ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, স্বাস্থ্য

lactogen_3

আমরা এমন একটা সময়ে বাস করছি যেখানে চারপাশে কেবল স্ববিরোধিতা- পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র তথা পুরো বিশ্ব স্ববিরোধী কর্মকাণ্ডে পরিকীর্ণ। রাজনীতি, ধর্মনীতি, রাষ্ট্রনীতি, সমাজনীতি, ব্যক্তিসাতন্ত্র্য—সর্বত্রই ধোঁয়াশা, বিভ্রান্তিময় বহুনৈতিকতা। বিশ্বায়নের নির্মম চক্র বিশ্বমানবতার হস্তপদ, বক্ষপিঞ্জর, মস্তক গুড়িয়ে মাংসপিণ্ডে পরিণত করেছে। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে আজ সেসব মাংসপিণ্ড দেদার বিক্রি হচ্ছে।

বিশেষভাবে পূর্বাহ্নেই জানিয়ে দিচ্ছি—- লেখার শুরুটাও পাঠকের মাথায় ধোঁয়াশা সৃষ্টি করতে পারে এবং ক্রমান্বয়ে পুরো লেখাটাই স্ববিরোধী হয়ে যাবে কি না তারও নিশ্চয়তা এখনই দিতে পারছি না। কারণ বিভ্রান্তিময় সময়ে আমার চিন্তা-চেতনা কতটুকু সুস্থ—সে প্রশ্নের উত্তর আমারও জানা নেই।

কথা আর না বাড়িয়ে সরাসরি মূল বিষয়ে যাওয়া যাক—

গল্প-১

মায়ের পর্যাপ্ত বুকের দুধ না পাওয়ায় নবজাতক শিশুকে বিকল্প হিসেবে গরুর দুধে পরিমাণ মতো পানি মিশিয়ে খাওয়াতে হলো। শুনেছি, ছোটবেলায় আমাদের মায়েরাও গরুর দুধকেই শিশুর বিকল্প খাদ্য হিসেবেই খাওয়াতেন। হঠাৎ শিশুটির জ্বর হলো…সরকারি ডাক্তারের পরামর্শে প্রয়োজনীয় ওষুধ-পত্র খাওয়ানো হলো… জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল সিরাপ খাওয়ানোর পর থেকেই শিশুটির পাতলা পায়খানা শুরু হলো… একটু পরপর পায়খানা… উপায়ন্তর না দেখে পুনরায় সেই ডাক্তারের শরণাপন্ন হলে তিনি জানতে চাইলেন বাচ্চাকে কি খাওয়ান?

গরুর দুধ।

কি! বাচ্চাকে গরুর দুধ খাওয়াচ্ছেন? আপনারা কি বাচ্চার সত্যিকারের বাবা-মা? আপনারা বাচ্চাটাকে বিষ খাওয়াচ্ছেন। শিক্ষিত দম্পতি হয়েও কীভাবে আপনারা নিজের সন্তানকে এভাবে বিষ খাওয়ালেন…. ডাক্তারের মুখনিঃসৃত শব্দবাণে জর্জরিত পিতা নিজেকে স্বীয় কন্যার হন্তারক ভেবে দিশেহারা বোধ করতে লাগলেন।

জানেন না, ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শিশু কেবল মায়ের বুকের দুধই খাবে, অন্য কিছু নয়।

মায়ের বুকে পর্যাপ্ত দুধ বাচ্চা পায় না। তাই…

তা হলেও আপনি বাচ্চাকে গরুর দুধ খাওয়াতে পারবেন না… একান্তই যদি মায়ের বুকের দুধ না পায় তাহলে বিকল্প হিসেবে ‘ল্যাকটোজেন’ খাওয়াতে পারেন।

অগত্যা ‘ল্যাকটোজেন’ই বেছে নিতে হলো বাচ্চার খাবার হিসেবে—পরিবারের অনেক প্রয়োজন লাঘব করে সন্তানের সুস্থতার কাছে নতি স্বীকার করতে হলো পিতামাতাকে।

গল্প-২

গর্ভকালীন জটিলতার কারণে সময়ের আগেই একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে গর্ভধারিনীর ‘সিজার’ করে যমজ দুটি শিশুকন্যার প্রসব করানো হলো—অনেক টাকা খরচ করে। গর্ভধারিনীর প্রথম সন্তান প্রসব—প্রসূতির বুকে দুধ নেই। দুই বাচ্চা ক্ষুধায় কাঁদছে।

ডাক্তার পরামর্শ দিলেন পাতলা গরুর দুধে নরম কাপড় ভিজিয়ে একটু একটু করে বাচ্চার মুখে দিন। গল্প-১ এর ভুক্তভোগী দম্পতি সেখানে অবাক বিস্ময়ে উপস্থিত। জানতে চাইলেন—এই সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুকে গরুর দুধ খাওয়ানো যাবে?

কেন যাবে না? দুধটা একটু পাতলা করে নিলেই হলো। এবার ডাক্তারের পাল্টা প্রশ্ন ছোটবেলায় আপনার বাবা-মা কি আপনাকে গরুর দুধ খাওয়ান নাই?

দম্পতির মুখে উত্তর নেই! মাত্র এক বছর আগে একজন ডাক্তার গরুর দুধকে শিশুদের (০-৬ মাস) জন্য বিষ বলেছেন। গরুর দুধ খাওয়ানোর কারণে বাবা-মাকে শিশুর শত্রু বলে তিরস্কার করেছেন আর এক বছর পর অন্য একজন ডাক্তার সদ্যভূমিষ্ঠ শিশুকে গরুর দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন—কি বিস্ময়কর ঘটনা!

উচ্চমূল্য হওয়া সত্ত্বেও বাজারে ‘ল্যাকটোজেন’এর বিপুল চাহিদার কারণ এখন ওই দম্পতি জানেন।