ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

দত্তক (Adoption) বিষয়টি প্রাচীন হলেও এ বিষয়ে বাংলাদেশে আইনি কোন আনুষ্ঠানিক বিধান নাই। নিঃসন্তান পিতা-মাতার যেমন সন্তান প্রয়োজন, তেমনি অনাথ ও পিতা-মাতাহীন শিশুরও বাবা-মা প্রয়োজন। প্রকৃতিগতভাবে এই বিষয় দুটো চিরকালই থাকবে। বিষয়টি খুব সহজ মনে হলেও যা অতিসহজ নয়। এখানে বেশ কয়েকটি সমস্যার কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। যেমনঃ-

– প্রথম দিকে দত্তক নেয়ার পর অধিকাংশ দত্তক গ্রহিতা পিতা-মাতা নানা ধরনের মানসিক সমস্যায় ভোগে। এই সকল মানসিক সমস্যা থেকে শিশুর উপর প্রচ্ছন্ন চাপ তৈরী হয়। দত্তক গ্রহিতা পিতা-মাতার মানসিক চাপ কমানোর উপায় কি?

-শিশুটি দত্তক গ্রহীতা পিতামাতার সম্পত্তির উত্তোরাধিকার হারাবে কিনা?

-দত্তক দত্তক খেলার মাধ্যমে শিশুর নানা প্রকার ক্ষতি হয়। এই ক্ষতি থেকে বাঁচানোর লক্ষে দত্তক আদান-প্রদানে কোর্টের পারমিশন প্রথা চালু আছে পৃথিবীর অধিকাংশ উন্নত দেশগুলোতে? বাংলাদেশেও কোর্ট পারমিশন চালু করা যেতে পারে।

-যে শিশুটিকে দত্তক নেয়া হচ্ছে তার কোন পছন্দ ও অপছন্দ আছে কিনা? শিশুর মনের বিরুদ্ধে চাপ প্রয়োগ করে দত্তক কোন ভাল ফল বয়ে আনে না।

-পরবর্তীতে শিশুটি নেগলেকটেড হচ্ছে কিনা তা জানার জন্য কোন প্রকার ব্যবস্থা আছে কিনা?

-দত্তকের মূল উদ্দেশ্য হলো শিশুর কল্যাণ, যা ভূলণ্ঠিত হচ্ছে কি না তা মনিটর করার ব্যবস্থা আছে কিনা?

যেহেতু দত্তক বিষয়টি চলমান একটা প্রক্রিয়া সে জন্য দেশে দত্তক বিষয়ে আইন থাকা প্রয়োজন। বর্তমান প্রথা অনুযায়ী ও ধর্মীয় অনুশাসনের মাধ্যমে দত্তক গ্রহণ করে অনেক পিতা-মাতা অসহায় সন্তানদের দায়িত্বভার গ্রহন করছে। সেই সকল পিতা-মাতাদের জানাই বিনীত সালাম। আরো সালাম জানাই ১৯৭২ সালের যুদ্ধ শিশুদের যারা বা যেসকল প্রতিষ্ঠান দত্তক গ্রহণ করেছিল। বিশেষ করে কানাডার সেই প্রতিষ্ঠানকে বিনম্র শ্রদ্ধা।

১৯৭১ সালে চার লক্ষেরও উপরে ধর্ষিত বাঙালি নারীর বড় একটা অংশকে নির্যাতনের পর মেরে ফেলা হয়। দুই লাখেরও উপরে ধর্ষিত নারী গর্ভধারণ করে। মায়েরা সমাজে মুখ দেখাতে না পেরে গোপনে গর্ভপাত ঘটান। যাদের পয়সা নেই তাদের সরকারীভাবে গর্ভপাত ঘটানো হয়। যারা গর্ভপাত ঘটাতে পারে নাই তারা সন্তান জন্ম দান ও কোন শিশুকেন্দ্রে সন্তানকে ফেলে চলে যায়।

যদিও অধিকাংশ মায়েরা ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন পতিতালয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়। ফেলে যাওয়া সন্তানদেরকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন সংস্থা ও নিঃসন্তান পিতামাতা দত্তক গ্রহণ করে। জানার কোন উপায় নেই সেই সকল জন্ম-জন্মান্তর নিঃগৃহীত শিশুরা (এখন ব্যক্তি) কেমন আছে। তারা কি জানে বাংলাদেশ জন্মের সাথে তাদের ত্যাগ কত বড়?

তারা হয়তো মাঝে মাঝে গভীর রাতে তাদের মায়ের কথা ভেবে চোখের কোনায় দু’ফোঁটা জল ফেলে। আহ! আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি। অনেকে এই বাংলাদেশে কতইনা ভোগের খেলায় মত্ত। তারা কি কখনও একটু ভেবেছে-  নিঃগৃহীত ঐসকল মায়েরা পতিতালয়ে কিভাবে ধুকে ধুকে মরছে? অথবা সেই সকল যুদ্ধ-শিশু নিজ সন্তানদেরকে বলতে পারছে না বাংলাদেশের জন্ম ইতিহাসে তাদের অবদান।

–  কাজী মাহমুদুর রহমান

এলএলএম-২২তম ব্যাচ/২ই/রোল নং-০২

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।