ্নকে রবীন্দ্রনাথ কবিতাতে নিয়ে এসেছিলেন ১৯০৫ সালে। সেই স্বপ্নের বিস্ফোরণ দেখতে পাওয়া যায় বাংলার মাটিতে ৬৬, ৬৯-এর গণআন্দোলনে। সবর্কালের মহা বিস্ফোরণ ঘটেছিল ৭০-এর র্নিবাচনে এবং ৭১ সালে ৭ই মার্চে শেখ মুজিব-এর গর্জনে। হাজার বছর ধরে বাঙ্গালী এই লাইনটা ভালবাসার সপথ হিসেবে লালন করে আসচ্ছে। কবি তা শব্দময় ছন্দময় করেছেন ১৯০৫ সালে । আজ যদি জনমত নিরবিশেষে সকলের ভেতর দেশের জন্য এই কমিটমেন্ট তৈরী হয় তাহলে সেকেন্ড হোমের নামে টাকা বিদেশে পাচার হতো না, দুর্নীতি কমে যেত।

দুর্নীতি, বৈদেশিক বানিজ্য শোষন ও নানামুখি শোষনের আগ্রাসনে জর্জরিত আজ প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশ। বর্তমানে বাঙ্গালীর মধ্যে অনেকেই কোন না কোন ভিন দেশের সর্মথক । তারা সংখ্যায় কম হলেও অনেক ক্ষমতাধর, শক্তিশালী। তারা তাদের সমর্থিত ভিন দেশের জন্য বাংলাদেশকে বিকিয়ে দিচ্ছে। কোন গ্রুপ হয়তো পাকিস্থানের দালাল আবার কোন গ্রুপ হয়তো ভারতরে দালাল। আবার একটা গ্রুপ এখনও বিট্রেনের দালাল। তাইতো ব্যারিষ্টারি পড়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্রিটেনকে দিয়ে দেয়। বাংলাদেশের বুকে ছুড়ি চালিয়ে যখন ভিনদেশকে ভালবাসা হয় তখন বাংলাদেশ কি পরাধীনতার মালায় বন্দি নয়? পরাধীনতার ফাঁসির কাষ্টে ঝুলন্ত সেই দেশের চিত্রটি কবি ফুটিয়ে তুলেছিলেন… “আমি পরের ঘরে কিনব না আর, মা, তোর ভূষণ ব’লে গলার ফাঁসি ॥” বিংশ শতাব্দির গোড়ায় বাংলাদেশ ছিল পরাধিনতার ফাঁসির ভূষনে। অনেকে বলতে পারেন, এখনতো স্বাধীন। কি দরকার এই লাইনটার? এই লাইটা দরকার এই কারনে যে, বাংলাদেশ ভুখন্ডগত স্বাধীন হলেও শোষনের হাত থেকে স্বাধীন নয়। কোন না কোন ভাবে বাংলাদেশ শোষিত হচ্ছে। বিশেষ করে বৈদেশিক বানিজ্য শোষন বাংলাদেশের অন্যতম পরাধীনতা। আমরা রপ্তানির চেয়ে আমদানী করছি বেশি। এই অবস্থায় কবির কন্ঠে কন্ঠ মিলিয়ে বাঙ্গালীর পণ করা প্রয়োজন- পরের ঘরের পন্য কিনব না আর …। সকল পণ্য নিজের ঘরেই তৈরী করা হবে এবং বাঁচানো হবে বৈদেশিক মুদ্রা। স্ব-দেশী আন্দোলন এখনও শেষ হয় নাই। প্রয়োজন আরো কঠোর ও বলিষ্ঠ স্ব-দেশী অন্দোলন। এই লাইনটা আমাদের স্ব-দেশী আন্দোলনের শক্তি দেবে। এজন্য বাংলাদেশের সকল নাগরিকের উক্ত লাইনটা প্রতিদিন স্মরণ করা প্রয়োজন। আমার সোনার বাংলা গানটির শেষের চরণগুলো বাংলাদেশকে ভালবাসার জন্য উজ্জিবিত করে।

আমার সোনার বংলা কবিতাটি ১৯০৫ সালের ৭ই আগস্ট প্রথম প্রকাশ ঘটে। ১৯৭১ সালে সংগ্রাম পরিষদের মাধ্যমে ৩রা মার্চে পল্টন ময়দানে ”আমার সোনার বাংলা” কবিতাটি জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে ঘোষনা করা হয়। ১৭ই এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে এই গানটা প্রথম বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গাওয়া হয়। ১৯৭২ সালে সদ্য গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার রাস্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে এই কবিতার প্রথম দশ চরণ নির্বাচন করেন। তখনকার প্রেক্ষাপটে দশ চরণ চয়ন করা যথার্থ হলেও এখনকার প্রেক্ষাপট ভিন্ন হয়েছে। এখন চয়ন করা প্রয়োজন শেষের ৬ চরণ। বর্তমান সংসদের কাছে অনুরোধ করা হলো বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “আমার সোনার বাংলা” কবিতার প্রথম ২ লাইন ও শেষের ৬ লাইন রাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গিত হিসেবে নির্বাচন করা হোক। এর জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান –এর ৪ (১) অনুচ্ছেদ সংশোধন করে ”প্রথম দশ চরণ” এর পরিবর্তে ”প্রথম ২ চরণ ও শেষের ৬ চরণ মোট ৮ চরণ” লিখা যেতে পারে নিম্নরুপঃ-

“আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।
চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস, আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি ॥
ও মা, আমার যে ভাই তারা সবাই, ও মা, তোমার রাখাল তোমার চাষি ॥
ও মা, তোর চরণেতে দিলেম এই মাথা পেতে–
দে গো তোর পায়ের ধূলা, সে যে আমার মাথার মানিক হবে।
ও মা, গরিবের ধন যা আছে তাই দিব চরণতলে,
মরি হায়, হায় রে–
আমি পরের ঘরে কিনব না আর, মা, তোর ভূষণ ব’লে গলার ফাঁসি ॥
আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।
[-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]

জাতীয় সঙ্গিত হিসেবে প্রস্তাবিত লাইনগুলোর তাৎপর্য্য সংক্ষিপ্তভাবে নিম্নে দেয়া হলোঃ-

লাইন তাৎপর্য্য
“আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।
চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস, আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি ॥ দেশাত্ববোধ

ও মা, আমার যে ভাই তারা সবাই, ও মা, তোমার রাখাল তোমার চাষি ॥ অসম্প্রদায়ীক চেতনাবোধ

ও মা, তোর চরণেতে দিলেম এই মাথা পেতে–
দে গো তোর পায়ের ধূলা, সে যে আমার মাথার মানিক হবে। দৃঢ় সংকল্প বোধ

ও মা, গরিবের ধন যা আছে তাই দিব চরণতলে,
মরি হায়, হায় রে– দেশের প্রতি আত্নউৎসর্গ বোধ

আমি পরের ঘরে কিনব না আর, মা, তোর ভূষণ ব’লে গলার ফাঁসি ॥
সংশপ্তক বোধ
উপরোক্ত দেশাত্বকবোধ, অসম্প্রদায়ীক চেতনা, দৃঢ় সংকল্প, দেশের জন্য আত্ব-উৎসর্গবোধ, সংশপ্তকবোধ একসাথে যে মূর্ছনার জন্য দেয় তা হলো দেশপ্রেম। বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের প্রাণে “আমার সোনার বাংলা” গানের শেষ ৬ চরণ গেথে নেয়া প্রয়োজন। তা না হলে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ইচ্ছে অপূর্নই রয়ে যাবে। বাংলাদেশের প্রত্যেক স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস, আদালত, মন্ত্রানালয়, কোর্ট-কাছারি, সচিবালয়, বৈদেশিক মিশন, দেশের বাহিরের বাংলাদেশের মিশনারী, এমবাসি, হাসপাতাল, এতিমখানা, জাতীয় সঙ্গীত দিয়ে কর্মদিবস শুরু করার নিয়ম চালু করা আবশ্যক হয়েছে। দেশ খুব সংকটে রয়েছে। দেশপ্রেম জাগ্রত না করলে পরবর্তি প্রজন্ম হাজার বছরের স্বাধীনতা ধরে রাখতে পারবে না।

-কাজী মাহমুদুর রহমান
২৭১ নদ্দাপাড়া, দক্ষিন খান। ঢাকা।
০১৯১৪০০৯৯৪৭
qazi.mahmudur@gmail.com

প্রিয় পাঠক/পাঠিকা বিষয়টি মূল্যায়নের জন্য পুরো কবিতাটি এখানে তুলে ধরা হলোঃ-

আমার সোনার বাংলা
-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।
চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস, আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি ॥
ও মা, ফাগুনে তোর আমের বনে ঘ্রাণে পাগল করে,
মরি হায়, হায় রে–
ও মা, অঘ্রানে তোর ভরা ক্ষেতে আমি কী দেখেছি মধুর হাসি ॥
কী শোভা, কী ছায়া গো, কী স্নেহ, কী মায়া গো–
কী আঁচল বিছায়েছ বটের মূলে, নদীর কূলে কূলে।
মা, তোর মুখের বাণী আমার কানে লাগে সুধার মতো,
মরি হায়, হায় রে–
মা, তোর বদনখানি মলিন হলে, ও মা, আমি নয়নজলে ভাসি ॥
তোমার এই খেলাঘরে শিশুকাল কাটিলে রে,
তোমারি ধুলামাটি অঙ্গে মাখি ধন্য জীবন মানি।
তুই দিন ফুরালে সন্ধ্যাকালে কী দীপ জ্বালিস ঘরে,
মরি হায়, হায় রে–
তখন খেলাধুলা সকল ফেলে, ও মা, তোমার কোলে ছুটে আসি ॥
ধেনু-চরা তোমার মাঠে, পারে যাবার খেয়াঘাটে,
সারা দিন পাখি-ডাকা ছায়ায়-ঢাকা তোমার পল্লীবাটে,
তোমার ধানে-ভরা আঙিনাতে জীবনের দিন কাটে,
মরি হায়, হায় রে–
ও মা, আমার যে ভাই তারা সবাই, ও মা, তোমার রাখাল তোমার চাষি ॥(২০)
ও মা, তোর চরণেতে দিলেম এই মাথা পেতে–
দে গো তোর পায়ের ধূলা, সে যে আমার মাথার মানিক হবে।
ও মা, গরিবের ধন যা আছে তাই দিব চরণতলে,
মরি হায়, হায় রে–
আমি পরের ঘরে কিনব না আর, মা, তোর ভূষণ ব’লে গলার ফাঁসি ॥ (২৫)
===========================================