ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

শেয়ার মার্কেটের মূল মন্ত্র হলো জনগণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে বৃহত্ শিল্পে বিনিয়োগ করা ও দেশের উন্নয়ন করা। যখন সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অন্যান্য উপায়ে প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করতে পারে না তখন শেয়ার মার্কেট থেকে অর্থ সংগ্রহ করে। অথবা ব্যাংকের চড়া সুদে অর্থ সংগ্রহ করতে পারে না তখন লাভ-লোকসান অংশিদারিত্বের মাধ্যমে শেয়ার মার্কেট থেকে অর্থ সংগ্রহ করে।

বাংলাদেশের শেয়ার মার্কেট তিনস্তর-বিশিষ্ট। অর্থাত্ তিন শ্রেণির মানসিকতা নিয়ে শেয়ার মার্কেটে মার্কেট করতে আসেন অলস অর্থশালীরা। তিনটি শ্রেণি হলো—

এক.

বৃহত্ শিল্পে বিনিয়োগ করার জন্য কিছু ক্ষুদ্র অলস অর্থশালী অর্থ বিনিয়োগ করেন। এঁরা বছর শেষে ৩০/৩৫ শতাংশ লাভের আশায় বিনিয়োগ করেন। এঁরা জানেন ঐ লভ্যাংশের একটি অংশ নগদ (ক্যাশ) পাবেন এবং বাকিটুকু হয়তো বোনাস শেয়ার বা রাইট শেয়ার হিসেবে অর্জন করবেন।

দুই.

কিছু ক্ষুদ্র অলস অর্থশালী আইপিও খুলে নতুন শেয়ার পাওয়ার আশায় লটারিতে অংশগ্রহণ করেন। যদি লাইগ্যা যায়! লটারি পেলেই তাঁরা কয়েকগুণ দামে তা বিক্রি করে দিয়ে লাভ করেন।

তিন.

লোভে পড়া ক্ষুদ্র অলস অর্থশালী যাঁরা আজ বিনিয়োগ করে কাল দ্বিগুণ অর্থ শেয়ার মার্কেট থেকে বের করবেন। শেষের দুই ধরনের বিনিয়োগ মূলত কোনো উন্নয়ন বা উত্পাদনশীল খাত নয়। এটা এক ধরনের জুয়া জাতীয় আয়। জুয়া জাতীয় আয় কখনো কোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হতে পারে না। এখানে সংঘবদ্ধ একটি দল বিভিন্ন অভিনব কৌশলে শেয়ারের দাম বাড়িয়ে জনসাধারণকে শেয়ার খেলাতে নামিয়েছে এবং একসময় তারা শেয়ার খেলাতে হেরে গিয়েছেন। এ ধরনের খেলা জমির দাম বৃদ্ধিতে ব্যবহার হয়। সিলেটসহ দেশের অনেক অঞ্চলে এক সময় প্রচলিত ছিল। হাটে-বাজারে ক্ষুদ্র জুয়া জাতীয় ধোঁকাবাজি সম্বন্ধে আমরা সবাই অবহিত। যারা সংঘবদ্ধ হয়ে জুয়া খেলাতে পথচারীকে নামায় এবং উপযুক্ত সময়ে পথচারীকে সর্বস্বান্ত করে চম্পট দেয়। এই একই ধরনের ঘটনার অবতারণা হলো। অতি মুনাফার আশায় ১৯৯৬ সালের মতো এবার জুয়া জাতীয় ধোঁকাবাজিতে পড়ে শেয়ার বিষয়ে শিক্ষিত-অশিক্ষিত বহু ব্যক্তি সর্বস্বান্ত হয়েছে। এই সুযোগে একটি শ্রেণি অর্থ নিজের ঘরে তুলতে পেরেছে। এদের দোষারোপ করা কঠিন। কারণ দেশের প্রচলিত আইনের মধ্যে থেকে তারা তাদের শেয়ার বিক্রির টাকা ঘরে তুলেছেন। যথেষ্ট পরিমাণ আইন না থাকাই এর একমাত্র কারণ। অনেকে না বুঝেই সরকারকে গাল-মন্দ করেন। যাঁরা সর্বস্বান্ত হয়েছেন তাঁরা অতিলোভে মার্কেটে এসেছিলেন। তাঁরাও আরেকজনের টাকা শেয়ার খেলার (জুয়ার খেলা) মাধ্যমে নিজের ঘরে তুলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—তাঁরা হেরে গেলেন জুয়ার প্যাঁচে পড়ে। গত দুই যুগ ধরে এ ধরনের ক্ষতিকর খেলা চলছে। এই ক্ষতি সুনামির আকার ধারণ করেছে ১৯৯৬ ও ২০১১ সালে। একটি স্বাধীন দেশে এ ধরনের খেলা চলতে পারে না।

স্বাধীনতা পেয়েছি মাত্র ৪০ বছর, যার অর্ধেক সময় পার হয়েছে সামরিক আইনের অধীনে। সামরিক আইনের অধীনে নিয়ম-নীতি বা আইন পাস হওয়ার সুযোগ কমে যায়। অর্থনৈতিক স্বাধীনতার জন্য প্রয়োজন নানা ধরনের সুষ্ঠু নিয়ম ও নীতি বা আইন। বিশেষ করে জুয়া জাতীয় প্রক্রিয়া বন্ধের জন্য আইনি পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।