ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

শাহবাগে অবস্থিত শিশুদের প্রাণের বিনোদন কেন্দ্র রাজধানীর একমাত্র সরকারি শিশু পার্কটির  বেহাল দশা অনেকদিন ধরেই। পার্কের পুরাতন রাইডগুলো মেরামত এবং নতুন রাইড স্থাপন সময়ের দাবি হলেও ঢাকায় শিশুদের বিনোদনের এই একমাত্র পার্কটি অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণভাবেই চলছে এখন। পার্কটি দেখভালের দায়িত্ব ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের। বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নেয়া হলেও এটির তেমন কোনো সংস্কার করা হয়নি।

কাগজে-কলমে এখানে রয়েছে ১২টি রাইড, যা আছে পার্কটির জন্মলগ্ন থেকেই। মাঝে বেসরকারিভাবে তিনটি রাইড বসানো হলেও সেগুলো বর্তমানে নেই। এছাড়া উড়ন্ত বিমানে নেই সিটবেল্ট, উড়ন্ত নভোযানের পাশের কাঁচ এবং সিটবেল্টও নেই। ফলে যে কোনো সময় ঘটতে পারে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা।

শহীদ জিয়া শিশু পার্ক

উড়ন্ত নভোযানের সামনে কাঁচ নেই।   এ বছরের ছবি।

শিশু পার্ক শাহবাগ ঢাকা

গত বছরও নভোযানের সামনের কাঁচটি ছিলো।

পার্কটিতে অবস্থিত সকল রাইডই মূলত ছয় থেকে দশ বা তার অধিক বয়সের শিশুদের কথা বিবেচনা করে প্রস্তুত করা হয়েছে। কিন্তু তিন থেকে ছয় বছরের অনেক শিশু প্রতিদিন এই পার্কে আসে, যাদের কথা বিবেচনা করে কয়েকটি রাইড নির্মাণ করলে পার্কটি আরও সুন্দর হতো।

ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উত্তর পাশে অবস্থিত এ পার্কটির সীমানায় আছে দুটি ঐতিহাসিক স্থান। একটি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের স্থান এবং অপরটি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থান।

সরকার থেকে পার্কটিকে বর্তমান অবস্থান থেকে কিছুটা সরিয়ে স্থান দুটি সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। এর মাঝে সরকার থেকে পার্কটির নাম পরিবর্তনের ঘোষণা এসেছে । বিভিন্ন পরিকল্পনাও হাতে দিয়েছে সরকার।  শিশু পার্ককে ‘স্বাধীনতা স্তম্ভ’ প্রকল্পের আওতায় রেখে ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ’ শীর্ষক তৃতীয় পর্যায়ের মহাপরিকল্পনা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে উপস্থাপন করা হলে তিনি তা অনুমোদনও করেন গত বছর ।

ঢাকার মতো একটি মেট্রোপলিটন শহরে একটি শিশু পার্ক অবশ্যই পর্যাপ্ত নয়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সরকার, মন্ত্রণালয় বা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ  দ্রুত উদ্যোগী হয়ে এর বাস্তবায়ন করবেন, এটাই আমাদের সবার প্রত্যাশা।