ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

* কাজে দেওয়ার সময় পাশের বাড়ির মোবাইল এ তোলা ছবি, হাজেরা @ জান্নাত।

* মেয়েকে পাওয়ার আশায় আদালত পাড়ায় ঘুরেন- ভিক্ষা করেনঃ হাযেরা @ জান্নাত এর মা আমিরুন নেছা।

* এক সাথে কাজে যাওয়া, সমবয়সী কথিত হারানোর পর উদ্ধার হওয়া, বর্তমানে স্বামীর সংসারী, গৃহিণী মাইনুর @ খুকু।

* দালাল রাহিমা বেগম।

* দালাল রাহিমার স্বামী-।

ভোলা সদর উপজেলার ছোট আলগী গ্রামের হত দরিদ্র, ভিক্ষুক আমিরুন নেসা অভাবের তাড়নায় অতিস্ত হয়ে প্লট নং এইচ ৫০৩, সিলকন ভিলা, ৮/১, সেগুন বাগিচা, ঢাকাতে ইঞ্জিনিয়ার রফিকুল ইসলাম এর বাসায় কাজে দেয় ১০ বছরের শিশু কন্যা হাজেরা @ জান্নাতকে। অনুসন্ধানে জানা যায়, পাশের বাড়ির মজাম্মেল হক মোল্লার স্ত্রী রাহিমা বেগম একই সাথে হাজেরা জান্নাতকে ও মাইনুর খুকুকে কাজে নিয়ে দেন ইঞ্জিনিয়ার রফিকুল ইসলাম এর বাসায়। কাজে দেয়ার পর বহুবার হাজেরা @ জান্নাত এর মা মেয়েকে দেখার জন্য রাহিমাকে চাপ বলেন, কিন্তু রাহিমা এ মাসে না আগামী মাসে-এ ঈদ এ না আগামী ঈদ এ বহু তাল বাহানা করে সময় ক্ষেপণ করে আসছিলেন। আনুমানিক ২ বছর পর হাজেরা @ জান্নাত এর মা রাহিমাকে এলাকার কিছু সংখ্যক লোক সহ তার মেয়েকে এনে দেয়ার জন্য চাপ দেন। তিনি কয়েক দিনের সময় চেয়ে নেন। কিন্তু ২/৩ দিন পরই তিনি হাজেরা @ জান্নাত এর মাকে জানান যে, তার মেয়ে নাকি বাসা থেকে হারিয়ে গেছে (?)। এবং তিনি ১৪.১১.২০০৭ ইং তারিখে প্রকাশিত এক টি নিখোঁজ সংবাদ সম্বলিত পেপার কাটিং দেন। এবং জানতে পারেন যে তার মেয়ে ও মাইনুর @ খুকু হারিয়ে গেছে। তাৎক্ষনিক তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। তিনি দারে দারে ঘুরেন ভোলার বিভিন্ন লোকজনের কাছে। ভিক্ষুক মহিলা বুঝতে পারেননি কার কাছে গেলে তার মেয়েকে উদ্ধার করতে পারবেন। কন আদালতে মামলা করলে বেরিয়ে আসবে তার ফুট ফুটে চাঁদের মতো মেয়ে হাজেরা @ জান্নাত। অন্নদিকে মাইনুর @ খুকুর মা বাবা কয়েকটি জিডি ও মামলা করেন ভোলা থানা ও রমনা থানায়। সর্বশেষ ভোলা চীফ জুডিশিয়াল মাজিঃ আদালত এ ১০.০৮.২০০৯ ইং তারিখের এম পি মামলা নং-৩৪১/৯ দায়ের করার পর টনক নড়ে ইঞ্জিনিয়ার রফিকুল ইসলাম ও ভোলাতে তার আশ্রয়দাতা নবিপুর ফাযলু ডাক্তার বাড়ির (প্রাক্তন জেলা নির্বাচন অফিসার, ভোলা) মোঃ হোসেন মিয়ার। ভোলা থানার পুলিশ ও রমনা থানার পুলিশ যৌথ ভাবে অভিযান চালিয়ে ০৫.০১.২০১০ইং তারিখে পলট নং- সি-৩, হাউজ নং-৬৯, রোড নং- ১৪ (পুরাতন), ৬ এ (নতুন), ধানমন্ডিস্থ তাবাসসুম এর বাসা থেকে (যিনি এখন এটিএন News এর এইচআর) উদ্ধার করে আদালতে হাজির করেন মাইনুর @ খুকুকে। আদালতে খুকু বলেন “একদিন আমি আর জান্নাত এক সাথে ঘুমিয়েছি, আমি ঘুম থেকে উঠে আর জান্নাতকে দেখতে পাইনি” অথচ, রফিকুল ইসলাম এর দেয়া পত্রিকার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল ২ জন মেয়ে ০৮.১১.২০০৭ ইং তারিখে এক সাথে পাশের দোকান থেকে সদাই আনতে গিয়ে আর ফিরে আসেন নি। তোলপাড় শুরু হয় এলাকায়। মাইনুর @ খুকু উদ্ধারের সংবাদ পেয়ে হাজেরা @ জান্নাত এর মা ও শুরু করেন তার মেয়ে উদ্ধারের প্রাপণ চেষ্টা। সাংবাদিকরা একাধিকবার রিপোর্ট করেন তার মেয়ে উদ্ধারের। দায়ের করা হয় মামলা। যথাযথ তদারকি ও আসামিদের টাকার দৌরাত্ম্যে মামলা টিকিয়ে রাখা যায়নি। আমিরুন নেসা এখনো দারে দারে পাগল হয়ে ঘুরছেন মেয়েকে উদ্ধার করতে। উদ্ধার হওয়া মাইনুর খুকু এখন বিবাহিত, স্বামীর সংসার করছেন, বাচ্চা কোলে নিয়ে হাসছেন আনন্দে। অথচ,হাজেরা @ জান্নাত এর নেই খোঁজ, দেশে আছেন না বিদেশে-জানেনা কেউ। দানশীল-হৃদয়বান লোকদের সহায়তা চায় হাজেরা @ জান্নাত এর মা, এলাকাবাসী- ভোলাবাসী।

রাবিয়া নাহার, পুরাতন হ্যালিপোর্ট রোড, ভোলা সদর, ভোলা। মোবাইল – ০১৭৪১-৭০১৬২৬