ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

ইসলামী ব্যাংক ৮০’র দশকে সুদমুক্ত ব্যাংক দাবি করে যে ব্যপক প্রচারণা চালায়, তাতে বাংলাদেশি মুসলমানদের মধ্যে বদ্ধমূল ধারণা জন্মে যে, সুদ হারাম। অথচ কোরআন শরীফের কোথাও ‘সুদ’ শব্দ নেই। সূরা বাকারার ২৭৫ আয়াতে ‘রিবা’ হারাম করা হয়েছে, সুদ নয়। যদিও সকল বাংলা অনুবাদে রিবাকে সুদ হিসেবে অনুবাদ করা হয়েছে।

যাইহোক, সকল সুদ রিবা নয়। সুদ হলো মূলধনের উপর মুনাফা। ইসলাম সকল মূলধনের অতিরিক্ত অর্থ বা মুনাফাকে হারাম করেনি।  সুদের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো ইন্টারেস্ট (Interest)। রিবার ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো ইউজারি (Usary) বা কষ্টদায়ক অতিরিক্ত অর্থ। সেই পরিপ্রেক্ষিতে এটাই প্রতিয়মান হয় যে, ইউজারি হলো কষ্টদায়ক সুদ। ইসলাম কখনও যে কোন ফর্মের কষ্ট বা প্রতারণা বরদাস্ত করে না। তাই কষ্টদায়ক বা প্রতারণাময় সুদই হারাম, যা কিনা ইসলামে রিবা বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

যে কোন ব্যবসাতে লাভ হবে। মূলধন ও শ্রমের মূল্যায়নে লাভ বা মুনাফা ন্যায্যতার সাথে বন্টন না করলেই তা রিবা হয়ে যায়। ইদানিং অনেক ব্যাংক ইন্টারেস্ট শব্দের মধ্যে হারামের গন্ধ পায়। তাই তারা ইন্টারেস্ট শব্দের পরিবর্তে বলে প্রফিট। কিন্ত তারা কি ইসলামের মূল ফিলসফি, কষ্টদায়ক সুদ বা রিবার প্রতি নজর দেন? তাদের মুনাফা কি পুরোপুরি কষ্টমুক্ত? অন্যায্যতা মুক্ত?

খুব কষ্ট লাগে যখন দেখি গিরিশ চন্দ্রের ফার্সি কোরআনের অনুবাদ এখনও মুসলমান স্কলাররা প্রাত্যহিক জীবনে ব্যবহার করে। যতটুকু জানা যায়, আরবী ভাষা খুবই রিচ ভাষা। এই ভাষার শব্দগুলোর অনুবাদকর্ম সচেতনভাবে ও যত্নের সাথে না করলে ধর্মের ব্যাখ্যা ভুল হতে পারে। এতে অনেকের ভেতর বিভ্রান্তি তৈরী হতে পারে।