ক্যাটেগরিঃ জনজীবন

কাল রাতে বাসায় ফিরছিলাম, রিকশাওয়ালাদের বোধ হয় আমার চেহারা পছন্দ হচ্ছিলো না, আকাশ পাতাল ভাড়া চাচ্ছিলো। শেষ মেশ হাঁটার পথ ধরলাম। বাসায় যেতে পথে একটা গার্মেন্টস এলাকা পরে, সেখানেই একটা ভীড় চোখে পড়ল। কাছে গিয়ে দেখলাম, একজন ৪০-৪৫ বছর বয়স্ক মহিলার মৃতদেহ রাস্তার পাশে রাখা, তার বুকের ওপর সেই মহিলাটির ৮-১০ বছরের সন্তান, নির্লিপ্ত ভাবে খোলা চোখে পড়ে আছে। এবারে চিনতে আর ভুল হল না, প্রায়ই দেখতাম এই মহিলাটি(মানসিক ভাবে অসুস্থ ছিল বোধ হয়) তার প্রতিবন্ধি ছেলেটিকে কোলে নিয়ে সারা এলাকা ভিক্ষে করে বেড়াতো। কখনও ভিক্ষে দেই নি, কারন সমাজকর্মী(!!!) দের ভিক্ষে দেয়া বারন। এতে নাকি ভিক্ষুককে পর নির্ভরশীল করে ফেলা হয়। কিছু উৎসাহী ছেলে গাড়ি আর রিকশা থামিয়ে এই লাশের সৎকারের জন্য টাকা সংগ্রহ করছিল। হায়…শিক্ষা, হায় আমার আদর্শ। রাষ্ট্রের দায়িত্ব অসহায়ের আশ্রয় দান। মানসিক ভারসাম্যহীন মাতা আর পুত্রের দায় ভার রাষ্ট্রের ওপর বর্তায়। মাতা, সমাজ আর রাষ্ট্রের দিকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে ঠিকই নিজেদের পেট চালিয়ে নিচ্ছিলেন, মৃত্যুর সময় সন্তানের কথা মনে এসেছিলো হয়তো তার, নিজের সৎকারের চেয়ে ঢের বেশী। রাষ্ট্র আমার মতন অকর্মা হাজারো ছাত্রের পিছনে কোটি কোটি টাকা খরচ করে প্রতি বছর। আর আমরা? কি করতে পারলাম রাষ্ট্রের জন্য? ইচ্ছে হচ্ছিলো আমার বুড়ো ছাগলের জলছাপ দেয়া সার্টিফিকেট খানা, বিক্রি করে দিয়ে সব টাকা ওই প্রতিবন্ধী ছেলেটার হাতে ধরিয়ে দেই। নে বাবা, তোর জন্য আমার ১৬ বছরের অর্জন বিক্রির টাকা দিতে আমার আপত্তি নেই। সেই সাহস অর্জনের শিক্ষা আমার নেই, আমাকে তো ক্ষমতাসীন দলের চাটুকারিতা করতে হবে, কিংবা বিশ্বজিতদের মারতে হবে, আমাকে কি এতো সহজে কাবু হলে চলবে নাকি? সাথে যা ছিল, নীরবে ছেলেটার হাতে ধরিয়ে দিয়ে কাপুরুষের মতন চলে আসলাম। ক্ষমা কর মা, তোমার জন্য এই সন্তানের এর চেয়ে বেশী করার সাহস, আর অধিকার নেই।