ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

নতুন নির্বাচন কমিশনের অধীনে প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হল কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়েই শেষ হয় ভোটগ্রহণ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার ঘটনার পাশপাশি বিরোধী প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেনির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু বিজয়ী হন। আমার এই লেখাটি জনগণের ভোটাধিকারের প্রতি সরকারের অশ্রদ্ধা নিয়ে

চৌয়ারা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা এবং নেউরা এম আই উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রকাশ্যে ব্যালট পেপারে সিল মারতে দেখা যায়। নৌকার ব্যাজ পরা পাঁচ থেকে সাতজন যুবককে প্রতিটি বুথে সিল মারতে দেখা গেছে। নেউরা কেন্দ্রে দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে গণসিল মারতে দেখা যায়। গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে দ্রুততার সাথে ব্যালট পেপার সরিয়ে নেওয়া হয়। এসময় অনেকগুলো ব্যালট পেপার পরে যায়। (সূত্র: প্রথম আলো।)

Modern-school-centre-(1)

কুমিল্লা সরকারি সিটি কলেজ কেন্দ্রের বাইরে বেলা সোয়া এগারোটার দিকে তিনটি ককটেল ছুড়ে ফেলা হয়। এর মধ্যে একটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। এসময় ১৫ থেকে ২০ জনকে কেন্দ্রে ঢুকে ব্যালট পেপারে নৌকা প্রতীকে সিল মারতে দেখা যায়

ভোটকেন্দ্রে ঢুকে সরকার দলীয় সমর্থকদের ব্যালট পেপারে সিল মারার ঘটনা এখন পানিভাতের মত মনে হয়। গত কিছু নির্বাচনে ইউপি চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে উপজেলা চেয়ারম্যান, সিটি কর্পোরেশন এমনকি সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনেও বিচ্ছিন্নভাবে এমন অনেক ঘটনার খবর পত্রিকায় আসে। এমনকি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নং ওয়ার্ডের ব্যালট বিজয়ী প্রার্থীর বাসায় পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া যায়

এই ঘটনাগুলো স্থানীয় দলীয় নেতাদের সিদ্ধান্তে ঘটে বলেই আমার মনে হয়। যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নজর দেওয়া জরুরী। কারণ এখনই সময় আওয়ামীলীগের প্রতি জনগণের আস্থার পরীক্ষা নেওয়া। আমারতো মনে হয় আওয়ামীলীগ অনেকটা নিশ্চিতভাবেই জনগণের প্রতি আস্থা রাখতে পারে (সাক্কুর বিজয়ই শেষ কথা নয়) গত দেড় বছড়ে বিশেষকরে দেশের অভ্যন্তরে জঙ্গি দমনে (চলমান) এখনও পর্যন্ত অর্জিত সাফল্যে সরকারের প্রতি আস্থা জনগণের মাঝে বেড়েছে। এছাড়া উন্নয়নের দ্বার হিসেবে জনগণ জননেত্রী শেখ হাসিনাকেই ভাবতে শুরু করেছে

ভোটকেন্দ্রে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় না থাকা জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগকে চরমভাবে বাধাগ্রস্থ করে। কোন কেন্দ্রে জাল ভোট বা কোন অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ শুনলে সাধারণ মানুষ ভয়ে ভোট দিতে যায় না। একটি কেন্দ্রের ঘটনা অন্য কেন্দ্রের ভোটারদের মনেও প্রভাব ফেলে। এতে সরকার বা আওয়ামীলীগের ভাবমূর্তি অনেকাংশেই ক্ষুন্ন হয়

সরকারকে বুঝতে হবে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ তাদের ভোটাধিকার নিয়ে অনেক বেশি সচেতন না হলেও বিষয়টিতে তাদের আবেগ কাজ করে। দেশের জনগণ ভোট দেওয়াকে উৎসবে পরিণত করতে ভালবাসে। তাদের এই আবেগ এবং উৎসবে বাধ সাধলে সরকারের জন্য বিপদের আশঙ্কাই বেশি থেকে যায়। জনগণ এই বাধ ভাংতে একবার বদ্ধ পরিকর হওয়া বোমার সাদৃশ। সুযোগ পেলে যেকোন নির্বাচনে এর বিস্ফোরণ তারা ঘটাতে পারে। আওয়ামীলীগের নীতি নির্ধারকগণ কর্তৃক বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনার দাবি রাখে

নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলুপ্ত হওয়ার পর জাতীয় নির্বাচন একটি অনুষ্ঠিত হলেও ২০১৯ সালের আগামী নির্বাচনও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। বরং সামনের নির্বাচন আরো অনেক বেশি গুরুত্ববহ। নির্দলীয় সরকার ছাড়াও যে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব সেটি প্রমাণের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে আগামী জাতীয় নির্বাচন। এই চ্যালেঞ্জটিকে সফলভাবে মোকাবেলা করতে হলে ভোটকেন্দ্রে ঢুকে ব্যালটে সিল মারার ঘটনায় এখনি হাত দিতে হবে। নইলে এই অবস্থা চলতে থাকলে জাতীয় নির্বাচনেও এদের আটকানো কঠিন হবে দলীয়ভাবে চাইলেও

অন্যদিকে নতুন নির্বাচন কমিশনের জন্যও ভোটকেন্দ্রে ঢুকে ব্যালটে সিল মারা প্রতিরোধ করা ছিল অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে উল্লিখিত ঘটনা ঘটার সময় পুলিশ পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল। এর আগের নির্বাচনগুলিতেও এমনটি ঘটেছিল। পুলিশের নীরব দাঁড়িয়ে থাকা অনেক কিছুরই ইঙ্গিত বহন করে। নির্বাচন কমিশন ব্যাপারে কঠোরতা আরোপ করবে বলে মনে করছি। রাষ্ট্রপতির কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আপনাদের এই পদের জন্য বাছাই করা হয়েছে। উদ্দেশ্য জনগণকে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়া। আপনাদের ঘিরে তৈরী হওয়া রাষ্ট্রপতি সর্বোপরি জনগণের আশাআকাঙ্ক্ষা মলিন হবেনা এমনটাই প্রত্যাশা