ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

গত কয়েক মাস আন্দোলন এর পর গতকাল দেশের অন্যতম একটি বিশ্ববিদ্যালয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এর উপাচার্য ডঃ শরীফ এনামুল কবির তার পদত্যাগ পত্র মাননীয় রাষ্ট্রপতির নিকট জমা দেন। ২০০৯ সালে এই শিক্ষক বর্তমান সরকার এর সরাসরি হস্তক্ষেপে কোন প্রকার নির্বাচন ছাড়াই উপাচার্য হন। গত তিন বছরে এই দলীয় উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যেমন সেশন জট মুক্ত থেকে শুরু করে নতুন অনেক বিভাগ চালু করেছেন ,তেমনি শিক্ষক নিয়োগ , গাছ কাটা , লেক ইজারা দেওয়া সহ অনেক দুর্নীতিতে সরাসরি যুক্ত ছিলেন।একটি বিশ্ববিদ্যালয় এর মুল চালিকা শক্তি এর শিক্ষক এবং তাদের ছাত্ররা।

একজন শিক্ষক যখন কোন রাজনৈতিক দলের হন আর তার শিক্ষক হবার যোগ্যতা যখন প্রশ্নবিদ্ধ থাকে তখন তার প্রভাব পড়ে ছাত্রদের উপর । গত তিন বছরে এমন এক ব্যক্তি উপাচার্য ছিলেন যিনি প্রায় ২০০ শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন এই রাজনৈতিক ব্যানারে । এই ২০০ জন শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়কে কোথায় নিবে তা আমরা অনুমান করতে পারি। আমি নিজে একজন এই বিশ্ববিদ্যালয় এর ছাত্র । গত কয়েক বছর থেকে ঘটে যাওয়া সকল প্রকার ঘটনা আমি দেখেছি। দুঃখের সাথে আমাকে এই কথা বলতে হচ্ছে যে আবারো এই বিশ্ববিদ্যালয় এর উপাচার্য হলেন আরেক জন সরকার দলীয় একজন শিক্ষক । তবে পার্থক্য এই যে তিনি অন্যএকটি বিশ্ববিদ্যালয় এর শিক্ষক । তার যোগ্যতা নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই । তাই বলে কি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এর কোন শিক্ষক এর উপাচার্য হবার যোগ্যতা নেই? একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এর উপাচার্য নির্বাচিত হন শিক্ষকদের ভোটে । সেখানে কোন প্রকার সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত ছাড়া সরাসরি সরকার দলীয় ব্যানারে একজন উপাচার্য নিয়োগ কতটা সমীচীন তা আমার বোধগম্য নয়। এই উপাচার্য যে আগের উপাচার্যের মত দুর্নীতি করবে না তার নিশ্চয়তা কে দিবে? আর কত এভাবে দলীয় উপাচার্য আর শিক্ষক নিয়োগ হবে? কখনও কি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে উপাচার্য নির্বাচন হবে ? না সরকারি হস্তক্ষেপে নিয়োগ হবে?