ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

 

বিবাহ আইনের কোথাও ‘কাজী অফিস’ বলে কোন শব্দ নাই। আছে ‘নিকাহ ও তালাক নিবন্ধন অফিস’। বাংলাদেশে বিবাহ ও তালাকের ক্ষেত্রে যে সকল আইন প্রচলিত, সেগুলো হলোঃ

০১. মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রীকরণ) আইন, ১৯৭৪ (The Muslim Marriages and Divorces Act-1974)

০২. খ্রিস্টান বিবাহ আইন -১৮৭২ (The Christian Marriage Act-1872)

০৩. বিশেষ বিবাহ আইন-১৮৭২ (The Special Marriage Act-1872)

০৪. হিন্দু বিবাহ আইন -২০১২ (The Hindu Marriage Act, 2012)

মুসলিম আমলে বিবাহ ও তালাক হতো কোর্টে। কোর্টের বিচারপতি ছিলেন কাজী। চিফ জাস্টিসকে বলা হতো কাজী-উল-কুজাত। রাষ্ট্রের সম্পদের হিসাবও কাজীর কাছে থাকতো। তাই কাজীর আদালতে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন সম্পন্ন করা হতো।

ব্রিটিশ আমলে কাজীদের বাদ দিয়ে বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় অল্পবয়সী ইংরেজদের, যাদের দ্বারা মোটেও বিচার কাজ চালানো সম্ভব ছিল না। তাই তারা জুরি র্বোড তৈরী করে ও প্রাক্তন কাজীদের নিয়োগ দেয় জুরি বোর্ডে। বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন দয়িত্বটা কাজীদের কাছ থেকে সরিয়ে না ফেললেও অরিজিনাল কাজীরা বিবাহ নিবন্ধন করা থেকে সরে পরে।

মুসলিম ও ভারতীয় কর্মী উন্নয়নে বংশগত বিষয়টা গুরুত্ব দেয়া হতো। ফলে কামারের ছেলে কামার ও কুমারের ছেলে কুমার, কিংবা কাজীর ছেলে কাজী হবে এমনটাই ছিল কর্মপ্রথা। বিবাহ-তালাক নিবন্ধন অফিস হোক সার্বজনীন। যেন সকল ধর্মের মানুষ তাদের বিবাহ-তালাক নিবন্ধনের কাজটা সহজে সম্পন্ন করতে পারে বিবাহ- তালাক নিবন্ধন অফিসে।

কাজী মাহমুদুর রহমান
এলএলএম, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল উইনিভার্সিটি

২৭১ নদ্দাপাড়া, দক্ষিন খান ঢাকা