ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

জন্মদিন পালন, ঈমানের পরিপন্থি। বিশ্বের সকল মানুষের জন্মদিন একই। কারণ আল্লাহ রব্বুল আলামিন সকলের আত্নাকে সৃষ্টি করেছেন এক সাথে, একই সময়ে। কবে করেছেন তা আমরা জানি না। একই সময়ে মানুষের সকল আত্নাকে সৃষ্টি করলেও পৃথিবীতে পাঠানো হয় বিভিন্ন সময়ে। আবার পৃথিবী থেকে বিভিন্ন সময়ে তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হয়। এই আসা যাওয়ার মধ্যেই ঈমানদার মুসল্লিরা আল্লাহপাকের নির্দেশিত পথ অনুসরণ করে ইহকাল ও পরকালের নেকি ও ছোয়াব কামাই করেন। বিভিন্ন মতবাদীরা মানুষের পৃথিবীতে আগমনের দিনকে জন্মদিন অনুষ্ঠান পালন করেন। মুসলমানদের মধেও অনেকে এইরুপ অনুষ্ঠান করেন। এতে, মুসলমানদের ঈমান হালকা হয়। কারণ, সকল মানুষের জন্মদিন এক। এটা আমাদের ঈমানের একটা অংশ। যদি ভিন্ন ভিন্ন আগমন দিবসকে জন্মদিন হিসেবে ধরা হয় তাহলে আমাদের পূর্বের বিষয়গুলোকে অস্বীকার করা হবে। পৃথিবীতে আগমনের দিনকে জন্মদিন হিসেবে পালন করলে পরকালের বিষয়টা মন থেকে চলে যায়। তখন আমরা ‍আরো ভুলে যাই একদিন আমাদের দেহ ছেড়ে চলে যেতে হবে ও শেষ বিচারের সম্মুখিন হতে হবে। এ-সবই ঈমান হালকা হওয়ার মত মানসিক অবস্থা যা ঘটলে নানা ধররেন মানসিক অশান্তি দেখা দেয়।

ঈমান হালকা হওয়ার আরেকটি বিষয় যা আমাদের মুসলিম সমাজের অনেকের মুখের প্রচলিত বাক্য, ”জন্ম হলে মৃত্যু হবে”। কথাটা কতটুকু সঙ্গত? আসলে কি কারো মৃত্যু হয়? ইসলাম সহ প্রায় সকল ধর্ম মতে কোন মানুষের মৃত্যু হয় না। মানুষ মাটির দেহ ছেড়ে চলে যায়। কোরানে বলা হয়েছে.. … আমি মৃত্তিকা হইতে তোমাদেরকে সৃষ্টি করিয়াছি, উহাতেই তোমাদেরকে ফিরাইয়া দিব এবং উহা হইতে পুনর্বার তোমাদেরকে বাহির করিব (২০.৫৫/সূরা তা-হা)। যদি তাই হয় তাহলে কোন মানুষের মৃত্যু হয় না, তেমনিভাবে জন্মও হয় না।

যেহেতু জন্ম ও মৃত্যু কাহারো হয় না সেহেতু আমারা আমাদের পরিচয পত্র বা সনদে “জন্ম তারিখ” লিখা সঠিক নয়। আমাদের লিখা উচিৎ ”আগমন তারিখ”। যেমন কারো মৃত্যুর শোক সংবাদ লিখতে গিয়ে আমরা লিখি এভাবে… তিনি দুনিয়া ছেড়ে চলে গিয়েছের দুই সন্তার ও বহু ভক্ত রেখে…. । মৃত্যু সংবাদের বেলাতে আমরা লিখছি বা বলছি ”তিনি দুনিয়া ছেড়ে চলে গিয়েছেন”। কিন্তু পৃথিবীতে আগমনের সময় বলছি জন্মদিন। উক্ত আগমনের দিনকে বলছি জন্মদিন, বিষটি কি ঠিক হলো?

শিশুর আগমন দিন উপলক্ষে বাবা-মা সহ আত্বীয় স্বজন আনন্দ করতেই পারে। সেই আনন্দ ঈমান বর্জিত হবে, তা কি যর্থাথ? ইসলাম কোন আনন্দকেই খাট করে দেখে না। ইসলাম খাট করে দেখে ঈমান বর্জিত যে কোন আনন্দ বা কাজ। এই প্রেক্ষিতে, সকল নথিপত্রে “জন্মদিন” শব্দের পরিবর্তে “আগমনদিন” লিখাটা যথার্থ (আমার ব্যক্তিগত মতে)। এই উপলক্ষে যে অনুষ্ঠান করা হয় তার নাম দেয়া যেতে পারে, আগমণ দিন অনুষ্ঠান বা প্রোগ্রাম ওব এরাইভাল ডে । হ্যাপি বার্থ ডে…. বাক্যের পরির্বতে বলতে পারি “হ্যাপি এরাইভাল ডে”। যাকে উৎসাহিত করা হবে বা উইস করা হবে তাকে সকলে মিলে বলতে পারি “হ্যাপি..এরাইভাল…ডে..টু..ইউ….. ।