ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

 

গতকাল “তেল, গ্যাস, বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি”র একটি সংবাদ সম্মেলনে সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনার নব আবিস্কৃত তেল /গ্যাসের খনিগুলো বিদেশী কোম্পানীর হাতে না দিয়ে পেট্রোবাংলার তত্তাবধানে উত্তোলনের দাবী তোলা হয়েছে। এ দাবী সম্পূর্ন সময়োপযোগী বলে আমি মনে করি। তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলো দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস উৎপাদন ও এর ব্যবহার বাড়ানোর জন্য সরকারকে চাপ দিয়ে আসছিল। কারন তাদের উদ্দেশ্য হলো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব লাভ সমেত বিনিয়োগের টাকা তুলে নিয়ে সটকে পড়া। বিগত চারদলীয় জোট সরকার তাদের চাপের মুখে যানবাহনের জ্বালানী হিসেবে সিএনজির প্রচলনের জন্য নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহন করে। কিন্তু উত্তোলনকারী কোম্পানিগুলো এতেও সন্তুষ্ট না হয়ে সিলিন্ডারে ভরে গ্যাস বিক্রির অনুমতি প্রদানের জন্য সরকারের উপর চাপ অব্যাহত রাখে। এ লক্ষ্যে তারা বাসাবাড়িতে ব্যবহার্য গ্যাসের সরবরাহও কমিয়ে দেয় এবং গ্যাস ফুরিয়ে যাচ্ছে বলে প্রচারণা চালায় এবং নতুন কোন খনি খননে অনীহা প্রকাশ করে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম এক বছর এ ব্যাপারে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে, অত:পর তাদের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে। এই কোম্পানিগুলোর স্পর্ধা ইতোমধ্যে এত বেড়ে যায় যে এরা সরকারকে হুমকি দেয় যে পেট্রোবাংলাকে বরাদ্দকৃত নতুন একটি খনি তাদেরকে না দিলে তারা আর কোন নতুন খনিই খনন করবে না। এই রকম যে হতে পাড়ে তা আশংকা করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বিদেশী কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে দুটি খনি ক্রয় করে স্বদেশী উদ্যোগে খনিজসম্পদ উত্তোলনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। কিন্তু পরবর্তী সরকারগুলো সহজ পদ্ধতিতে লাভবান হওয়ার জন্য এক পয়সাও বিনিয়োগ না করে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে একের একের পর এক খনি বিদেশীদের হাতে তুলে দিতে থাকে এবং আজকের এই বিপর্যয়ের পথ তৈরি করেন। এখন সময় এসেছে দেশীয় অবকাঠামোকে শক্তিশালী করার। সরকারী বা দেশীয় বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বর্তমান অনুত্তোলিত ও ভবিষ্যত উত্তোলনযোগ্য খনিগুলো খনন ও উৎপাদনের ব্যাবস্থা করে সরকার নিজেকে স্বনির্ভর ও শক্তিশালী করতে পারে। একসময় বিশাল বিনিয়োগের কথা ভেবে সরকার এ সাহস করেনি। কিন্তু এখন সমন্বিত দেশীয় বিনিয়োগের মাধ্যমে এবং পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করে এরকম উদ্যোগ নেয়া খুবই সম্ভব। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী। পিতার অপূর্ণ স্বপ্ন পূরনে তিনি এগিয়ে আসবেন কি?